আবারও আলোচনায় হুইপপুত্র শারুন

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 14, 2021 12:12:57 অপরাহ্ন
0
25
views

রাজনীতি: হুইপপুত্রের গো’পন ব্যবসার বলি হলেন তরুণ ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী আব্দুল মোর্শেদ চৌধুরী। ২৫ কোটি টাকা ঋ’ণের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেও নিষ্কৃতি মেলেনি এই ব্যাংক কর্মকর্তার। তাঁকে বেছে নিতে হয়েছে আত্মহননের পথ। এই ঘটনা নিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানকালে ঘটনার নেপথ্যে নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে সাপ। তরুণ ব্যাংকার আব্দুল মোর্শেদ চৌধুরীর মৃ’ত্যুর সঙ্গে জ’ড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছেন ওই ব্যাংকারের স্ত্রী শিক্ষিকা ইশরাত জাহান চৌধুরী ও মা নুর নাহার।

জানা যায়, জাতীয় সং’সদের আলোচিত হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর পুত্র নাজমুল হক চৌধুরী ওরফে শারুন চৌধুরী এর আগেও নানা কারণে বি’তর্কি’ত। অ’স্ত্র উঁচিয়ে ফেসবুকে মহড়ার ছবি প্রকাশ, কখনো গো’পন আস্তানায় আকণ্ঠ পান করে ডুবে থাকা কিংবা বাবার চেয়েও বয়স্ক মুক্তিযো’দ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘থা’প্পড় মে’রে দাঁত ফে’লে দেওয়া’র হু’মকি—এমন বিতর্কের কোনো শেষ নেই তাঁকে নিয়ে। এই শারুন চৌধুরী এবার নিজেকে জড়ালেন তরুণ ব্যাংকারের মৃ’ত্যু নিয়ে বিতর্কে।

সূত্র জানায়, নানা গো’পন ব্যবসায় জ’ড়িত শারুন চৌধুরীসহ তাঁর কয়েকজন বন্ধু। তাঁদের সেই ব্যবসায় ধার নিয়ে পুঁজি খাটিয়ে আসল ও সুদসহ বিপুল টাকা পরিশোধ করেও সরল বিশ্বাসের বলি হন ব্যাংকার আব্দুল মোর্শেদ চৌধুরী। সরল বিশ্বাসে জমা দেওয়া জামানতের চেক ফিরিয়ে নেননি তিনি। এতে ওই সব চেকের বিপরীতে বারবার লাভের টাকা দাবি করে চ’ক্রটি। অব্যাহত রাখে বাসায় হা’মলা, উপর্যুপরি মা’মলা, অ’পহরণসহ নানা হু’মকি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবেও চা’প দেওয়া হয়। নানামুখী চা’পে উদভ্রান্ত ওই ব্যাংকার বা’ধ্য হয়ে আত্মহ’’ত্যা করে মুক্তি খোঁজেন। অবিরত হু’মকিতে ভীতসন্ত্রস্ত এই তরুণের আত্মহ’’ত্যার নেপথ্যের সত্যতা খুঁজতে পুলিশের গো’য়েন্দা সংস্থাকে (ডি’বি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্ত্রী ইশরাতের অ’ভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেই এই আত্মহননের পূর্বাপর ঘটনায় নানা পর্যায়ে পাওয়া গেছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিটাগাং চেম্বারের বর্তমান ও সাবেক দুই পরিচালকসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম। ব্যবসায় পুঁজি লগ্নি এবং পরে মা’নসিক চা’পে আত্মহ’’ত্যার এই ঘটনার আগে মধ্যস্থতায় উদ্যোগী হন একজন সাবেক এমপিও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আত্মহ’’ত্যার পথ বেছে নিতে বা’ধ্য হন ওই ব্যাংকার, যা তাঁর সু’ইসাইড নোটে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে।

