রি’মান্ডে মু’খ খু’লতে শু’রু ক’রেছেন মা’মুনুল হ’ক

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 20, 2021 09:17:12 পূর্বাহ্ন
0
246
views

রাজনীতি: প্রথম বিয়ে ছাড়া দুই জান্নাতকেই কন্ট্রাকচ্যুয়াল (চুক্তিভিত্তিক) বিয়ে করেছিলেন হেফাজতের যুগ্ম মহাস’চিব মাওলানা মামুনুল হক। অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতেই দুই ডি’ভোর্সি নারীকে বিয়ে করেছিলেন বলে ত’দন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি করেছেন মামুনুল। বলেছেন, রয়েল রিসোর্ট কান্ড শুরুতেই স্বীকার করলে প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়ব বড় ধরনের কান্ড ঘটিয়ে ফেলতেন বলে তার ধারণা ছিল।

এ কারণে তৎক্ষণাৎ স্বীকার করেননি। গ্রে’প্তারের পর জি’জ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনই অন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যের সঙ্গে এসব কথা বলেছেন মামুনুল। তবে কথিত দুই বিয়ের সাক্ষীদের শিগগিরই জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবে পুলিশ। একই সঙ্গে রি’মান্ডে তাকে সহিং’সতায় উসকানি দেওয়ার অ’ভিযোগ সম্পর্কে জি’জ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি অন্যান্য বি’ষয়েও ব্যাপক জি’জ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) আ’দালতের নির্দেশে মামুনুল হককে সাত দিনের রি’মান্ডে নেয় পুলিশ। ডি’বি কার্যালয়ে তাঁকে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে পুলিশের তেজগাঁ বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, মামুনুলকে নিরাপত্তার স্বার্থেই কেবল গো’য়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে আমার অফিসাররা গিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করছেন। মঙ্গলবার (আজ) আমি নিজেই জি’জ্ঞাসাবাদে থাকব। তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত মামুনুল প্রথম বিয়ে ছাড়া বাকি দুই বিয়ের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এমনকি বিয়ের স্বাক্ষীদের নাম প্রকাশের ব্যাপারেও গড়িমসি করছেন। দ্বিতীয় জান্নাতের ভাই শাহজাহানের জি’ডি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

রি’মান্ডের প্রথম দিনে গো’য়েন্দাদের নানা তথ্য দিয়েছেন মামুনুল। তার ভাষ্য- যে দুটি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই দুই নারীর সঙ্গে অনেক দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছেন তিনি। তবে বিয়ে-সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র তার কাছে নেই। কাবিনও নেই। ওই দুই নারীর ডি’ভোর্স হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাদের দিকে এগিয়ে যান তিনি। একজনকে মোহাম্ম’দপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরিও দিয়েছেন। কাগজপত্র ও কাবিন না থাকা সত্ত্বেও বিয়ে কীভাবে বৈধ হলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে অসংলগ্ন কথা বলেছেন মামুনুল হক। এ দিকে গতকাল পর্যন্ত তার কোনো স্বজন, সহকর্মী বা অনুরাগী তার খোঁজও নেননি। ত’দন্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

মোহাম্ম’দপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গত রবিবার দুপুরে মামুনুল হককে গ্রে’প্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। মা’রধর, হু’মকি, ধর্মীয় কাজে ইচ্ছাকৃত গোলযোগ সৃষ্টি, চু’রির অ’ভিযোগে মোহাম্ম’দপুর থানায় গত বছর দা’য়ের করা মা’মলায় জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল তাকে সাত দিনের রি’মান্ডে নেয় পুলিশ। মোহাম্ম’দপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল হক গতকাল মামুনুল হককে আ’দালতে হাজির করে সাত দিনের রি’মান্ড আবেদন করেন। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) দেবদাস চন্দ্র অধিকারী রি’মান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

