একজন পুরুষের যা নেই, সেখানে কোনো মেয়েই সংসার করবে না: সেই আমেরিকান কন্যা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : মার্চ 5, 2021 10:06:20 পূর্বাহ্ন
0
714
views

অনলাইন ডেস্কঃ জাকেরের বি’রুদ্ধে মুখ খুললেন আমেরিকা প্রবাসী শারমিন সুরভী মৌসুমী। থানায় মা’মলা দা’য়েরের পর গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি আমেরিকা থেকে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। মৌসুমী দাবি করেছেন- বিয়ের রাতেই জাকেরের অ’সুস্থতা ধরা পড়ে। একজন পুরুষের যা নেই, সেখানে কোনো মেয়েই তার সংসার করতে পারবে না বলে জানান তিনি। শারমিন আক্তার মৌসুমীর বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুরে। পরিবার নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করেন। আর জাকের আহম’দের বাড়ি গোলাপগঞ্জে। তিনিও প্রবাসী ছিলেন।

পারিবারিকভাবে মৌসুমী ও জাকেরের বিয়ে হয়েছিলো গত বছরের জানুয়ারিতে। বিয়ের পর মৌসুমী আমেরিকা চলে গেলে তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্ব’ন্দ্ব শুরু হয়। এই দ্ব’ন্দ্বের জের ধরে গত ১লা ফেব্রুয়ারি জাকের বা’দী হয়ে মৌসুমী ও তার মা-বাবা’র বি’রুদ্ধে আ’দালতে মা’মলা করেন। আর মা’মলায় সে দাবি করেন- পূর্বের বিয়ে ও স’ন্তানের কথা গো’পন করে এবং কাবিননামায় কুমারী উল্লেখ করে তার সঙ্গে বিয়ের কার্য সম্পাদন করা হয়েছে। বিয়ের পর ২৫ লাখ টাকা চাওয়ার বি’ষয়টি মা’মলায় উল্লেখ করা হয়। জাকেরের মা’মলা দা’য়ের ও মি’থ্যাচারের ঘটনায় ক্ষু’ব্ধ মৌসুমী ও তার পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তারা আমেরিকায় বসবাস করার কারণে দেশে এসে আইনি লড়াইয়ে নামতে পারছেন না।

এ কারণে মৌসুমী তার বক্তব্য গতকাল ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন বলে জানান। সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সুনাম ন’ষ্ট করে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতে দ্বিতীয় স্বামী জাকের আহম’দ কর্তৃক মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং মা’মলা দা’য়ের করে হ’য়রানির অ’ভিযোগ এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মৌসুমী। এ বি’ষয়ে তিনি আমেরিকা স’রকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে অবহিত করে জাকেরের বি’রুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন- ‘১৯৯৫ সালে ৬ বছর বয়সে তিনি আমেরিকায় যান। ২০১২ সালে মৌলভীবাজার জে’লার কুলাউড়ার ডা. ফরিদ আহম’দের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তার একটি পুত্র স’ন্তানও রয়েছে। তবে প্রথম স্বামী আমেরিকার গ্রিনকার্ড পাওয়ার পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক বি’রোধ লেগেই থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ৩০শে আগস্ট তিনি তাকে তা’লা’কের নোটিশ পাঠান।’

এর তিন বছর পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাকের আহম’দের সঙ্গে পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে হয় তার। প্রথম বিয়ে এবং স’ন্তানের কথা জাকেরের পরিবারও জানে। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানে স’ন্তান আইয়ান নাহি আহম’দও উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিয়ের রাতেই জাকেরের অ’সুস্থতার কথা ধরা পড়ে। যা পরে তার ভাবি ও বোনকে জানালে তারা বি’ষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন এবং আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসা নিলে ঠিক হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন। এরই মাঝে গত বছরের ২৮শে জানুয়ারি তিনি আমেরিকা চলে যান। মৌসুমী জানান, ‘আমেরিকা গেলেও জাকেরের সঙ্গে মোবাইলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। সে সব সময় তাকে আমেরিকায় নিয়ে আসার জন্য বলতো। তবে গত নভেম্বরে তার শা’রীরিক অ’সুস্থতা নিয়ে ফোনালাপে ঝ’গড়া হলে তা পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রকাশ পেয়ে যায়। এবং তার সঙ্গে ফোনালাপ না করার পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ফোনে কথা বন্ধ রাখেন।’

তিনি জানান- কথাবার্তা বন্ধ হতেই প্র’তিশোধপরায়ণ হয়ে গত ১লা ফেব্রুয়ারি জাকের বা’দী হয়ে তার মা-বাবা ও তার বি’রুদ্ধে আ’দালতে মা’মলা করে। আর মা’মলায় সে দাবি করে- পূর্বের বিয়ে ও স’ন্তানের কথা গো’পন করে এবং কাবিননামায় কুমারী উল্লেখ করে তার সঙ্গে বিয়ের কার্য সম্পাদন করা হয়েছে। অথচ পূর্বের বিয়ে ও স’ন্তানের সকল ডকুমেন্ট আমেরিকা অ্যাম্বাসিতে রেকর্ড রয়েছে। মৌসুমী দাবি করেন- জাকেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমেরিকায় আনতে না পারায় সে প্র’তারণামূলকভাবে এ মা’মলা করেছে। একই সঙ্গে জাকের ২৫ লাখ টাকা দাবি করার মি’থ্যাচারও করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকায় মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে আমার এবং আমার পরিবারের সুনাম ন’ষ্ট করে এবং সমাজে আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে- জাকের আহম’দ ও তার পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীর এ দাবিটি মানতে নারাজ। তারা মা’মলার এজাহারে দেয়া বক্তব্যকেই সঠিক বলে দাবি করেছেন। পুলিশি ত’দন্তে সত্যতা মিলবে বলে দাবি করেন তারা।