আত্মহ’’ত্যার ঘটনায় চারজনকে আ’সামি করে স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী বা’দী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মা’মলা করেন। মা’মলায় নি’র্যাতন-আত্মহ’’ত্যার প্ররোচনার অ’ভিযোগ উঠেছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী রাসেল, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক দুই পরিচালক জাবেদ ইকবাল, তাঁর ভাই পারভেজ ইকবাল ও নাইম উদ্দিন সাকিব নামে চারজনের বি’রুদ্ধে। অ’ভিযোগ দা’য়েরের পাঁচ দিন পার হলেও আ’সামিরা রয়ে গেছেন গ্রে’প্তারের বাইরে। পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুইয়া জানান, ঘটনায় জ’ড়িতদের গ্রে’প্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে আ’সামিদের বি’রুদ্ধে নিজের ও তাঁর স্বামী-স’ন্তানের পাসপোর্ট আ’টকে রাখার অ’ভিযোগ করেছেন ইশরাত জাহান। তাঁর অফিস ও বাড়িতে দফায় দফায় হা’মলা, মা’মলা ও অ’পহরণের হু’মকির অ’ভিযোগ এনেছেন অ’সহায় এই নারী।

ঘটনার পরম্পরা : ২০১৯ সালের ২৯ মে চিটাগাং চেম্বারের সাবেক দুই পরিচালক হুইপপুত্র শারুণ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে দুটি গাড়িতে করে ১০-১২ জন যুবক ব্যাংকার মোর্শেদের বাসায় আসেন। পারভেজ ইকবাল দলের অন্যদের নিয়ে লিফটে করে ও’পরে উঠে বাসার দরজা ধাক্কাতে থাকেন। এ সময় দরজা খুলতে না চাইলে লা’থি মা’রতে থাকেন তাঁরা। নিজের ও শি’শুকন্যার নিরাপত্তার জন্য দরজা খুলতে না চাইলেও দরজার অন্য প্রান্ত থেকে হু’মকি দিয়ে পারভেজ ইকবাল দরজা খুলতে চা’প দিতে থাকেন। উত্তেজিত পারভেজ ব্যাংকারের স্ত্রীর উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘আমরা আপনাকে আ’টকে রেখে ওকে (মোর্শেদ) আনব।’ এ সময় ভবনটির নিচে নাম্বার প্লেটবিহীন গাড়িতে হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু বসা ছিলেন বলেও জানান তিনি। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ব্যাংকার মোর্শেদ তাঁর স্ত্রী-স’ন্তানসহ পা’লিয়ে নিকটাত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। সহযোগিতা চান পুলিশের কাছে। থানায় জি’ডিও করেন, কিন্তু শেষরক্ষা পাননি মোর্শেদ। পরিবারটি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

ইশরাত বলেন, ‘২০১৮ সালের মে মাসে আমার স্বামীকে পাঁচলাইশের এমএম টাওয়ারে নিয়ে যায় সৈয়দ সাকিন সাঈম উদ্দীন। সেখানে অ’স্ত্রের মুখে জি’ম্মি করে শা’রীরিক নি’র্যাতন, আমাকে বেঁ’ধে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত দাবি করে জো’রপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়েছিল। আমার ও মেয়ের পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে বাসায় হা’মলার ব্যাপারে মা’মলা করা হয়। বাসায় আ’ক্রমণ, মেয়েকে অ’পহরণ, আমার স্বামীকে খু’ন করবে বলে অনেকবার প্রকাশ্যে হু’মকি দেওয়া হয়। আপস ও আলোচনার কথা বলে গত ২০১৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সাকিব অ’স্ত্রের মুখে ৮৪টি চেকে জো’রপূর্বক সই নিয়ে নেন। আমাদের ছয়টি অলিখিত ও স্বাক্ষরিত নন-জু’ডিশিয়াল স্ট্যাম্প রয়েছে তাদের কাছে।’