মা’মলার ত’দন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, জি’জ্ঞাসাবাদের শুরুতেই মামুনুল হকের কাছে তার কথিত বিয়ে এবং হজরত মুহাম্ম’দ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গ করার বি’ষয় জানতে চাওয়া হয়। বিয়ের ব্যাপারে তিনি নিজের মতো ব্যাখ্যা দেন। তবে এটা স্বীকার করেছেন, এসব বিয়ের কোনো আইনগত প্রমাণ তার কাছে নেই। অন্য প্রশ্নে চুপ থাকেন তিনি।

মামুনুলকে জি’জ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অপর একজন কর্মকর্তা জানান, তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, হেফাজতের অধিকাংশ কর্মসূচি ঘিরে কেন তা’ণ্ডব ও নৃ’শংস হা’মলার ঘটনা ঘটে। ইসলাম তো এসব সমর্থন করে না। সংগঠনটির নাম যখন হেফাজতে ইসলাম তখন কেন এর নেতাকর্মীরা এসব ব’র্বরতা এড়াতে আরো সতর্ক থাকেন না। এ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘আমি যেহেতু নেতা, এর দায় আমারও রয়েছে। আমাকে এর দায় নিতে হবে। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনও তো সং’ঘাতে জড়ায়।’ তবে অন্যান্য দলের খা’রাপ দৃষ্টান্ত হেফাজত কেন অনুকরণ করবে- এমন প্রশ্নে চুপ ছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে হেফাজতের কর্মসূচিতে জ্বা’লাও-পোড়াও, পবিত্র কোরআন শরিফে আ’গুন দেওয়া, বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এর উত্তরে স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি মামুনুল হক। সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে তিনি মা’নসিকভাবে ভে’ঙে পড়েছেন। ভেতরে-বাইরে তিনি দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী- এটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কথিত বিয়ের কাহিনি ফাঁ’স হওয়ার পর থেকে ঘরে-বাইরে চা’পে আছেন তিনি। হেফাজতের ভেতরেও একটি অংশ তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষু’ব্ধ। নারায়ণগঞ্জকাণ্ডের পর প্রথম স্ত্রীসহ নিজের পরিবারের সদস্যদের কারও কারও কাছে বিরাগভাজন হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে বাসায়ও যাননি তিনি।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, মোহাম্ম’দপুরের যে মা’মলায় মামুনুলকে রি’মান্ডে নেওয়া হয়েছে, সে-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ গতকাল জ’ব্দ করেছেন তারা। মূলত তাবলিগ জামাতকে কেন্দ্র করে জুবায়ের ও মোহাম্ম’দ সাদ কান্ধালভি গ্রুপের মধ্যে ওই মা’রামারি এবং সং’ঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। মামুনুল ছিলেন জুবায়েরপন্থী।

সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা আরো জানান, মামুনুলের কথিত ছোট স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি। তবে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন তিনি। তার প্রথম স্ত্রীর নাম আমেনা তৈয়বা। কথিত মেজ ও ছোট স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের কোনো কাবিন হয়নি বলে পুলিশকে জানান মামুনুল। কাবিন হলো বিয়ের আইনি দলিল। মু’সলিম পারিবারিক আইনে বিয়ের নিবন্ধন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে। নিবন্ধন ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রমাণ করা কঠিন। বিয়ের নিবন্ধন না থাকা শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ। এই অ’পরাধে দু’বছর বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা বা উভ’য় দ’ণ্ড হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, মামুনুল অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। হেফাজতের অর্থনৈতিক প্রবাহ কোথা থেকে আসত এই প্রশ্নটি তিনি কৌশলে এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে এটি হয়তো তিনি পারবেন না। মাত্র তো রি’মান্ড পেলাম। দেখা যাক। তবে দেশব্যাপী বে’পরোয়া এই তান্ডবের নেপথ্যে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের উসকানি ছিল, যার মধ্যে মামুনুল হক ছিলেন অন্যতম। যদিও এসব ঘটনায় একাধিক মা’মলা করা হলেও মা’মলায় হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের কারও নাম ছিল না।