গৃহযু’দ্ধের পথে হাঁ’টছে মি’য়ানমার

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 13, 2021 08:55:57 পূর্বাহ্ন
0
23
views

আন্তর্জাতিক: মিয়ানমারে অ’স্ত্রের জো’রে ক্ষমতার মসনদে বসা সা’মরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার জনসমর্থন আদায় করতে পারেনি। গত আড়াই মাসে দেশটির সর্বস্তরের মানুষ উল্টো তাদের বি’রুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রাজপথে। আঞ্চলিক স’শস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সা’মরিক বাহিনীকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থনও আদায় করতে পারেনি জান্তা স’রকার। উল্টো একের পর এক নি’ষেধাজ্ঞা জুটেছে কপালে।

সব মিলিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চা’পের মধ্যে আছে জান্তা স’রকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে খুব বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা জান্তা স’রকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষ করে ‘একা একা’ অর্থনৈতিক ধস সামাল দেওয়া তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে গৃহযু’দ্ধের চক্করেও পড়ে যেতে পারে এশিয়ার এই দেশটি।

বিশ্বব্যাংক এরই মধ্যে জানিয়েছে যে চলতি অর্থবছরে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক প্রবৃ’দ্ধির হার ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ফিচ সলিউশনস’ বলছে, ১০ শতাংশ নয়, মিয়ানমারের প্রবৃ’দ্ধি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বিশ্বব্যাংকের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিত্য মাথু বলেন, ‘মিয়ানমারের মতো গরিব রাষ্ট্রের প্রবৃ’দ্ধি ১০ শতাংশ কমে যাওয়া অবশ্যই তাদের জন্য অশনিসংকেত।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সা’মরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রে’প্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রে’সিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সে’নাবা’হিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না।

জনবিচ্ছিন্ন জান্তা স’রকার

মিয়ানমারের মানুষ টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় সা’মরিক শাসনের জাঁতাকলে ছিল। ফলে তারা আর সা’মরিক শাসন চায় না। এ ছাড়া সেখানকার জনগণ গত পাঁচ বছরে গণতন্ত্রের ন্যূনতম স্বাদ হলেও পেয়েছে। ফলে গণতান্ত্রিক ও সা’মরিক স’রকারের পার্থক্য তাদের কাছে কিছুটা হলেও স্পষ্ট। এ অবস্থায় অভ্যুত্থানের পরেই নিজ নিজ জায়গা থেকে জান্তার বি’রুদ্ধে সরব হয় দেশটির সাধারণ মানুষ। জান্তাকে বেকায়দায় ফেলতে ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দেয় তারা। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে লাখ লাখ স’রকারি চাকরিজীবী কর্মবিরতি শুরু করেন। ফলে দেশটির সেবামূলক সব খাত বি’পর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই আন্দোলনে আছেন চিকিৎসক, ব্যাংককর্মী, প্রকৌশলী, শুল্ক কর্মকর্তা ও রেলের কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার কয়েক লাখ মানুষ। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁরা কাজে যোগ না দিলে জান্তা স’রকার একসময় কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে মিয়ানমারের অন্তত দুই ডজন আঞ্চলিক স’শস্ত্র সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চা’লিয়ে আসছে। এদের মধ্যে কয়েকটি সংগঠন গত ৩০ মার্চ জান্তা স’রকারের বি’রুদ্ধে ‘প্র’তিশোধ’ নেওয়ার হু’মকি দেয়। এরই মধ্যে এসব সংগঠনের হা’মলায় ১৪ পুলিশ ও ১২ সে’না সদস্য নি’হত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সংগঠন আন্দোলনে সম্পৃক্ত হলে মিয়ানমারে অবধারিতভাবে গৃহযু’দ্ধ বেধে যাবে।

মারমুখী জান্তা

রাজপথে আন্দোলন চললেও বি’ক্ষো’ভকারীদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখায়নি জান্তা স’রকার। বরং বি’ক্ষো’ভকারীদের ও’পর দ’মন-পীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স’-এর (এএপিপি) হিসাব অনুযায়ী, গত আড়াই মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গু’লিতে সাত শতাধিক বি’ক্ষো’ভকারী নি’হত হয়েছে। গ্রে’প্তার কিংবা গু’ম করা হয়েছে অন্তত তিন হাজার ব্যক্তিকে। বি’ক্ষো’ভ দমাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগও। অনেক জায়গায় জারি করা হয়েছে সা’মরিক আইন।

বাড়ছে আন্তর্জাতিক চা’প

বি’ক্ষো’ভকারীদের ও’পর দ’মন-পীড়ন বন্ধে এবং নির্বাচিত স’রকারের হাতে ক্ষমতা ছাড়তে জান্তা স’রকারের ও’পর আন্তর্জাতিক চা’প অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সা’মরিক সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। জান্তা স’রকারের নি’ন্দা জানিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট ‘জি-সেভেন’। দেশটির সা’মরিক বাহিনীর ও’পর নি’ষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও ক’ঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। জান্তা স’রকারের ও’পর নি’ষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডাও। জাতিসংঘ শুরু থেকেই জান্তার সমালোচনা করে আসছে। প্র’তিবাদে শামিল হয়েছে ফেসবুকও। তারা জান্তা স’রকারের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ঘরে-বাইরে একটা কোণঠাসা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন পার করছে জান্তা স’রকার।