পাপুলদের নেপথ্যের বেহায়া বাজিকর কারা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 24, 2021 11:00:55 পূর্বাহ্ন
0
39
views
পীর হাবিবুর রহমান

পীর হাবিবুর রহমান: সময়টা শেখ হাসিনার প্রথম শাসনকাল। গণতন্ত্র ও সুশাসনের সুবর্ণ সময়। স’রকারে যেমন দাপুটে মন্ত্রী, দলেও তেমন জাঁদরেল সব নেতা। মাঠের নেতৃত্বও পোড় খাওয়া রাজনীতির পথ হাঁটা নেতা-কর্মীদের হাতে। সং’সদেও গণমুখী রাজনীতিবিদ চোখে পড়ার মতো। এখনকার মতো খরাকবলিত নয় রাজনীতি। সং’সদেও শক্তিশালী বি’রোধী দল। তখন সব বাগানেই ফলের সমাহার। এখন শেখ হাসিনা একাই সামনে, সঙ্গে অভিজ্ঞ দক্ষ রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী কম। সং’সদেও বি’তর্কি’ত এমপিদের মুখ ভাসে বড় বেশি। হঠাৎ চৈত্রের কাঠফাটা রোদে বের হয়ে তাকালে যেমন চোখে বড় লাগে তেমনি এখনকার রাজনীতি ও সং’সদের দিকে তাকালে বড্ড লাগে।

বেমানান মনে হয়। আওয়ামী লীগের এক যুগের শাসনকালে যেখানে সর্বত্র স’রকারি দল দৃশ্যমান সেখানে শাসক দল নিয়েই কথা বেশি আসে। যাক, সেই শাসনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন ডা. এস এ মালেক। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। এমবিবিএস পাস ডাক্তার হলেও হোমিওপ্যাথির চিকিৎসায় যশ ছিল। এক সন্ধ্যায় তাঁর কলাবাগানের চেম্বারে গেলাম ইন্টারভিউ নিতে। তিনি অনেক কথাই বললেন। আমিও হাত খুলে লিখলাম। ইন্টারভিউ ছাপা হওয়ার পর হয়তো চা’পে পড়লেন। সন্ধ্যার পর অফিসে গিয়ে শুনলাম ডা. এস এ মালেক ফোন করেছিলেন। আমি যেন কল ব্যাক করি। ফোন করতেই তিনি বললেন, আমি আপনাকে এত কথা লেখার জন্য বলিনি। বললাম, আপনি তো না লিখতে মানাও করেননি। তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবেন। মনটা খা’রাপ হলো। একজন মুরব্বি মানুষ। লজ্জাও পেলাম। লজ্জা আমরা পাই কেউ ক্ষমতার জো’র না দেখিয়ে বিনয়ী হলে।

সড়ক দু’র্ঘটনায় নির্মাতা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যুর পর তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ চেয়ে লিখেছিলাম। বড় হাসিমুখী প্রা’ণবন্ত সজ্জন মানুষ তিনি। কোনো কথা বলেননি। একবার আমরা সাংবাদিকদের বড় টিম আয়েবার সম্মেলনে যাচ্ছি মালয়েশিয়া। এয়ারপোর্টে নঈম নিজাম, শ্যামল দত্ত ও আমাকে দেখে এগিয়ে এলেন সৈয়দ আবুল হোসেন। সেই হাসিমুখে বললেন, পীর হাবিবুর রহমান ভাই এখন আর কারও পদত্যাগ চান না।

এটুকুতেই হেসে উঠলেন সবাই। তিনি তখন মন্ত্রী নন। আমি লজ্জিতই হলাম। সৈয়দ আবুল হোসেনের বি’রুদ্ধে বিশ্বব্যাংক দু’র্নীতির অ’ভিযোগ তুলেছিল। আহারে তাঁর সঙ্গে আরেক ভদ্র বিনয়ী সৎ মানুষ সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সারকেও। কারণ তিনি কাকে মন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এমন সাহায্য করা এ দেশের সংস্কৃতি। মানুষের কাছে মানুষ গেলে ডাক্তার থেকে মন্ত্রী আমলা কাউকে পরিচয় করিয়ে দেয়। কাউকে সাহায্য করতে সুপারিশ করে। আবুল হাসান চৌধুরীকে চিনি ও বিশ্বাস ছিল বলে প্র’তিবাদ সবখানেই করেছি। একমাত্র শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেনের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাংকের অ’ভিযোগ নাকচ করে তাদের সহায়তা ছাড়াই পদ্মা সেতু প্রায় শেষ করছেন আজ। কানাডার আ’দালতও বেকসুর খালাস দিয়েছে, অ’ভিযোগ মি’থ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু মিডিয়া তখন সৈয়দ আবুল হোসেনকে যেভাবে হেয় করেছে তার জন্য পরবর্তীতে কখনো দুঃখ প্রকাশ দূরে থাক, লজ্জা বা সমালোচকরা অনুতপ্ত হয়েছেন বলে মনে হয় না। এ দেশে বিশ্বব্যাংকের খবরদারিতে অনেক অতীতের মন্ত্রী বা স’রকারপ্রধান আর্তনাদ করেছেন কিন্তু দমাতে পারেননি। শেখ হাসিনা খবরদারিটা রুখে দেন এবং অহমটা ভে’ঙে দেন।

