কা’মড়ে ধ’রতেই লা’ঠি দি’য়ে বা’ঘকে পি’টিয়ে ছে’লেকে ছি’নিয়ে আ’নলেন বা’বা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 16, 2021 10:08:23 পূর্বাহ্ন
0
133
views

সারাদেশ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজে’লার গা’বুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রাম থেকে ১২ থেকে ১৩ জনের মৌয়ালের একটি দল নৌকায় করে গিয়েছিলেন সুন্দরবনের গ’হীনে মধু সংগ্রহ করতে। এসময় একটি বাঘ রবিউল শেখ নামের এক মৌয়ালকে আ’ক্রমণ করে। বাঘের আ’ক্রমণের শি’কার হয়েও প্রা’ণে বেঁচে ফিরেছেন ২৫ বছর বয়সী রবিউল।

বাঘের মুখ থেকে তাকে ছি’নিয়ে আনেন তার বাবা মো. হালিম শেখ (৫৫)। প্রা’ণে বেঁচে ফিরলেও গু’রুতর আ’হত হয়েছেন রবিউল। বাঘের কা’মড়ে ও থাবায় ক্ষ’তবিক্ষ’ত হয়েছে তাঁর কাঁধ ও হাত। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে এ ঘটনা ঘটে। আ’হত রবিউলকে সারা রাত নৌকা বেয়ে ও পরে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে করে বুধবার সকালে চিকিৎসকের কাছে আনা হয়।

রবিউল শেখ বলেন, ‘বাঘটা দেখলাম দৌঁড়ে আসছে আমার দিকে। বাঘ দেখে একটা গাছের আড়ালে গিয়েছি। ব’ন্দুকের গু’লির মতো একদিক থেকে এসে আমাকে ফে’লে দিয়ে মুখ দিয়ে কা’মড়ে ধরেছে। কামড়া ধরতেই আব্বা লা’ঠি দিয়ে পে’টাতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাঘ পা’লিয়ে যায়। বাঘ আমাকে সামনে থেকে আ’ক্রমণ করেছে।’

রবিউলের বাবা আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, বাঘ আমার ছেলে রবিউলের ঘাড়সহ মাথায় দাঁত বসিয়ে দিয়েছে। এছাড়া পিঠ ও হাতে নখের আঁচড় দিয়ে মা’রাত্বকভাবে ক্ষ’তের সৃষ্টি করেছে। সুন্দরবন এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসকরা বাঘে ধরা রো’গীর চিকিৎসা ভালো করেন। তাই বাড়িতে রেখেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাঘের আ’ক্রমণের শি’কার হয়ে ফেরার পর তাঁদের দেখতে যান সেখানকার মধু গবেষক সৈয়দ মোহাম্ম’দ মঈনুল আনোয়ার। খোঁজ নেন পুরো ঘটনার।

মঈনুল আনোয়ার বলেন, বাঘ ছেলেটার ঘাড়ে কা’মড়ে দেয়। বাবা হালিম শেখের হাতে লা’ঠি ও দা ছিল। যখন কামড় দিয়েছে, তখন হালিম শেখ বাঘকে আ’ঘাত করেছেন। তবু বাঘ ছাড়েনি। প্রথমে বাঘের পেছনের পায়ে, পরে সামনের পায়ে আ’ঘাত করেন হালিম শেখ। আ’ঘাতের একপর্যায়ে বাঘ সামনের পা দিয়ে থাবা দেয়। রবিউলের বাঁ হাতে লাগে। হাতটা চার ইঞ্চির মতো লম্বা হয়ে ক্ষ’তবিক্ষ’ত হয়ে গেছে। মধু গবেষক মঈনুল আনোয়ার বলেন, বাবা খুব সাহসী ছিলেন। ক্রমাগত আ’ঘাত করেন তিনি। একসময় বাঘ ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।

বাঘের আ’ক্রমণে আ’হত রবিউলকে কোলে করে নৌকা পর্যন্ত নিয়ে আসেন তাঁর বাবা। দলের বাকি সদস্যরা সারা রাত নৌকা চা’লিয়ে ও পরে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে করে তাঁকে নিয়ে আসেন সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী ছোট ভ্যাটখালী নামক এক জায়গায়, চিকিৎসক সোলায়মানের কাছে। তিনি মূলত বাঘ ও কুমিরের আ’ক্রমণে আ’হত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

পল্লী চিকিৎসক সোলায়মান ইসলাম বলেন, রবিউল ঘাড়, পিঠ, হাত ও মাথার ক্ষ’তস্থানে বিশেষ চিকিৎসা দিয়ে র’ক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এমএ হাসান বলেন, সুন্দরবনে বাঘের আত্রমণের দুটি পৃথক ঘটনায় দুইজন হ’তাহতের খবর লোকমুখে শুনেছি। তাদের ক্ষ’তিপূরণ দেওয়া হবে, যদি তারা পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে থাকেন।