জো’সের ঠে’লায় ব’লে ফে’লেছি, মা’ফ করে দেন স্যা’র!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 8, 2021 11:15:00 অপরাহ্ন
0
20
views

রাজনীতি: রা’ষ্ট্রবি’রোধী উস্কা’নিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অ’ভিযোগে আ’টকের পর নিজের ভু’ল স্বীকার করেছেন ‘শি’শুবক্তা’খ্যাত মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ‘আর ভু’ল হবে না’ এমন নিশ্চয়তা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করতে অনুরোধও জানান তিনি। এর আগে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৩টার দিকে নেত্রকোনার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে ২৬ বছর বয়সী মাওলানা রফিকুল ইসলামকে আ’টক করে র‌্যা’ব-১৪-এর একটি অ’ভিযানিক দল।

র‍্যা’বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রবি’রোধী, উ’স্কানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অ’ভিযোগে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মা’দানীকে আট’ক করা হয়েছে। আ’টকের দিনভর তাঁকে জি’জ্ঞাসাবাদ করে র‍্যা’ব। জি’জ্ঞাসাবাদে ভু’ল হয়েছে জানিয়ে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি দাবি করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার ভু’ল হয়েছে। ক্ষমা চাচ্ছি। ভবি’ষ্যতে আর ভু’ল হবে না। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, কী আর বলবো স্যার, ওয়াজের মঞ্চে যখন উঠি তখন শরীরে একটা জোস চলে আসে। এ জোশের কারণে অনেক সময় হুঁশ থাকে না।

তখন আর নিজেকে ধরে রাখা যায় না। অনেক কিছু না বুঝেই বলে ফে’লেছি। আর এমন হবে না। এবারের মতো আমাকে মাফ করে দেন। এদিকে র‌্যা’বের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বাংলাভিশন ডিজিটালকে জানিয়েছে, রফিকুল ইসলামকে আ’টকের পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জ’ব্দ করা হয়। তাতে বিপুল পরিমাণ পর্নো ভিডিও

পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে ২০১৯ সালে আসমা বেগম নামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করলেও এতদিন বি’ষয়টি গো’পন রেখেছেন বলেও তথ্য পেয়েছে র‍্যা’ব। যাকে বিয়ে করেছেন তিনি রফিকুল ইসলামের ভাবির চাচাতো বোন বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, নিজেই কালিমা পড়িয়ে বিয়ে করেছে; যা তাদের দু’পরিবারের কেউ জানতো না। তবে মাওলানা মামুনুল হকের কাণ্ডের পর ভ’য়ে বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা মাকে নিয়ে ওই মেয়ের ময়মনসিংহের বাড়িতে গিয়ে গতকাল বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মেয়ের পরিবার তা মেনে নেয়নি বলে জানা গেছে।

বুধবার রাতে এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে র‍্যা’বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন রাতে বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, রফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদ শেষে ডিজিটাল আইনে মা’মলা হবে। তবে তাঁর কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে তা পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

এ মুহূর্তে জানানো যাচ্ছে না। রফিকুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনায়। স্থানীয় স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হলেও পরে তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও নূরানি, হেফজ পড়েন। এরপর আট বছর কিতাবখানায় পড়েন। তিনি রাজধানীর বারিধারায় মাদানী এভিনিউয়ের পাশে অবস্থিত জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গসংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জে’লার সহ-সভাপতি। এক ওয়াজ মাহফিলে মিজানুর রহমান আজহারির সমালোচনা করে তাঁর প্রকৃত বয়স উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

বলেছিলেন, আমাকে শি’শুবক্তা বানিয়ে রাখা হয়। আজহারি সাহেবের দ্বারা যদি ইসলামের খেদমত হয় তাহলে আমার কোনো আপত্তি নাই। আজহারি সাহেব ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর আমি ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছি। এখনো আমাকে শি’শুবক্তা বানিয়ে রাখবেন কেন? আমাদের বয়স মাত্র তিন-চার বছরের ব্যবধান। আল্লাহ তাআলা বানাইছে। দেখতে এমন লাগে। আমার করার কিছু আছে?

এ জন্য আমি শুকরিয়া আদায় করি। নিজের পড়াশোনা নিয়ে বলেন, আমি ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতে বাংলা ইংরেজি অঙ্ক পড়েছি ও শিখেছি। তারপর ক্লাস সিক্স পর্যন্ত স্কুলে পড়েছি। এরপর মাদ্রাসায় ভর্তি হই। নূরানিতে পড়েছি এক বছর। আল্লাহর রহমতে দুই বছরে হেফজ শেষ করেছি। এখানে তিন বছর, আগের ১২ বছর মোট হলো ১৫ বছর। এরপর আট বছর কিতাবখানায় পড়েছি। কেন বলতেছি এগুলা? ইউটিউবে আমার নামে এত মি’থ্যা ছড়ানো হচ্ছে। আমি নিজেকে জ্ঞানী মনে করি না।