দুই ঘা’ত’ক ভাইকে ঠাঁই নিতে দিল না কবরের পানি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 10, 2021 11:28:55 অপরাহ্ন
0
74
views

শেষ পর্যন্ত মা-বাবা-বোন আর নানির পাশে কবর হয়নি ঘা’তক দুই ভাইয়ের। প’রিকল্পনা অনুযায়ী পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার পর পঞ্চম ও ষষ্ঠটি খোঁড়ার সময় পানিতে ভরে যায় এ দুটি। শত চেষ্টা করেও পানি সরানো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় বেশ কিছু দূরে শুকনা কবরের জায়গা খুঁজে সেখানেই দা’ফন করা হয়েছে তানভির তৌহিদ (২১) এবং তার ছোট ভাই ফারহান তৌহিদকে (১৯)।

গত ৮ এপ্রিল বিকালে টেক্সাস স্টেটের ডালাস সিটি সংলগ্ন এলেন সিটির অদূরে ডেন্টন মু’সলিম গো’রস্তানে এই কবর দেওয়ার সময় দুই সহস্রাধিক শো’কার্ত মা’নুষ জড়ো হন। তাদের আ’হাজারিতে পুরো এলাকা থ’মকে যায়। শো’কে স্তব্ধ কমিউনিটির সঙ্গে জানাজা এবং দাফনের সময় শত শত আমেরিকানও আসেন। এলেন ইসলামিক সেন্টারে ৬ জনের জানাজা শেষে কফিনবাহী গাড়িকে স্কর্ট করে গো’রস্তান পর্যন্ত নিয়ে যায় এলেন সিটির পুলিশ। কফিনের মিছিল অনুসরণ করে দুই হাজার মা’নুষের হাজারখানেক গাড়ি।

দাফনের পর কবরে ফুলগাছ লাগানো হয়। অনেকে শেষ বিদা’য়ের সময় কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশি আমেরিকান এই পরিবারের ৬ সদস্যের গু’লিবি’দ্ধ লা’শের হদিস মে’লে গত সোমবার ভোররাতে। এলেন সিটির ১৫১৭ পাইন ব্লাফ ড্রাইভের বাসায় তৌহিদুল ইসলাম (৫৪), তার স্ত্রী আইরিন ইসলাম (৫৬), কন্যা পারভিন তৌহিদ (১৯) শাশুড়ি আলফাতুন্নেসা, দুই পুত্র তানভির এবং ফারহানকে নিয়ে বাস করতেন।

এদেরই লা’শ উ’দ্ধারের পর ফারহানের ইন্সট্রগ্রামে পোস্টিংয়ে ত’দন্ত কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, মা’নসিক বি’ষণœতায় আ’ক্রান্ত ফারহানের পরামর্শে বড়ভাই তানভির সম্মত হন পরিবারের সবাইকে হ’’ত্যার পর নিজেরাও আত্মহ’’ত্যা করবেন। এ ব্যাপারে ফারহান তার দীর্ঘ পোস্টিংয়ে উল্লেখ করেন, ‘আমি যদি আত্মহ’’ত্যা করি তাহলে পরিবারের সবাই সারাটি জীবন ক’ষ্ট পাবেন। তাই সবাই যদি একসঙ্গে ম’রে যেতে পারি তাহলে দুঃখ পাবার কেউই থাকবে না।’

ম’য়নাত’দন্তের পর চিকিৎসক এবং পুলিশ জানান, দুই ভাই মা-বাবা-বোন-নানিকে দুই রাউন্ড করে গু’লি চা’লিয়ে হ’’ত্যা করেন। আর আত্মহ’’ত্যায় ব্যবহার করা হয় দুজনের জন্য দুই রাউন্ড বু’লেট। মোট ১০টি বু’লেটে ৬টি তাজা প্রা’ণ ঝরে গেছে।

পুরান ঢাকার স’ন্তান তৌহিদ ডিভি লটারিতে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে এসে কয়েক বছর নিউইয়র্কে কাটিয়ে ৮ বছর আগে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এলেন সিটিতে। সর্বশেষ পেশায় ছিলেন সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে। দুই পুত্র পড়ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে।

একমাত্র কন্যাটি পড়ছিলেন ফুল স্কলারশিপে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে ধীর পায়ে এগুচ্ছিলেন তৌহিদ। কিন্তু মাঝপথে থামিয়ে দিল মা’নসিক বিকারগ্রস্ত দুই পুত্র।