জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 12, 2021 10:36:56 পূর্বাহ্ন
0
21
ভিউ

ইসলামঃ শুক্রবার দিনটিকে আরবিতে বলা হয় ‘ইয়াওমুল জুমুআহ’। এই দিনটিকে মহান আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের জন্য অত্যন্ত বরকতময় দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমনকি গরীবদের জন্য এই দিনটিকে তুলনা করা হয়েছে হজ্বের সাথে। আজকের আয়োজনে থাকছে জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব নিয়ে আলোচনা।

শুক্রবারের রয়েছে পাঁচটি বিশেষত্ব : স্রষ্টার পক্ষ থেকে শুক্রবারকে নানা বিশেষত্বে ভরপুর করে দেয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) শুক্রবারের পাঁচটি বিশেষত্ব উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো:
১. এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে।
২. তাঁকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে।
৩. এই দিনেই তিনি মৃ’ত্যুবরণ করেন।
৪. এই দিনে এমন একটি সময় আছে (আসরের পর), এই সময়ে কেউ হারাম জিনিস ছাড়া অন্য কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা মঞ্জুর করেন।
৫. আর এ দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার : উম্মতে মুহাম্ম’দীর জন্য এ দিনটিকে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে মনোনীত করেছেন। এ দিনের বি’ষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদের পথভ্রষ্ট করেছেন। ইহুদিদের জন্য (শ্রেষ্ঠ দিন) শনিবার আর খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার। কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তারা হবে আমাদের পশ্চাদগামী। আমরা পৃথিবীর মধ্যে সর্বশেষ আগমনকারী; কিন্তু সৃষ্টিকুলের বিচার অনুষ্ঠানের দিক থেকে হব সর্বপ্রথম।

সগিরা গুনাহ মোচন করা হয় : কোনো মু’সলিম যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং জুমার নামাজ নিয়মিত আদায় করে আর কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে, তাহলে শুক্রবারের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে দুই জুমার মধ্যবর্তী সব সগিরা গোনাহ মোচন করে দেওয়া হয়।

কবরের আজাব লাঘব করা হয় : শুক্রবার মৃ’ত্যুবরণ করা প্রকৃত মু’সলিমের সৌভাগ্যের নিদর্শন। কেননা শুক্রবারের বরকতে এ দিনে মৃ’ত্যুবরণকারী ব্যক্তি কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভ করেন। হাদিসের ভাষায়, জুমার দিনে অথবা রাতে কোনো মু’সলিম ব্যক্তি যদি মৃ’ত্যুবরণ করে, তাহলে মহান আল্লাহ তাকে কবরের শা’স্তি থেকে রক্ষা করেন। (তিরমিজি, হাদিস : ১০৭৪)

সগিরা গুনাহ মোচন করা হয় : কোনো মু’সলিম যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং জুমার নামাজ নিয়মিত আদায় করে আর কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে, তাহলে শুক্রবারের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে দুই জুমার মধ্যবর্তী সব সগিরা গোনাহ মোচন করে দেওয়া হয়। (মু’সলিম, হাদিস : ২৩৩)

সুরা কাহফ দুই জুমার জ্যোতি : আল্লাহ এ দিনে আর একটি বিশেষ উপহার দিয়েছেন সুরা কাহফের তিলাওয়াতের মধ্যে। যে ব্যক্তি বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়টি আলোকিত থাকবে।