শ’পিং ম’ল, দো’কানপাট খু’লছে শি’গগিরই

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 20, 2021 10:11:00 পূর্বাহ্ন
0
22
views

জাতীয়: চলমান ‘লকডাউনের’ মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। স’রকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য গতকাল সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিগগিরই শপিং মল ও দোকানপাট খোলার বি’ষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে স’রকার। এ ছাড়া সীমিত আকারে অর্থনৈতিক কার্যাবলি চালুর বি’ষয়ে একাধিক জ্যেষ্ঠ স’চিবও মত দিয়েছেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স’রকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, আসছে ঈদ উপলক্ষে দোকান মালিক এবং কর্মচারীসহ সামগ্রিক অর্থনীতির বি’ষয়টি মাথায় রেখে আগামী রবিবারের দিকে দোকানপাট খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে স্বা’স্থ্যবিধি যাতে ক’ঠোরভাবে মানা হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে। মন্ত্রিপরিষদস’চিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠক হয়। জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদস’চিব কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এলে জানতে পারবেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য স’চিব ড. আহম’দ কায়কাউস এবং অর্থ বিভাগের সিনিয়র স’চিব আবদুর রউফ তালুকদার মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে অর্থনীতির চাকা কিছুটা হলেও সচল করা দরকার বলে মত প্রকাশ করেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের স’চিব নজরুল ইসলাম পরিবহন শ্র’মিকদের বি’ষয়টাও মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করা দরকার বলে মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বেসা’মরিক বিমান ও পর্যটন ম’ন্ত্রণালয়ের স’চিব মোকাম্মেল হোসেন চীনের গুয়াংজু প্রদেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ চালুর প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাব সমর্থন করেন সিভিল এভিয়েশন প্রতিনিধি। গতকালের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসব তথ্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করে।

দোকানপাট খুললেই গণপরিবহনের প্রশ্ন আসে। এ বি’ষয়ে দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আপাতত এক সপ্তাহের লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আদেশ আকারে জারি হবে। এরপর এ সপ্তাহের শেষ দিকে অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের দিকে আবার একটি সম্পূরক আদেশ হতে পারে, যাতে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে এর আগেই স্বা’স্থ্য অধিদপ্তরকে দোকান-শপিং মল খুলতে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে বলা হয়েছে, যাতে কভিডের সময়ও স্বা’স্থ্যবিধি মেনে মানুষ শপিং মলে যেতে পারে।

বৈঠক সূত্র জানায়, চলমান লকডাউনে বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট ও পুলিশের সঙ্গে হওয়া স’মস্যা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। এ সময় গত রবিবার রাজধানীতে এক নারী চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশ ও ম্যা’জিস্ট্রেটের বিতণ্ডার বি’ষয়টিও আলোচনা হয়। এই পর্যায়ে মন্ত্রিপরিষদস’চিব আইজিপিকে এ বি’ষয়ে বৈঠকে কথা না বলে উনার সঙ্গে একান্তে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর বৈঠকে আর এ বি’ষয়ে কথা হয়নি। তবে সব স’রকারি কর্মচারী যেন নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখেন, সেই নির্দেশনা দেন মন্ত্রিপরিষদস’চিব।

বৈঠকে স্বা’স্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চলমান লকডাউনের সঙ্গে আরো অন্তত দুই সপ্তাহের লকডাউন চালুর বি’ষয়ে প্রস্তাব রাখা হয়। সেই সঙ্গে ইফতারের সময় বিভিন্ন দোকানে যেভাবে ভিড় হচ্ছে, তার মাধ্যমে কভিড ছড়ানোর আ’শঙ্কা প্রকাশ করেন আইইডিসিআরের একজন পরিচালক। তখন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য স’চিব প্রশ্ন তোলেন, এর কোনো সমীক্ষা আছে কি না। জবাবে আইইডিসিআর কর্মকর্তা জানান, এ বি’ষয়ে কোনো সমীক্ষা নেই, এটা তাঁদের আ’শঙ্কা।

বৈঠক সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানো যায়; কিন্তু পর্যায়ক্রমে লকডাউনের কড়াকড়ি কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। একই সুরে কথা বলেন অন্য দুই নেতাও। তবে বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, পাড়া-মহল্লায় প্রচুর মানুষের ভিড় হচ্ছে। এ বি’ষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রিপরিষদস’চিব বলেন, অনেক কারখানায় শ্র’মিকদের দূর থেকে আসতে হচ্ছে। এসব বি’ষয়ে কারখানাগুলো যেন আরো ভালো পদক্ষেপ নেয়।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ঈদের আগে লকডাউন শিথিলে স’রকারের ভাবনার কথা জানিয়েছেন গণমাধ্যমে। গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে স’রকার ঈদের আগে লকডাউন শিথিলের চিন্তা-ভাবনা করছে। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের জন্য লকডাউন শিথিল হতে পারে। মা’নসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন ও ধৈর্য ধরুন। ক’রোনাভা’ইরাস সং’ক্র’মণের ঊর্ধ্বগতি রোধে দ্বিতীয় ধাপের প্রথম চেষ্টায় ৫-১১ এপ্রিল কিছুটা কড়াকড়ির চেষ্টা করলেও কার্যত তাতে সফলতা আসেনি। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে ‘ক’ঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত এর মেয়াদ রয়েছে। অন্যদিকে গত রবিবার রাতে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৩১তম সভা থেকে ক’ঠোর লকডাউন আরো দুই সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনও গতকাল এ বি’ষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, একই শর্তে চলমান লকডাউনের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়ছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আগের শর্ত মেনে লকডাউন চা’লানো হবে।