ইশরাত বলেন, ‘হু’মকিদাতাদের অর্থবিত্ত ও রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে আমরা চ’রম অ’সহায়। আমি নিজের ও মেয়ের জীবন, মান-ইজ্জত নিয়ে চ’রম শঙ্কিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘মিথ্যে পাওনার দাবিতে সাকিব আমার ও আমার স্বামীর বি’রুদ্ধে আটটি মা’মলা করেছিল। অ’ভিযোগ মি’থ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সব কটি মা’মলায় আমি খালাস পেয়েছি। আমার স্বামীর বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগও খালাসের প্রক্রিয়ায় ছিল।’

পুলিশ সব কিছুই জানত : ইশরাত জাহান চৌধুরী বলেন, সব কিছুই পুলিশ জানত। ডিসি অফিসে সমঝোতা বৈঠক ও চুক্তি হয়। বাচ্চুসহ উপস্থিত থেকেই চুক্তি হয়।

এ ব্যাপারে সিএমপির ডিসি বিজয় বসাক বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা মোর্শেদ ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের বাসায় হা’মলার ঘটনায় জি’ডি করার পরেই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার জন্য এসেছিলেন। বাসায় হা’মলার ঘটনাটির পরই বৈঠক হয়। উভ’য় পক্ষের হয়ে সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী নিকটাত্মীয় ব্যবসায়ী আজম খান, মোর্শেদ ও তাঁর বড় ভাই আশরাফ একাধিক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। পারভেজ ইকবালরা পাওনার জন্য মা’মলা করে মোর্শেদের ব্যাংকের চাকরিচ্যুতি এবং তাঁর স্ত্রীকে চাকরিতে যেতে বা’ধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘মা’মলা করলে চাকরির ক্ষেত্রে স’মস্যা হবে—এমনটি জানিয়ে মোর্শেদ সহযোগিতা চাইলে দুই পক্ষে সমঝোতার চেষ্টা করি। দুই পক্ষের সমঝোতার কাগজ অনুযায়ী দেনা পরিশোধ প্রক্রিয়া হচ্ছিল।’

যুবনেতার হু’মকি : এ ঘটনার প্রায় দুই বছর পরেও দফায় দফায় আসল ও সুদ পরিশোধের পরেও অতিরিক্ত টাকার জন্য যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল টেলিফোনে চা’প দিতে থাকেন বলে অ’ভিযোগ করেন ব্যাংকার মোর্শেদের স্ত্রী ইশরাত। পারভেজ ও জাবেদের হয়ে টেলিফোনে রাসেলের হু’মকির এক দিন পরই ব্যাংক কর্মকর্তা মোর্শেদ আত্মহ’’ত্যা করেন। তাই মা’মলায় রাসেলকে অ’ভিযুক্ত করা হয় বলে জানান ইশরাত। এসংক্রান্ত অডিও রেকর্ডে রাসেলকে বলতে শোনা যায়, ‘বিজয় (পুলিশের ডিসি বিজয় বসাক) পুলিশে চাকরি করে। আজ এখানে আছে তো কাল চলে যাবে। আমি কিন্তু চট্টগ্রামে থাকব। আমার সাথে এগুলো করলে বি’পদ হয়ে যাবে।’ টেলিফোনে হু’মকির প্রসঙ্গে যুবনেতা রাসেল জানান, তাঁর ছোটবেলার বন্ধু জাবেদ ইকবালের অনুরোধে দুই পক্ষের অঙ্গীকারনামা দেখে তিনি মধ্যস্থতা করতে রাজি হন।

ব্যবসা নিয়ে ধোঁয়াশা : মুঠোফোন আলাপচারিতায় প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই দেনা পরিশোধের ব্যাপারে বারবার আশ্বস্ত করতে গিয়ে মোর্শেদ এই যুবনেতাকে বলতে থাকেন এক কাস্টমারের কথা। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কে সেই কাস্টমার? এত কোটি টাকা বিনিয়োগ কোন ব্যবসায় করা হয়েছিল, তা কি জানতেন? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি যুবলীগ নেতা রাসেল।

