সেই পথশি’শুর চো’খের জ’খম নিয়ে যা জানা গেল

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 22, 2021 09:46:27 পূর্বাহ্ন
0
20
views

অনলাইন ডেস্ক: ‘আচ্ছা, যে লকডাউন দিয়েছে, সামনে ঈদ, মানুষে খাবে কী? মাননীয় মন্ত্রী যে একটা লকডাউন দিয়েছে সেটা ভুয়া, থ্যাংকইউ।’ সাংবাদিকের লাইভের মাঝে হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে এই কথাগুলো বলেছিল ১০-১১ বছর বয়সী এক শি’শু। যা গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। এক ভিডিওক্লিপেই দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছে সেই শি’শু।

কে এই শি’শু? আর কোথায় কবে ঘটল এই ঘটনা জানতে আগ্রহী নেটিজেনরা। সেই দুই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার আগেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে ওই শি’শুর আরও একটি ছবি। যেখানে দেখা গেছে, তার চোখে-মুখে মারের জ’খম, একটি চোখ ফোলা। ওই ছবিটি নিয়ে ফেসবুকে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, লকডাউন প্রসঙ্গে এমন বক্তব্য দিয়ে কোনো একটি পক্ষের রোষানলে পড়েছে শি’শুটি। তাই তাকে মা’রধর করা হয়েছে। এমন ছবি ও গুঞ্জনের বি’ষয়টি ফের ভাইরাল হয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

অনেকেই দুঃখপ্রকাশ করে শি’শুটির নি’র্যাতনকারীদের বিচার দাবি করেন। কেউ বা তার দায়িত্ব নিতে চান। এমন পরিস্থিতিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিকদের লাইভে এসে লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শি’শুর নাম,মো. মারুফ। সে একজন পথশি’শু। বাবা-মা সঙ্গে থাকে না সে। রাজধানীর কোটকাচারি, জগন্নাথ কলেজ, ভিক্টোরিয়া পার্ক,সদরঘাটসহ পুরানঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ানোই তার কাজ।

উল্লেখ্য, ক’রোনার উচ্চ সং’ক্র’মণ রোধে স’রকারের জারি করা চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে পুরান ঢাকার চিত্র তুলে ধরতে গত সোমবার লাইভে হাজির হন এক অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আ’দালত এলাকা থেকে ফেসবুকে লাইভ করেন পলা’শ মল্লিক নামের ওই সাংবাদিক। লাইভ চলাকালে পথশি’শু মারুফ ক্যামেরার সামনে এসে ঈদকে সমনে রেখে দেওয়া লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সেই ভিডিও ভাইরালের দুদিনের মধ্যেই ভাইরাল হয় মারুফের চোখ ফোলা ছবি। কে বা কাহারা তাকে মে’রেছে সেই প্রশ্ন খুঁজতে গেলে স্থানীয়দের অনেকের দাবি, মারুফের সঙ্গে তার এলাকার পথশি’শুদের মা’রামারিতেই এই জ’খমের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মা’রামারিতে জ’খমের পর রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি শি’শু মারুফের সঙ্গে আ’দালত এলাকায় একটি সেলফি তোলেন। সেই সেলফি থেকে শি’শুটির ছবিটি কে’টে নিয়ে পরে ‘মনগড়া’ অ’ভিযোগ তুলে ভাইরাল করা হয় ফেসবুকে।

এদিকে রুহুল আমিনের ফেসবুকে একটি পোস্টে মারুফের সঙ্গে তোলা সেই সেলফিটি দেখা গেছে। ছবির নিচে একজন কমেন্ট করে জানতে চান, ছেলেটিকে কোথায় পাওয়া গিয়েছে। তার চোখ এমন ফোলা রয়েছে কেন। জবাবে রুহুল আমিন লেখেন, ‘জজকোর্টের সামনে। চোখে কি হইছে জিজ্ঞেস করি নাই। ফুটপাতে থাকে, নে’শাও করে। হয়তো নিজেদের মধ্যে মা’রামারি করতে পারে।’ বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মারুফকে খুঁজে বের করেন। তাকে তার জ’খমের বি’ষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়।

মারুফ জানায়, লকডাউন নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়াতেই তাকে মা’রা হয়েছে। রাত ১০ টায় কোর্ট প্রাঙ্গনেই তাকে মা’রা হয়েছে। তবে কে বা কারা তা জানাতে পারেনি মারুফ। মারুফ জানায়, তার বাবা বিক্রমপুরে থাকেন। মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তিনি অন্যত্র সংসার করছেন। মারুফের বি’ষয়ে সদরঘাটের রিকশাচালক, দোকানদাররা জানিয়েছেন, শি’শুটি ছিন্নমূল। পার্ক, ফুটপাতে ঘুমায়। কেউ খাবার দিলে খায়, আবার অনেক সময় চেয়ে নিয়ে খায়। সে মা’দকাসক্ত। ডান্ডি নামক এক মা’দক সেবন করে সে।

অনেকের মতে, লকডাউন নয়, হয়তো ডান্ডি সেবনের কারণে পুলিশ তাকে শাসিয়েছে বা মে’রেছে। এমনটা এসব পথশি’শুদের সঙ্গে হয় প্রায়ই। নে’শা বা টাকা-পয়সা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যেও প্রায়ই মা’রামারি হয় মারুফের। এটা ওদের জন্য স্বাভাবিক। মারুফের বি’ষয়ে প্কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ওই শি’শু বা ভাইরাল কোনো ঘটনার বি’ষয়ে এখন পর্যন্ত জানি না।’ সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি ভাইরালের পর আমরা ওর খোঁজ নিয়েছি। কোনো পুলিশ ওর গায়ে হাত তোলেনি।’