কিন্তু সৈয়দ আবুল হোসেন পরবর্তীতে স’রকার, সং’সদ বা দলের কাঠামোতে কেন নেই সেটি আর জানি না।

সড়ক দু’র্ঘটনায় পরবর্তীতে মানুষ ম’রেছে। যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সড়কে শৃঙ্খলা আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন। এখনো আসেনি। সড়কে ছাত্র হ’’ত্যার প্র’তিবাদে এ দেশের কি’শোর-কি’শোরীরা নজিরবিহীন আন্দোলনও দেখিয়েছে। কদিন তারা ট্রাফিক ব্যবস্থা হাতেও তুলে নিয়েছে। যারা ট্রাফিক আইন ল’ঙ্ঘন করেছেন তাদের গাড়ি থেকে নামিয়েও দিয়েছে যত প্রভাবশালী ক্ষমতাধর হোন না কেন। গণজাগরণ তারা ঘটিয়ে সচেতন করেছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী থাকতে শাজাহান খান জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পরিবহন শ্র’মিক নেতা হিসেবে সড়কস’ন্ত্রাসী বে’পরোয়া বাসচালকদের পক্ষে সব সময় তার অবস্থান বহাল রেখে সমালোচিত হয়েছেন। মন্ত্রী-রাজনীতিবিদের চেয়ে পরিবহন শ্র’মিক নেতার মোহ ও অহংকার তার মাঝে সব সময় কাজ করেছে। তার পদত্যাগও চেয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। আজন্ম দুঃসময়ে ঝুঁ’কি নেওয়া নেতাদের বাদ দিয়ে সেই গণবাহিনীর শাজাহান খানই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে ঠাঁই পেয়েছেন।

মুক্তিযু’দ্ধের গৌরবের ৫০ বছরের মাথায় এসেও মুক্তিযো’দ্ধা তালিকা শেষ হয় না। সব স’রকারের আমলে এ তালিকা হয়। কেউ রাজাকারের তালিকা করেনি। মুক্তিযু’দ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ স’রকার রাজাকারের তালিকা করার ঘোষণা করল। আমরা আনন্দিত হলাম।

মুক্তিযু’দ্ধবি’ষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমন রাজাকারের তালিকা দিলেন যেখানে একাত্তরের বীর মুক্তিযু’দ্ধের বাহিনীপ্রধান, সংগঠক, গেরিলা যো’দ্ধাদেরও নাম এলো। তুমুল বিতর্ক হলো। যেন ভিক্ষা চাই না কুত্তা সামলাও অবস্থা। বিতর্কের মুখে সেটি ডিপফ্রিজে গেল। মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলাম। সাড়া পাইনি।

ক’রোনাকালের শুরুতে স্বা’স্থ্য খাতের যে মহাবিপর্যয় আর কে’লেংকারি এবং স্বা’স্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্য, ভূমিকা তৎপরতা মিলিয়ে সরে দাঁড়াতে বলেছিলাম। লাভ হয়নি। স্বা’স্থ্য খাতের লু’টেরা মিঠু সিন্ডিকে’টের বি’রুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থাও দেখিনি। ক’রোনাকালেও লু’টেরার আবির্ভাব হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে স্বা’স্থ্য খাতকে ক’রোনার যু’দ্ধে ঘুরে দাঁড় করিয়ে চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলতা হাতের মুঠোয় পুরেছেন তাতে ম’ন্ত্রণালয় আর অধিদফতরের কান্ডকীর্তি মানুষ ভু’লে গেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে ক’রোনাযু’দ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ক্যারিশমা দক্ষ’তা প্রজ্ঞা দূরদর্শিতা আর সাফল্যে তিনিই দেশবাসীর সামনে একক ভরসার জায়গায়। সব আশা-আশ্রয়ের ঠিকানা। স’রকারের অনেক মন্ত্রী ভালোই করছেন। কয়েকজন তো অভিজ্ঞ ও দক্ষ’তার স্বাক্ষরও রাখছেন। ক্লিন ইমেজও আছে। তাদের কথা বলতে হয় না। মানুষ এখন আর কারও কাছে নয়, সব প্রত্যাশার আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই রেখেছেন আস্থায় বিশ্বাসে। মন্ত্রী আমলা নেতাদের দিকে তাকান না।