কিভাবে যুক্ত হলেন হুইপপুত্র : কী ব্যবসা ছিল তাঁদের? এটি কি সুদের লগ্নির ব্যবসা? যদি তা হয়ে থাকে, তাহলে এখানে হুইপপুত্র কিংবা অন্যদের কার মূলধন বা লভ্যাংশ আসলে কত ছিল? প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এসব নিয়ে। হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী কিভাবে এই ব্যবসা বা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তা অনুসন্ধানকালে উঠে এসেছে নানা তথ্য। মোর্শেদের স্ত্রী ইশরাত বলেন, ‘শারুনের সঙ্গে সরাসরি আমার স্বামীর কোনো লেনদেন ছিল না। মোর্শেদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন না থাকলেও শারুন চৌধুরী, বাচ্চু ও রাসেল কেন এ রকম ট’র্চার করল, তার জবাব মিলছে না।’ ইশরাত বলেন, শারুন চৌধুরী কেন উপর্যুপরি সক্রিয় হলেন, এই নিয়ে জানতে মোর্শেদই একদিন প্রশ্ন করেছিলেন। সেই প্রশ্নে শারুণ তখন জবাব দিয়েছিলেন, ‘সরাসরি লেনদেন আমি করিনি। পারভেজের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছি।’

আরেক এমপির মধ্যস্থতা : ইশরাত বলেন, ‘দলবল নিয়ে বাসায় হা’মলার পরে আমরা নিকটাত্মীয় ব্যবসায়ী আজম খানের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। তিনি মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে সীতাকুণ্ডের এমপি দিদারুল আলমও ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন।’ এমপি দিদারুল আলম জানান, তাঁর কন্যার শ্বশুরবাড়িতেও একবার জাবেদ ইকবাল অনুরোধ করেন সমঝোতার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাবেদ ইকবালের ভাই পারভেজের অনাগ্রহে এমপি দিদারের সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায় বলে জানান মোর্শেদের স্ত্রী।

শারুন চৌধুরী এই প্রক্রিয়ায় কিভাবে যুক্ত হলেন জানতে চাইলে এসপি বিজয় বসাক জানান, জামানত বাবদ চেক গ্রহণের বিপরীতে ব্যবসায় পারভেজের মাধ্যমে শারুন বিনিয়োগ করেন এবং পারভেজকে তাঁর পাওনা টাকার জন্য চা’প দেন। যেহেতু মোর্শেদের কাছে সরাসরি পাওনাদার নয়, সেহেতু সমঝোতা বৈঠকে শারুনকে আসতে দেওয়া হয়নি বলে জানান ডিসি।

পারভেজের দাবি মেনে নেন মোর্শেদ : আজম খান বলেন, মৃ’ত্যুর আগে ৭ এপ্রিল এক দফায় দুই কোটি টাকা লেনদেনের কথা হয়েছিল। এই টাকা ব্যাংকে ট্রান্সফার দেওয়ার বি’ষয়টিও নিশ্চিত করেছিলেন মোর্শেদ, বলেন আজম খান। তিনি আরো বলেন, এর পর থেকে পারভেজ ও জাবেদদের ফোন করেও আর পাওয়া যায়নি।

আজম বলেন, ‘আমি মধ্যস্থতা করার পর থেকে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা সুদসহ পেমেন্ট হয়েছে। এরপর সাত কোটি টাকা দাবি করছিলেন পারভেজ। মোর্শেদ অ্যাগ্রিও করেছিল।’ এমপি দিদারুল আলম বলেন, ‘২০১৩-১৪ সাল থেকেই এই লেনদেন হয়ে আসছিল বলে জেনেছি।’

