টে’ক্সাসে একই প’রিবারের ৬ বাং’লাদেশির লা’শ উ’দ্ধার, ব্যা’পক চা’ঞ্চল্য

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 6, 2021 10:55:50 পূর্বাহ্ন
0
26
views

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির গু’লিবিদ্ধ লা’শ উ’দ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পরিবারের দুই ছেলে অন্য সদস্যদের হ’’ত্যা করে নিজেরাও আত্মহ’’ত্যা করেছেন। তবে এখনো ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনায় কেবল টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে তাদেরকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

পুলিশ বলছে, শনিবার কোনো একটি সময় এই হ’’ত্যাকাণ্ড ও আত্মহ’’ত্যার ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটি সবাই জানতে পেরেছে সোমবার সকালে ঘুম ভাঙার পর। নি’হতরা হলেন তাওহিদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী আইরিন ইসলাম, তিন স’ন্তান তানভীর তাওহীদ, ফারবিন তাওহীদ এবং ফারহান তাওহীদ। এমনকি হ’’ত্যাকাণ্ডের শি’কার হয়েছেন আইরিন ইসলামের বৃ’দ্ধা মা আলতাফুন নেসাও।

জানা যায়, টেক্সাসের ডালাসের অ্যালেন হোমে বসবাস করতেন বাংলাদেশি দম্পতি তাওহীদুল ইসলাম ও আইরিন ইসলাম। তাঁদের দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। আইরিন ইসলামের মা আলতাফুন নেসা বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন মেয়ের কাছে থাকার জন্যে। দেশে ফেরার কথা থাকলেও, ক’রোনার কারণে আ’টকা পড়েছিলেন তিনি। পুলিশ মুখপাত্র সার্জেন্ট জন ফেল্টি বলেন, প্রাপ্ত তথ্য বলছে তাওহীদুল ইসলামের দুই ছেলে নিজেরা ঠিক করেছিলেন যে তারা আত্মহ’’ত্যা করবেন। সেই সঙ্গে পুরো পরিবারকেও তারা মে’রে ফেলবেন। সে অনুযায়ী তারা এই হ’’ত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।

মৃ’ত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সু’ইসাইডাল নোট রেখে গেছেন ১৯ বছর বয়সী ছোট ছেলে ফারহান তাওহীদ। যেখানে তিনি নিজেকে মা’নসিক বিকারগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেছেন। কেবল তাই নয়, পুলিশ বলছে, এই দুই ভাইয়ের একজন সম্প্রতি ব’ন্দুক কিনেছিলেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের কর্মকর্তা শাওন আহসান অন্য কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর বেশ অনেক্ষণ যেন আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না।’ তিনি জানান, প্রায় ১১ বছর ধরে এই পরিবারটিকে তিনি চেনেন। হ’’ত্যাকাণ্ডের শি’কার হাওহীদুল ইসলাম তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ‘তিন স’ন্তানকে নিয়ে তাঁকে সবসময়ই গর্বিত হতে দেখেছি।’

প্রতিবেশী আহমেদ হোসেন জানান, নিউ ইয়র্ক থেকে পরিবারটি সাত-আট বছর আগে টেক্সাসের ডালাসে যান। এরপর থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করতেন পরিবারটির সদস্যরা। আহমেদ হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ হোসেন বলেন, ‘নি’হত আইরিন ইসলাম সবসময়ই ছেলেমেয়েদের নিয়ে গল্প করতেন। কীভাবে তারা ভালো রেজাল্ট করছে, কীভাবে স্কলারশিপ নিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে- এসব বলতেন। কিন্তু তাঁর স’ন্তানদের কেউ এমন কিছু করতে পারেন, ধারণা করতে পারছি না।’

তবে নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী আইরিন ইসলামের নিকটাত্মীয় কামাল পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছেলে দুটো ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকেই ডিপ্রেশনের ও’ষুধ খেত। তাদের দুইজনের নানা স’মস্যা ছিল বলে জানতাম। কিছুদিন আগেও তারা নিউ ইয়র্কে এসেছিল। আমি সবসময় কাছ থেকে দেখেছি। ছেলে দুটো যদি সবাইকে মে’রে, নিজেরা আত্মহ’’ত্যা করে; সেটি অসম্ভব নয়।’

পাবনা জে’লা সমিতির সভাপতি কামাল পাশা আরো বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকে মা’নসিকভাবে ভীষণভাবে ভে’ঙে পড়েছি। এই পরিবারটির সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক।’ নি’হত আইরিন ইসলামের ছোটভাই এমেড রহমান আতা নিউ ইয়র্কের অ্যালমহার্স্টে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে ভীষণ ভে’ঙে পড়েছেন তিনি। কথা বলার মতো শক্তিও হা’রিয়ে ফে’লেছেন।

নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও পাবনার বাসিন্দা গোপাল সান্যাল বলেন, ‘ম’র্মান্তিক ঘটনাটির শি’কার পরিবারটির বাড়ি পাবনার দোহার পাড়ায়। দোহার পাড়ার বিখ্যাত ব্যক্তি জিয়া হায়দার, রশিদ হায়দার উনাদের নিকটাত্মীয় বলে জেনেছি। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’ প্রাথমিকভাবে হ’’ত্যা ও আত্মহ’’ত্যা বলে জানা গেলেও, এর পেছনের প্রকৃত ঘটনা দ্রুতই বিস্তারিত জানা যাবে বলে মনে করেন গোপাল সান্যাল।