চো’র স’ন্দেহে মাদরাসার আলিম শি’ক্ষার্থীকে হা’ত-পা বেঁ”ধে পি”টি’য়ে হ”/ত্যা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 17, 2021 09:33:18 অপরাহ্ন
0
489
views

যশোরের মণিরামপুরে মোবাইল চো’র স’ন্দেহে নি’র্যা’তনে মামুন হাসান (২২) নামে এক মা’দরাসা ছা’ত্রের মৃ’ত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মণিরামপুর হাসপাতালে তার মৃ’’ত্যু হয়।এর আগে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা হা’ত-পা বেঁ”ধে মা’রপি’ট করা হয় মা’দ্রাসা ছাত্র মামুনকে। পরে স্থানীয় একটি ম’সজিদের পাশে তাকে ফে”লে রাখা হয়।

বুধবার সকালে পুলিশ নিয়ে মা ছকিনা বেগম মামুনকে উ’দ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতা’লে ভর্তি করেন।মামুন হাসান মণিরামপুর উপজে’লার খোজালিপুর এলাকার মশিয়ার গাজীর ছে’লে। তিনি মণিরামপুর আলিয়া মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শি’ক্ষার্থী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে চু’রির উদ্দেশে একই গ্রামের আয়নালদের ঘরে উঠতে যায় মামুন ও আরমান নামে দুই যু’বক। তখন তারা মামুনকে ধ’রে মা’রপি’ট করে। রাত তিনটার দিকে আমাকে ঘু’ম থেকে ডে’কে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মামুনের হা’ত-পা বাঁ’ধা। কয়েকজন না’রী ও শি’শু ছাড়া কাউকে পাইনি। আমি বাঁ’ধন খুলে দিয়ে মামুনের বাড়িতে খবর দিই। প্রথমে কেউ আসেনি। আবারও তাদের খবর দেওয়া হয়। এভাবে সকাল হয়ে যায়। ততক্ষণে পুলিশ এসে পড়ে।

আনিছুরের দা’বি, মামুন নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে একাধিকবার বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প (মোটর), মোবাইল ফোন চু’রি করে। আট মাস আগে আয়নালদের একটি ফোন চু’রি করে মামুন। তখন সালিশের মাধ্যমে মোবাইল ফেরত দেয় সে।

তবে গতরাতে নি’র্যা’তনের সময় তার কাছে চোরাই কোনও মালামাল পাওয়া যা’য়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ওই ইউপি সদস্য।

এদিকে, মামুনের সঙ্গে থাকা আরমানকে মঙ্গলবার রাতে হালকা মা’রপি’ট করে ছে’ড়ে দেওয়া হয়। আরমানের বাড়ি কদমবাড়িয়া গ্রামে।

মামুনের মা ছকিনা বেগম বলেন, রাত ১১টার দিকে ভাত খেয়ে বাড়ির পাশে খালা রেহেনা বেগমের দোকানে যায় তার ছেলে। তখন আরমান নামে তার এক বন্ধু মামুনকে ডেকে বাড়ির পাশে হরিহর নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। তাদের দুইজনকে সেখানে দেখে দল পাকিয়ে লো’কজন এসে মামুনকে নদীর পানিতে ফে”লে মা’রপি’ট করে। সেখান থেকে তু’লে আয়নালদের বাড়িতে নিয়ে তাকে পে”টায়। খবর পেয়ে যেয়ে দেখি আমার ছে’লের এ অবস্থা। তখন ওরা বলে, আমার ছে’লে মোবাইল চু”রি করেছে। আমি চো’রাই ফোন দেখতে চাইলে মেম্বার আমারে মা”রতে আসে।

আমার ছে’লেকে সিরাজ, মামুন, আলমগীর, আয়নাল, আকের, ইউনুস, মুরাদ, ইসরাইল, আকতারুল, মিন্টুসহ আরও অনেকে মে’রেছে বলে অ’ভিযোগ করেন ছকিনা বেগম।

ছকিনা বেগম আরও বলেন, রাত তিনটার দিকে যখন আমার ছে’লে মা”রা যাচ্ছিল তখন ওরা চু’রির অ”পবাদ দিয়ে ওর চু’ল কে’টে দেয়। সকালে আমি থানায় এসে পুলিশ নিয়ে যাই। পরে পুলিশের সাহায্যে ওরে মণিরামপুর হাসপাতা’লে ভর্তি করি। হাসপাতা’লের বেডে বিকেল তিনটার দিকে আমার ছে’লে মা”রা যায়।

কাশিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী বলেন, রাতে আনিছুর মেম্বর আমাকে বি’ষয়টি জানায়। মোবাইল চু’রি করতে গেলে মামুনকে জনগণ মা’রপি’ট করে বলে জেনেছি। মামুন কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির ছিল। তবে, আমি কখনও ওর বি’রু’দ্ধে চু”রির সালিশ করিনি।

মণিরামপুর হাসপাতা’লের চি’কিৎসক উলফাত-আরা বলেন, বুধবার সকাল আটটা ২৫ মিনিটে মামুনকে হাসপাতা’লে আনা হয়। তার শ’রীরে আ”ঘাতের চি’হ্ন ছিল। আমরা রো’গীকে স’দর হাসপাতা’লে নিয়ে যেতে বলি। কিন্তু স্বজনরা নেননি। পরে বিকেল তিনটার দিকে চি’কিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ’’ত্যু হয়।

মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম রাত সাড়ে ৮টার দিকে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে আছি। মামুনকে মা’রপি’ট করা হয়েছে এবং হাসপাতা’লে তার মৃ’’ত্যু হয়েছে। যারা মে’রে’ছে তারা চু”রির বি’ষয়টি বলছে। ঘটনার সঙ্গে জ’ড়িত দুইজনকে আ”টক করা হয়েছে। মা’র’পিটের কারণ জানতে অধিকতর ত’দ’ন্ত চলছে বলে জানান ওসি।