আমিও এখন আর কারও পদত্যাগ চাই না। এখন আমি আর কারও কারও বিরূপ কান্ডকীর্তির ব্য’র্থতায় তাদের লজ্জিত বা অনুতপ্ত হতে না দেখে অবাক হই না। নিজেই নিজের কাছে লজ্জিত হই। আজকাল বেহায়াকে বেহায়া বললে লজ্জা পায় না বরং বেহায়াকে আমরা যারা বেহায়া বলি, দু’র্নীতিবাজকে দু’র্নীতিবাজ বলি, চোরকে চোর বলি, ডাকাতকে ডাকাত বলি তারাই লজ্জা পাই। ওরা লজ্জা পায় না। ওরা অন্যায় অ’পরাধ করে কি কুৎসিত হাসি হাসে। ভোগ-বিলাসের লোভের বি’ষের জলে ভাসে।

দেশের সবাই একযোগে আওয়ামী লীগ হয়ে যাওয়ার সুবাদে কোথায় কখন কীভাবে ভু’ল করছেন, অন্যায় করছেন, অ’পরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, বুদ্ধিবৃত্তিক দু’র্বৃত্তায়ণেরও প্রসার ঘটাচ্ছেন, কীভাবে কোথায় কে ক্ষমতার দম্ভে উন্নাসিক আচরণ করছেন তা ফিরেও দেখছেন না। আয়নায় কেউ কেউ নিজেদের চেহারা দেখা দূরে থাক, মানুষ সমালোচনা কী করছে তাও শুনতে পাচ্ছে না। কুম্ভকর্ণের ঘুম আর ক্ষমতার আনন্দে বেহুঁশ। তারা যেন নিশ্চিত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষ’ড়যন্ত্রের মো’কাবিলা করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে একাই লড়বেন আর তারা ভোগ করবেন। জনমনে কী আলোচনা তা জানা বা শোনার আগ্রহ নেই। মন্ত্রীদের একদল আর এমপিদের অনেকেই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। মাঠ নেতারাও আখের গোছাতে বেহুঁশ। বিএনপি যখন রাজপথে নামার চেষ্টা করছে, আলজাজিরা যখন শেখ হাসিনার বি’রুদ্ধে মি’থ্যাচারের আ’ঘাত হা’নার চেষ্টা করেছে তখন অনেক জে’লায় স্থানীয় মন্ত্রী-এমপি-মাঠ নেতাদের বি’রোধ-সং’ঘাতে গৃহদাহ দেখা দিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে গৃহদাহ সংবাদকর্মীর লা’শটা নিয়ে স্বজনের মাতম। দায়টা কার? নোয়াখালী থেকে সুনামগঞ্জ বি’রোধ। যশোরের এমপি নেতা শাহীন চাকলাদার বললেন ওসিকে, থানায় বো’মা মে’রে পরিবেশবা’দীকে মা’মলায় ঝু’লিয়ে দাও। হাই কোর্ট নয়, তার কথাই শেষ কথা। দল, প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে? এরা এমপির মডেল? কেউ কেউ আসমানে তাকিয়ে হাঁটছেন যেন কালের মহাকাব্য লিখছেন। সেগুনবাগিচা থেকে রাজনৈতিক ঢালাও বিবৃতি আর দার্শনিকের মতো অসার বক্তব্য এসেছে এক ঝড়ে। কূটনৈতিক ভাষার কোনো প্রয়োগ নেই কোথাও। অতিকথনের ঝড়ে এক ইস্যুতে ছেঁড়াবেড়া অবস্থা অদক্ষদের হাতে। আইন যেখানে রাজনৈতিক মা’মলার আ’সামিকে দন্ড মওকুফের সুযোগ দিয়েছে এবং সেটি দেওয়া হয়েছে সেখানে এটা গো’পন রাখা বা পরবর্তীতে জানি না বলারই দরকার কী ছিল বুঝি না। লুকোচু’রি সব বয়সে খেলতে নেই।