শারুন-বাচ্চুর সম্পৃক্ততা : ব্যাংকার মোরশেদ চৌধুরীর সঙ্গে এই বিনিয়োগ, বাসায় হা’মলা, টাকা উ’দ্ধার প্রক্রিয়ায় শারুনের সঙ্গে বাচ্চুর নাম উঠে এসেছে। একাধিক মুঠোফোন আলাপ ও পুলিশের ডিসির কক্ষে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে বাচ্চুর উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। শারুন ও বাচ্চু এক সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা স্বীকার করেন আজম খান।

কেন আ’সামি নন শারুন ও বাচ্চু? : তবে কেন এই মা’মলায় হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী কিংবা সাবেক ছাত্রনেতা আরশাদ বাচ্চুকে আ’সামি করা হলো না? এই প্রশ্নের জবাবে মোর্শেদের স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী জানান, শারুন চৌধুরী ও বাচ্চু ২০১৯ সালে বাসায় হা’মলার ঘটনায় উপস্থিত থাকলেও এদের সঙ্গে সরাসরি মোর্শেদের টাকার লেনদেনের কোনো প্রমাণ নেই। অডিও ভ’য়েস কিংবা অন্য কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে কি না, তা পরবর্তী সময়ে হয়তো পুলিশি ত’দন্তে বেরিয়ে আসতে পারে। ইশরাত বলেন, ‘আমি সাক্ষ্য-প্রমাণ হাতে নিয়েই কাউকে অ’ভিযুক্ত করতে চাই। তা ছাড়া বি’ষয়টি পুলিশ ত’দন্ত করে বের করে আনলেই যথার্থ হয়।’

সু’ইসাইড নোট : ইশরাত জাহান চৌধুরী অ’ভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী মোর্শেদ ব্যবসার জন্য বিভিন্ন দফায় ২৫ কোটি টাকা ধার নেন। বিপরীতে তাদের কাছে লাভসহ ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু তারা বেশি লভ্যাংশের দাবিতে স্বামীর ও’পর মা’নসিক চা’প, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চা’প প্রয়োগ করতে থাকে। অ’নৈতিক মা’নসিক চা’প সহ্য করতে না পেরে মোর্শেদ আত্মহ’’ত্যা করে। সু’ইসাইড নোটে সে সব ঘটনা বলে গেছে।’

সু’ইসাইড নোটে মোর্শেদ উল্লেখ করেন, ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অ’মানুষিক প্রেসার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখো। আল্লাহ হাফেজ।’

শারুনের বক্তব্য : ২০১৯ সালে মোর্শেদ চৌধুরীর বাসায় সদলবলে গিয়েছিলেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হুইপপুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুন বলেন, ‘আমি মোর্শেদ চৌধুরীর বাসায় যাইনি। যে গাড়িতে আমি ছিলাম বলে দাবি করা হচ্ছে সেই গাড়ি আমার নয়। যে ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে সেটি ২০২০ সালে ধারণ করা। আর ঘটনার সময় বলা হচ্ছে ২০১৯ সাল।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে মোর্শেদ চৌধুরীর একবার মাত্র ১০ মিনিটের জন্য দেখা হয়েছিল পাঁচলাইশ এলাকার আজম সাহেবের বাসায়। পারভেজ ইকবাল ও আমাদের বাসা হালিশহর এলাকায়। একই এলাকায় বাস করার সুবাদে আমার পূর্বপরিচয় আছে। সেই কারণেই আজম সাহেবের বাসায় গিয়েছিলাম। এর মধ্যে মোর্শেদ চৌধুরীর সঙ্গে আজম সাহেবের বাসায় দেখা হয়। সেখানে পারভেজের সঙ্গে ব্যাবসায়িক লেনদেন নিয়ে কথা হচ্ছিল। তা শুনে আমি আর বাচ্চু ভাই চলে এসেছি। এরপর আর কখনোই দেখা হয়নি। আমাদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করতেই এমন অ’ভিযোগ করা হচ্ছে।’