অ’ভিযোগ প্রমাণ হলে ৭ বছরের জে’ল হতে পারে নাসির-তামিমার

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 23, 2021 04:11:52 অপরাহ্ন
0
38
views

ডি’ভোর্স পেপার ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অ’ভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বি’রুদ্ধে মা’মলা করা হয়েছে।মা’মলায় অভিযোগ আনা হয়েছে দ’ণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৯৭/৪৯৮ ও ৫০০ ধারায়। এ ধারাগুলোর সর্বোচ্চ শা’স্তি সাত বছরের কা’রাদ’ণ্ড।

ধারা : ৪৯৪। স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহকরণ

কোনো ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোনো পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বি’ষয়টি অ’বৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দ’ণ্ডেও দ’ণ্ডিত হবে।

ধারা : ৪৯৭। ব্যভিচার

কোনো ব্যক্তি যদি অপর কোনো ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্যকোনো ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোননো ব্যক্তির সঙ্গে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌ’নসঙ্গম করে যা নারী ধ”ণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অ’পরাধের জন্য দো’ষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে অথবা অর্থ দ’ণ্ডে, অথবা উভয় দ’ণ্ডেই দ’ণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দ’ণ্ডিত হবে না।

ধারা : ৪৯৮। কোনো বিবাহিতা নারীকে অ’পরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধকরণ বা অ’পহরণ বা আ’টককরণ

কোনো ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পুরুষের সঙ্গে বিবাহিতা এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ নারীকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অ’বৈধ যৌ’নসঙ্গম করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অ’পহরণ বা প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায় বা অনুরূপ কোনো নারীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গো’পন বা আ’টক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে অথবা অর্থ দ’ণ্ডে অথবা উভয়বিধ দ’ণ্ডেই দ’ণ্ডিত হবে।

ধারা : ৫০০। মানহানির শা’স্তি

কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির মানহানি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ডে অথবা অর্থ দ’ণ্ডে অথবা উভয়বিধ দ’ণ্ডেই দ’ণ্ডিত হবে।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্ম’দ জসীমের আ’দালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বা’দী হয়ে এ মা’মলা করেন। আ’দালত বা’দীর জ’বানব’ন্দি গ্রহণ করে ৩০ মার্চের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ত’দন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মা’মলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বা’দীর (রাকিব হাসান) সঙ্গে ১ নং আ’সামি তামিমা সুলতানার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৩ লাখ এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে এবং রেজিস্ট্রি হয়। বিয়ের পর হতে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকেন। তোবা হাসান নামে তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। যার বর্তমান বয়স ৮ বছর। মা’মলা সূত্রে আরও জানা যায়, তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। তিনি সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির সুবাদে তিনি ২০২০ সালের ১০ মার্চ সৌদিতে যান।

ম’হামা’রির কারণে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানেই অবস্থান করেন। এ সময় ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাকিবের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। মা’মলায় বলা হয়, ‘চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে ২ নং আ’সামির (ক্রিকেটার নাসির) কথিত বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা বা’দীর নজরে আসে। বা’দী এই ধরনের ছবি দেখে হতবাক হয়ে যান। পরবর্তীতে পত্রিকায় এই বি’ষয়ে সংবাদ দেখে তিনি ঘটনার বি’ষয় নিশ্চিত হন।’

এ ছাড়া তাদের গায়ে হলুদ ও বিয়ে পরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান যথাক্রমে ১৭ ও ২০ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। মা’মলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘তামিমা বা’দীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় নাসিরের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। নাসির বা’দীকে ফোন করে জানান যে সম্পূর্ণ বি’ষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তার নিকট তামিমা আছেন। বা’দীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমার নাসিরকে বিয়ে করা যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনে সম্পূর্ণ অ’বৈধ। আ’সামির সঙ্গে তিনি অ’বৈধ বিয়ের সম্পর্ক দেখিয়ে শা’রীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, যা নিকৃষ্ট ব্যভিচার। ’

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘আ’সামিদের এরূপ অ’নৈতিক ও অ’বৈধ সম্পর্কের কারণে বা’দী ও তার শি’শু কন্যা মা’রাত্মকভাবে মা’নসিক বি’পর্যস্ত হয়েছেন। আ’সামিদের এহেন কার্যকলাপে বা’দীর চ’রমভাবে মানহানি হয়েছে যা বা’দীর জন্য অপূরণীয় ক্ষ’তি।’ মা’মলার বা’দী রাকিব বলেন, আমি প্রতিকার চেয়ে নাসির ও তামিমার বি’রুদ্ধে মা’মলা করেছি।মা’মলায় তামিমার মাকেও আ’সামি করতাম। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে তাকে আ’সামি করিনি। হাজার হলেও আমি তাকে মা বলে ডেকেছি।’ সুত্রঃ জাগো নিউজ