কাদের মির্জা বিএনপি-জামায়াতের মুখপাত্রের মতো বিবৃতি দিচ্ছেন

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 19, 2021 03:59:35 অপরাহ্ন
0
39
ভিউ

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মি’থ্যা, অশোভন আচরণ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নোয়াখালী জে’লা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের নামে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার প্র’তিবাদে নোয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সদর উপজে’লা, পৌর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। শুক্রবার সকাল ১১টায় জে’লা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াদদু পিন্টু লিখিত বক্তব্যে বলেন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা প্রায় দুই মাস থেকে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জে’লা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে অশোভনীয় বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

অথচ বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচনের পূর্ব থেকে প্রচার প্রচারণার সময় যে সকল বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তাতে মনে হয় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে নয়, নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থিত রাজনৈতিক দলের ভোটে। মনোনয়ন পাওয়ার পূর্বে তিনি কখনও আওয়ামী লীগ বা দলের নেতাদের বি’রুদ্ধে কিছুই বলেননি। কিন্তু দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবদুল কাদের মির্জার নাম ঘোষণার পর থেকে উন্মাদের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় সং’সদের বিভিন্ন এমপি, মন্ত্রীসহ জে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এএইচএম খায়রুল আনম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, ওবায়দুল কাদের ও একরামুল করিম চৌধুরীর সহধর্মিনী এবং এমপি পুত্র সাবাব চৌধুরীর বি’রুদ্ধে বি’রোধীদলীয় মুখপাত্রের ন্যায় বিবৃতি দিয়ে আসছেন যা অত্যন্ত দুঃখ ও বে’দনাদায়ক।

শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জে’লার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে ওবায়দুল কাদের ও একরামুল করিম চৌধুরীর অবদান উল্লেখযোগ্য। এতে প্রতীয়মান হয় জে’লার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে কাদের মির্জার মনে প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়েছে। টে’ন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য সম্পর্কে যে সব মি’থ্যা বক্তব্য প্রচার করেছেন, তার সত্যতা প্রমাণে চ্যালেঞ্জ ছু’ড়ে দিয়ে বলেন, তিনি যে সব মি’থ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলোর সত্যতা প্রমাণ করুক।

মির্জা আবদুল কাদেরের পা’গলের প্রলাপের মতো এতো কিছু বলার পিছনে কোনো স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে। আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তা না থাকলে, আবদুল কাদের মির্জার অবস্থান আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত? তিনি অতীতের সব কিছু বুলে গেছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজে’লা আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে দলের গঠনতন্ত্রের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় স’রকার মনোনয়ন বোর্ড ও জে’লা আওয়ামী লীগ এবং তৃনমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে কোম্পানীগঞ্জ উপজে’লার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

কাদের মির্জার এসব অশোভনীয় এবং সংগঠন বি’রোধী অসদাচরণের শা’স্তি দাবি করে বলেন, তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ন্যায় স’চিবালয়ের বিভিন্ন স’চিব, জে’লা ও উপজে’লা প্রশাসনের বি’রুদ্ধে বি’ষেদাগার করেই চলছেন। তার ক্ষমতার দাম্ভিকতায় অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তকে নাজেহাল হতে হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তার এমন আচরণের জন্য দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কাদের মির্জার বি’রুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি সাংগঠনিক পর্যায় থেকে এ মি’থ্যা অ’পপ্রচারমূলক বক্তব্য, অশোভনীয় ও অসদাচরণের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির দাবি করেন।

এ সময় সদর উপজে’লা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জে’লা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম সামছুদ্দিন জেহান, সদর উপজে’লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নাছের, জে’লা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক বিপ্লব ও জে’লা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান বক্তব্য রাখেন। সুত্রঃ কালের কণ্ঠ