পরকিয়া প্রেকিমের স্ত্রীর হাতে প্রহার, ধা’মাচা’পা দিতে স্বজনদের বি’রুদ্ধে মা’মলা!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 10, 2021 06:38:36 অপরাহ্ন
0
16
views

প’রকীয়ার ঘটনায় বারবার ফেঁসে যাচ্ছিলেন কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজারপাড়া এলাকার যুবতী তসলিমা (২৮)। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে নিজ শ্বশুর বাড়িতে থাকা অবস্থায় প’রকীয়া প্রেমিকের স্ত্রীর হাতে বেদড়ক পি’টুনির শি’কার হন ওই যুবতী। কিন্তু আ’ক্রান্ত হওয়ার পর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লু’টতে চেষ্টা করছে তসলিমা। এমনকি নিজের প’রকীয়ার বি’ষয়টি ঢাকতে ঘটনায় জ’ড়িতদের আড়াল করে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের পাঁচ নিরীহ সদস্যকে মি’থ্যা মা’মলায় ফাঁ’সিয়ে দিয়েছে।

ঘটনার সাথে জ’ড়িত না থাকা সত্বেও মা’মলায় সম্পূর্ণরূপে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আসামী করা হয়েছে ওই যুবতীর স’ন্তান তুল্য দুই কি’শোর ও বোন তুল্য তিন নারীকে। মি’থ্যা মা’মলায় হ’য়রানির শি’কার ওই পাঁচ জন হলেন- খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফয়সাল (৩২), কলেজ ছাত্র মো. সাঈদ (১৭), আয়েশা ছিদ্দিকা (৩৮), খরুলিয়া তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষিকা শাহিদা ইয়াসমিন রুমি (২৯) এবং মরিয়ম (৫০)।

র’হস্যজনক বি’ষয় হলো- ঘটনায় জ’ড়িত হা’মলাকারী প্রেমিকের স্ত্রী ও তার দলবলকে উক্ত মা’মলায় আসামী করা হয়নি। আসামী করা হয়েছে নিকটাত্মীয়দের। কেনো এমনটি করলেন যুবতী তার কোনো সদুত্তোর খুঁজে পাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা কেউই। প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে কি প’রকীয়া ঢাকতেই স্বজনদের বি’রুদ্ধে এই মি’থ্যা মা’মলা? অ’ভিযুক্ত যুবতী তসলিমা (২৮) ঝিলংজার খরুলিয়া এলাকার মৃ’ত আমান উল্লাহর স্ত্রী।

তিনি এখন বিধবা অবস্থায় আছেন। মঙ্গলবার (গত ৬ এপ্রিল) একটি ভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তসলিমা তার ওই ৫ আত্মীয় স্বজনকে হয়রাণি মূলকভাবে নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দা’য়ের করে। এর দুই দিন পর ৯ এপ্রিল (শুক্রবার) এজাহারটি মা’মলা হিসেবে নথিভুক্ত করে কর্তৃপক্ষ। অথচ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, দোকানদার ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন- সেদিন মা’রধরের ঘটনাটি ছিলো তসলিমার প’রকীয়া সংক্রান্ত। তার প্রেমিকের স্ত্রী স্বদলবলে এসে ঘরে ঢুকে মা’রধর করে চলে যায়। এরপরে তাদেরকে আর এলাকায় দেখা যায়নি।

স্থানীয় দোকানদার রহিম জানান- ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে একটি অটোতে চড়ে ৪/৫জন মেয়েকে নামতে দেখেছেন। তাদের মুখ নেকাবে বাঁ’ধা ছিলো। এদের কাউকেই আগে এখানে দেখেছেন বলে মনে করতে পারছেন না তিনি। এরাই তসলিমার ঘরে ঢুকে মা’রধর করে ১৫/২০ মিনিট পর দ্রুত চলে যায়। একই কথা বললেন স্থানীয় অপর দুই দোকানদার রফিক ও আলমগীর। জানা যায়- গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে তসলিমার স্বামী আমান উল্লাহ প্রবাসে থাকা অবস্থায় মা’রা যায়।

