‘ভু’ল দিকনির্দেশনায় প্রা’ণ হারায় ৩৪ জন’

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 24, 2021 09:47:16 পূর্বাহ্ন
0
78
views

জাতীয়ঃ বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় করা মা’মলায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদসহ ১১ জনের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগপত্র দাখিল করেছেন নৌ পুলিশ। অ’ভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন, সুপারভাইজার আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও সালাম ময়ূর কম্পানির সার্বিক পরিচালনাকারী। তাঁদের ভু’ল দিকনির্দেশনা এবং পরিচালনাকারীদের ভু’লে ৩৪ জন নিরীহ মানুষ প্রা’ণ হা’রিয়েছেন।

প্রায় আট মাসের ত’দন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার চিফ জু’ডিশিয়াল ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক শহিদুল আলম এ অ’ভিযোগপত্র দেন। আগামী ৯ মার্চ এ মা’মলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে। অ’ভিযোগপত্রে উল্লেখ করা অন্য আ’সামিরা হলেন লঞ্চটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন, আবদুস সালাম, ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, লঞ্চের মাস্টার জাকির হোসেন, আবুল বাশার মোল্লা, সুকানি নাসির মৃধা ও কর্মচারী মো. হৃদয়। তাঁদের মধ্যে নাসির মৃধা ও মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা আ’দালতে ১৬৪ ধারায় স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন।

মা’মলার অ’ভিযোগপত্রে ত’দন্ত কর্মকর্তারা বলেন, লঞ্চমালিক কিছু কমোড ও মালামাল নামানোর জন্য ময়ূর কম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন। যার কারণে তাড়াহুড়া করে লঞ্চটি বোগদাদিয়া ডকইয়ার্ড ছেড়ে টার্মিনালের দিকে রওনা হয়। স’রকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও লঞ্চমালিক বা অন্য কর্মকর্তারা যানটিতে অতিরিক্ত লোক নেন। তা ছাড়া মাস্টার বা সুকানি হেলপার দিয়ে লঞ্চ চা’লানো দু’র্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ’ভিযোগপত্রে বলা হয়, সার্ভে সনদ অনুযায়ী যাঁদের লঞ্চ পরিচালনার কথা ছিল, তাঁরা লঞ্চে ছিলেন না। আ’সামি আবুল বাশার, জাকির, নাসির, শিপন, শাকিল, হৃদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং লঞ্চ চলমান থাকা অবস্থায় তাঁদের নির্দেশনা ভু’ল থাকায় লঞ্চের গতি ছিল অনেক বেশি। যেখানে গতি ধীর হওয়ার কথা সেখানে ফ্রন্ট গিয়ারে রেখে দ্রুত ও বে’পরোয়াভাবে লঞ্চের গতি আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়; এটি দু’র্ঘটনার অন্যতম কারণ।

অ’ভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন, সুপারভাইজার আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও সালাম ময়ূর কম্পানির সার্বিক পরিচালনাকারী। তাঁদের ভু’ল দিকনির্দেশনায় এবং পরিচালনাকারীর জন্যই একটি দু’র্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় ৩৪ জন নিরীহ মানুষের জীবন চলে গেছে।

অ’ভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভু’ক্তভোগী লঞ্চ মর্নিং বার্ডের মাস্টার সুকানিরা বারবার সংকেত দেওয়ার পরও ঘা’তক লঞ্চ চালনাকারী এজহারনামীয় আ’সামিরা দ্রুত ঘাটে যাওয়ার আশায় অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। যার কারণে মর্নিং বার্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং চোখের পলকেই লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়।’

এ মা’মলায় আ’সামিদের মধ্যে লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ, লঞ্চটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও আবদুস সালাম জা’মিনে রয়েছেন। এ ছাড়া লঞ্চের ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, লঞ্চের মাস্টার জাকির হোসেন, আবুল বাশার মোল্লা, সুকানি নাসির মৃধা ও কর্মচারী মো. হৃদয় কা’রাগারে আছেন।

গত বছরের ২৯ জুন মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ সদরঘাটে পৌঁছানোর আগে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায়। দু’র্ঘটনায় মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রীর ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার পরদিন ৩০ জুন সদরঘাট নৌ পুলিশের এসআই শামসুল আলম বা’দী হয়ে ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মা’মলা করেন। মা’মলায় দু’র্ঘটনাকবলিত লঞ্চটিকে ধাক্কা দেওয়া সাতজনের নাম উল্লেখ করে অ’জ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ-সাতজনকে আ’সামি করা হয়। এ মা’মলায় বে’পরোয়াভাবে লঞ্চ চা’লিয়ে মানুষ হ’’ত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দু’র্ঘটনার জন্য দ’ণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৪৩৭ ও ৩৪ ধারার অ’ভিযোগ আনা হয়।