টিকটক ভিডিও বানাতে বা’ধা দেওয়ায় স্বামীকে হ’’ত্যা করলেন স্ত্রী!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 17, 2021 03:28:56 অপরাহ্ন
0
110
ভিউ

বরগুনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দিন মৃ’ত্যুবরণ করেন গত বছরের ২৩ মে। কিন্তু তার মৃ’ত্যুর আসল কারণ জানা গেল ৯ মাস পর। জানা গেল, নাসির উদ্দিনের মৃ’ত্যু স্বাভাবিক ছিল না, বরং টিকটক ও লাইকির ভিডিও তৈরিতে বা’ধা দেওয়ায় স্ত্রী ও তার প’রকীয়া প্রেমিকের হাতে খু’ন হয়েছিলেন তিনি। একটি হা’রিয়ে যাওয়া ফোনের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে উন্মোচন হয়েছে সেই হ’’ত্যাকাণ্ডের র’হস্য।

১৩টি অডিও ক্লিপে মিতু ও রাজুর কথোপকথন শুনে জানা যায়, ইচ্ছামতো চলতে এবং টিকটক ও লাইকির ভিডিও তৈরিতে বা’ধা দেওয়ায় স্বামীকে মা’রতে লোক ভাড়া করেছিলেন মিতু। এজন্য ধার করেছিলেন প্রায় ৩০ হাজার টাকাও। সেই টাকার পাওনাদারদের চা’পে মিতু শঙ্কায় ছিলেন। পাওনাদাররা বাসায় এলে তো স্বামী নাসির সব জেনে যাবেন। মূলত এই শঙ্কা থেকেই প্রতিবেশী ও দূর সম্পর্কের আত্মীয় প’রকীয়া প্রেমিক রাজু মিয়াকে নিয়ে হ’’ত্যার চ’ক্রান্ত করেন মিতু।

ওই অডিও রেকর্ড থেকে শোনা যায়, নি’হত শিক্ষকের স্ত্রী ফাতেমা মিতু স্বামীকে নিরাপদে খু’ন করতে প’রকীয়া প্রেমিক রাজুর সঙ্গে ফোন আলাপে ছাগল মানত করার কথা বলে। প্রেমিক রাজুকে মিতু বলেন, ‘দরগায় মানত করছি, আল্লাহ্‌ কামডা যদি সফল হয়, কোনো সাক্ষী-প্রমাণ কিছু না থাকে, তাহলে হের লগে দরগাই যাইয়া এক সপ্তাহের মধ্যে একটা ছাগল কুরবানি দিমু, আল্লাহ্‌ কবুল করো।’ হ’’ত্যার ১০ দিন আগে ১২ মে রাজুকে ফোনে মিতু জানান, তিনি খুবই স’মস্যায় রয়েছেন, সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাজু সহযোগিতার আশ্বাস দিলে মিতু তাকে তার স্বামীকে হ’’ত্যার পরিকল্পনার কথা জানান। পরদিন রাজু ফোন দেন মিতুকে। ১৫ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের আলোচনায় তারা হ’’ত্যার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেন। কীভাবে হ’’ত্যা করা হবে তা নিয়েও আলোচনা করেন তারা। প্রথমে রাজু তাবিজ করে হ’’ত্যার পরামর্শ দেন। কিন্তু মিতু বলেন, ‘এর আগেও স্বামীকে হ’’ত্যার জন্য তাবিজ-কবজ করে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হ’’ত্যার পরিকল্পনা সফল করতে একাধিক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ধার করে খরচ করে ফে’লেছেন।

ঘুমের ও’ষুধ বা ই’নজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বি’ষ প্রয়োগ করে হ’’ত্যা করা যায় কি না, এসব নিয়ে কথা বলেন তারা। একপর্যায়ে উভ’য়ে সিদ্ধান্ত নেন, অতিরিক্ত ঘুমের ও’ষুধ খাইয়ে তাকে অ’চেতন করার পর কম্বলচা’পা দিয়ে শ্বা’সরো’ধে হ’’ত্যা করা হবে। ১৪ মে তিনবার কথা হয় তাদের। রাজু প্রথমে মিতুকে বুঝিয়ে বলেন, ‘হ’’ত্যা না করে ধারদেনার টাকা পরিশোধ করলে হবে কিনা? কিন্তু মিতু রাজি হননি। মিতু বলেন, টাকা শোধ করলেই স’মস্যার সমাধান হবে না। নাসিরকে হ’’ত্যা করতেই হবে, নাসির বেঁচে থাকলেই স’মস্যা।’

পরদিন ১৫ মে আবারও কথা হয় তাদের। রাজুকে মিতু জানান, ২০ তারিখের আগে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে হবে। ১৬ মে আবারও তাদের কথা হয় এবং পাওনাদাররা টাকার জন্য তাড়া দিচ্ছেন কিনা, তা জানতে চান রাজু। ১৮ মে ১৯ মিনিট ২৫ সেকেন্ড কথা হয় রাজু ও মিতুর। এ সময় ফের রাজুকে বাড়িতে আসার জন্য তাড়া দেন মিতু। মিতু বলেন, ‘রাসেল দফাদার নামে এক ব্যক্তির পাওনা টাকা পরিশোধ করতেই হবে। পাওনা টাকার জন্য বাড়িতে এসে জানালে নাসির খুব ঝামেলা বা’ধাবে।

তাই যা করার ঈদের আগেই করতে হবে।’ তখন রাজু বলেন, ‘তিনি যেখানে কাজ করেন সেখান থেকে টাকা নিয়ে ‘সময়মতো’ বাড়ি আসবেন। তার পরই হ’’ত্যা করা হবে নাসিরকে।’ পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের আগেই ২৩ মে রাতে অতিরিক্ত ঘুমের ও’ষুধ খাইয়ে নাসিরকে কম্বল চা’পা দিয়ে শ্বা’সরো’ধে হ’’ত্যা করেন মিতু ও রাজু। মিতু ও রাজুর ফাঁ’স হওয়া এসব অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে চলে আসলে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে আ’টক হন তারা।

পরের দিন নাসিরের ভাই জলিল বা’দী হয়ে বরগুনা থানায় হ’’ত্যা মা’মলা করলে উভ’য়কে গ্রে’প্তার দেখিয়ে আ’দালতে হাজির করে পুলিশ। স্বামী হ’’ত্যার দায় স্বীকার করে আ’দালতে ১৬৪ ধারায় স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দিও দিয়েছে মিতু। গ্রে’প্তার ফাতেমা মিতু বরগুনা পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মো. মাহতাব হোসেনের মেয়ে এবং রাজু মিয়া ঢলুয়া ইউনিয়নের গুলবুনিয়া এলাকার বারেক মিয়ার ছেলে।

এ বি’ষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্ম’দ জাহাঙ্গীর মল্লিক জানান, গত বছরের ২৩ মে ঈদুল ফিতরের আগের দিন রাতে নাসিরের মৃ’ত্যুর খবর পান তার স্বজনরা। পরবর্তীতে নাসিরের স্বাভাবিক মৃ’ত্যু জেনে তাকে স্বাভাবিক নিয়মেই দাফন করে স্বজনরা। ঘটনার আট মাস ১৯ দিন পর তার স্বজনরা জানতে পারেন, নাসিরের স্ত্রী ফাতেমা মিতু ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাজু নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ও’ষুধ খাইয়ে কম্বল চে’পে শ্বা’সরো’ধে হ’’ত্যা করেন। সুত্রঃ আমাদের সময়