স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তসলিমা বিধবা হবার আগে পরে থেকেই প’রকীয়া সম্পর্ক চা’লিয়ে আসছিলো খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী কামালের সাথে। এর মধ্যে স্বামী মা’রা গেলে তার অনুপস্থিতির কারণে তসলিমার এই প’রকীয়ার বি’ষয়টি আরও বেশি প্রকাশ্যে আসতে থাকে। এমনকি এলাকায় একাধিকবার শালীসি বৈঠকও হয়েছিলো বলে জানিয়েছে সমাজের সর্দার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু শত চেষ্টা করেও কিছুতেই তসলিমার প’রকীয়ার সম্পর্কটি ছিন্ন করা যায়নি। ফলে দুই পরিবারের মাঝে চ’রম অসন্তোষ ও অশান্তি বিরাজ করছিলো।

এর জের ধরে গত ৬ এপ্রিল তসলিমার প্রেমিক কামালের স্ত্রী আনিফা ওই হা’মলা চা’লায়। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে এমন ঘটনায় ফেঁসে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে মরিয়া তসলিমা ঘটালেন আরেক কান্ড। প’রকীয়া সম্পৃক্ততা ধা’মাচা’পা দিতে ওই হা’মলার দায় চা’পান স্বজনদের উপর। এবং সে অনুযায়ী স্বজনদের বি’রুদ্ধে মি’থ্যা মা’মলা দিয়ে ক্ষান্ত হয় তসলিমা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার আনিফা সুলতানা নামে এক নারীর স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প’রকীয়া সম্পর্ক চা’লিয়ে আসছে তসলিমার।

ওই নারীর স্বামীর নাম কামাল বলে জানা যায়। কামাল একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। প’রকীয়া সম্পর্কের জেরে কামাল তার স্ত্রী আনিফা সুলতানাকে বাড়ী থেকে মা’রধর করে বের করে দেন দু’মাস আগে। ফলে টাকার প্রলোভন দেখিয়েও তসলিমার সাথে অ’বৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছে বলে মনে করেন কামালের স্ত্রী আনিফা। তিনি প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান- তসলিমাকে এই অ’বৈধ সম্পর্ক ছেড়ে দিতে বলা হলেও সে কোনো কথা গায়ে মাখছিলো না। বারবার অগ্রাহ্য করে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছিলো। একারণে শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তিনি তসলিমাকে নিভৃত করতে যান বলে দাবী করেন।

এবি’ষয়ে অ’ভিযুক্ত তসলিমার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন- শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার স’ন্তানের উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে এই হা’মলা চা’লিয়েছে। তার কোনো প’রকীয়া প্রেমিক নেই। তসলিমার প’রকীয়ার সম্পর্কে বেশ কিছু প্রমাণ সামনে এনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি। পাশে থাকা তার ভাই উত্তেজিত হয়ে বলেন- ওই মেয়ের স্বামীকে যদি তার বোন ভাগিয়ে নিয়ে থাকে তাহলে ওই মেয়েকে সে লালন পালন করবে। এর বাইরে কোনো সমাধান নাই বলেও প্রতিবেদককে হু’মকি দেন।

এদিকে বি’ষয়টি নিয়ে কথা হয় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীরুল গীয়াসের সাথে। তিনি বলেন, ঘটনা যেহেতু ঘটেছে সে হিসেবে স্বাভাবিক নিয়মে মা’মলা হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে হ’য়রানি করা হবে না। ত’দন্ত করে শুধুমাত্র ঘটনার সাথে জ’ড়িতদের বি’রুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এবং তিনি ঘটনাটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও অবগত আছেন বলে প্রতিবেদককে জানান। সুত্রঃ বিডি ২৪ লাইভ