সাংবাদিকরা দলীয় রাজনীতিতে বিভক্ত বহু আগেই। বিএনপিপন্থিরা অনেক আগেই মূল দলের পদবি লাভে এগিয়ে। এবার আওয়ামী লীগের সাংবাদিকরা দলের খুচরা উপকমিটির সদস্যপদ লাভ করে গর্বিত। সাংবাদিকতাও দলের পদবিতে বিলীন হতে শুরু করেছে। গণমাধ্যমে বড় পদে থেকেও রাজনৈতিক দলের উপকমিটির সদস্যপদের মোহ কেন জানি না। দল বা গণমাধ্যম কী পাবে তাও বুঝি না। জগাখিচুড়ি মসলা হয়ে যাচ্ছে পেশাজীবীরা।

জীবনে এমপি হবেন ভাবেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যা এমপি করেছেন, মন্ত্রী করেছেন। এখন তাদের কেউ কেউ বাজিকর তৈরি করেন। বাণিজ্য করেন, এলাকায় এমপি-নেতাদের সঙ্গে বি’রোধ দলাদলি প্রকাশ্যে এনেছেন। সিলেট বিভাগের এক জে’লার মন্ত্রী তো এখন একেক উপজে’লায় নিজের মতো যাচ্ছেন আর সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বর্জন করছেন। এমপি-নেতারাও কাউন্টার সভা করছেন। দলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ কারও নেই। ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে অনেকের মনোনয়ন বাণিজ্যের আ’শঙ্কাও রয়েছে। এসবে তাদের লজ্জা নেই- বলতে বা দেখতেই আজ সমাজে যত লজ্জা। যারা দেখেন, যারা বলেন ও ভাবেন তারা যেন নির্লজ্জ বেহায়া, আর যারা করেন তাদের লাজলজ্জাহীন বোধহীন ভোগবা’দী অন্ধ অহম মাত্র। অবাক-বিস্ময়কর ঘটনা সমাজে চলছে। কয়েকজন স’চিব তো জাল মুক্তিযো’দ্ধা হয়েছিলেন। উচ্চশিক্ষিত মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকার সুবাদে ক্ষমতার অ’পব্যবহারে কতটা করতে পারেন সব আমলেই দেখা যায়। শেষ হয় না। বাড়ে ঘটনা।

সম্প্রতি পাসপোর্ট জ’ব্দ থাকার পরও প্রশান্ত কুমার বা পি কে হালদার কীভাবে বিদেশে পা’লিয়ে গেলেন তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনটি বিভাগের ২০০৮ সাল থেকে কর্মরতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ১৫ মার্চের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে পি কে হালদারের দেশত্যাগের দিন বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের দায়িত্বরতদের এবং দুদকের দায়িত্বে কে ছিলেন তার তালিকাও দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে।

শুনেছি পি কে হালদারের লু’টে নেওয়া টাকার শো’কে শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী স্ট্রোক করেছেন। সঞ্চয় জমা দিয়ে খুইয়েছেন। কত মানুষ রিক্ত-নিঃস্ব হয়েছেন। তাকে কারা তৈরি করেছে? কারা সহায়তা দিয়েছে? প্রশাসন, অর্থ ম’ন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক কি ঘুমিয়েছিল? আ’দালতকে আজ নির্দেশনা দিতে হয়। দুদকে অনেক নিরীহ ফাঁ’সে অনেক বড় অ’পরাধীরা বের হয়ে যায়, নয় থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেন এমন হচ্ছে? লু’টেরা পি কে হালদাররা মডেল মাত্র। এদের তৈরি করে বেহায়া বাজিকর। তাদের নাম আসে না সামনে। অন্ধকারে থাকে।

যারা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লু’ট করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। যারা দিনের পর দিন ঋ’ণখেলাপি হয়ে বিলাসী ও ভোগের জীবনযাপন করছে তাদের কেন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ষা করা হয়? এর উত্তর মেলে না। দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখা বৃহৎ শিল্পপতি থেকে মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীদের যেখানে ব্যাংক ঋ’ণের সুদ পাই পাই করে শোধ করতে হয়। যেখানে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের কৃষককে মা’মলার জালে অল্প টাকার জন্য আ’টকে যেতে হয় কৃষিতে বিপ্লব এনেও, সেখানে ঋ’ণখেলাপিদের কেন রক্ষা করা হচ্ছে বারেবারে।

বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, খেলাপি ঋ’ণের নতুন সুবিধা বন্ধ করতে হবে। খেলাপি ঋ’ণের পুরনো স’মস্যা জিইয়ে রাখা বা এড়িয়ে যাওয়া চলবে না সেখানে ব্যাংকিং খাতকে খেলাপিদের জন্য কেন বোঝা বইতে হবে? যারা এ রকম ঋ’ণখেলাপি, অর্থ পা’চারকারী, ব্যাংক ডাকাত তাদের আজ কোনো লজ্জা নেই। শরম নেই। বেহায়া সব। সব লজ্জা মানুষের, জনগণের। যারা ভাবছেন, দেখছেন, কথা বলছেন তাদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চু’রির ঘটনায় ভদ্রলোক সৎ ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগ ছাড়া জাতির কপালে কিছু জোটেনি। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার আলোর মুখ দেখেনি। এটা যাদের করার কথা ছিল তারা করেননি। উত্তরসূরিরাও হাত দিচ্ছেন না। কারণটা কী? ব্যাংকে তারল্য সং’কট নেই। তাহলে শৃঙ্খলায় এনে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কম সুদে ঋ’ণ দেওয়া যায়। খেলাপিদের কোম’রে দড়ি বেঁ’ধে জামানত নেওয়া যায়।

কুয়েতের আ’দালতে চার বছরের জন্য দন্ডিত এমপি পাপুলের সং’সদ সদস্য পদ এবার খারিজ হয়েছে। মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ। রায়ের কপি পেয়েই আসন শূন্য ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। কিন্তু এত দিন আমরা যখন বলেছি, কেউ কোনো উদ্যোগ নেননি। ন’ষ্ট সমাজের লোভের শি’কার পাপুল, অ’বৈধ অর্থ নিয়ে এলেন, কতগুলো মানুষকে কিনলেন এবং সস্ত্রীক এমপি হলেন। সদস্য পদ খারিজে সং’সদ হয়তো কিছুটা কলঙ্কমুক্ত হবে কিন্তু পাপুল জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যে লজ্জা এনে দিয়েছে তা কখনো ঘুচবে না। এটা খা’রাপ নজির হয়ে থাকবে। পাপুল যেভাবে এমপি হয়েছিলেন সেটি তার কাছে লজ্জার নয়। অহংকারের। আর যারা অর্থের লোভে বানিয়েছিলেন তারা তাদের ক্ষমতা ও রুচিহীন লোভ দেখিয়েছিলেন। এই নির্লজ্জ রুচিহীন বেহায়াদের চেহারা কখনো উন্মোচিত হবে না। এর কোনো ত’দন্ত হবে না। এটা কত বড় বুদ্ধিবৃত্তিক অ’পরাধ সেটি ভাবা যায়? আসলে অ’পরাধীরা কখনো লজ্জা পায় না। জেনে শুনে অহংকার ও দম্ভ করে। পরিণতি দেশ জাতি সমাজকে ভোগ করতে হয়। ওদের কোনো লজ্জা শরম নেই, সব লাজ-লজ্জা শরম মানুষের। মানুষ দেখে, জানে, বুঝে এবং এ নিয়ে কথা বলে। চিন্তা করে। ক্ষমতার দম্ভে সুবিধাভোগী অ’পরাধীরা একবারও ভাবে না কাল শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে কত বড় আ’ঘাত মুক্তিযু’দ্ধের পক্ষের অসা’ম্প্রদায়িক শক্তির ও’পর আসবে। দেশ র’ক্তগঙ্গা হবে। লু’টেরারা পালাবে, বর্ণচোরা সুবিধাভোগীরা চেহারা বদলাবে। আদর্শবানরা, সমর্থকরা আ’ক্রান্ত হবে। দেশের উন্নয়ন আবার বড় হোঁচট খাবে। অতএব আইনের ঊর্ধ্বে কাউকে যেতে দেওয়া যায় না। সুশাসন নিশ্চিত দরকার। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চাই শক্তিশালী। আর ঘুষখোর দু’র্নীতিবাজ, লু’টেরা, অর্থ পা’চারকারীদের ক’ঠোর শা’স্তি।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।