‘বঙ্গবন্ধুকে হ’’ত্যার পর জিয়ার বক্তব্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি’

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 11, 2021 07:20:59 অপরাহ্ন
0
1096
ভিউ

তৎকালীন উপ-সে’না প্রধান জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হ’’ত্যার পর কী বলেছিলেন তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজে বলে দাবি করেছেন । ১১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের বি’রুদ্ধে দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান মেজর হাফিজ।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযো’দ্ধা, মুক্তিযু’দ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য যাকে বীরউত্তম খেতাব দেয়া হয়েছে। তাকে বঙ্গবন্ধুর খু’নি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

মেজর হাফিজ এ সময় বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে আমি সে’নাবা’হিনীতে কর্মরত ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে হ’’ত্যার খবর যখন আমরা পেলাম, ৩২ নম্বরে হা’মলা হয়েছে। তখন সকাল সাড়ে ছয়টা বাজে, তখনও আমাদের গাড়ি আসেনি তাই আমি এবং আমার কমান্ডিং অফিসার কর্নেল সাফায়াত জামিল হেঁটেই অফিসের দিকে রওনা দেই। পথেই পড়ে জিয়াউর রহমানের বাড়ি, তিনি তখন সে’নাবা’হিনীর উপ-প্রধান ছিলেন। আমরা দুজনই তখন আলাপ করলাম, আমরা দুজনই মুক্তিযু’দ্ধের সময় জিয়ার ‘জেড ফোর্সে’ ছিলাম। তাই জিয়াকে বি’ষয়টি জানিয়ে যাই। সিদ্ধান্ত মোতাবেক জিয়ার বাসায় ঢুকলাম, কলিংবেল বজালাম, তিনি বেরিয়ে এলেন, পায়জামা ও গেঞ্জি পরা, গ’লায় টাওয়েল ঝুলানো, মুখে সাবান লাগানো। তিনি এসে বললেন, ‘হোয়াট হ্যাপেন’। কর্নেল সাফায়াত উত্তর দেন ‘স্যার, প্রে’সিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হ্যাজ বিন কিল্ড।’

মেজর হাফিজ বলেন, জিয়াউর রহমানকে কী অ’ভিযুক্ত করা হয়, আর তিনি কী জবাব দিয়েছিলেন তার সাক্ষী তো আমি (হাফিজ)। জিয়া উত্তর দিয়েছিলেন, ‘উই আর সোলজার, আমরা সংবিধানকে সমুন্নত রাখবো, লেট হ্যাজ আপ এ হোল্ড দ্যা কনস্টিটিউশন, গো অন গেট ইউর ট্রুপ্স রেডি।’ এমন একজন সৈনিক, এমন একটা লোমহর্ষক ঘটনার সময় সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলছেন। সেই ধরনের ব্যক্তিকে বঙ্গবন্ধুর হ’’ত্যার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হ’’ত্যার তো বিচার হয়েছে, কেউ তো বলেননি জিয়াউর রহমান হ’’ত্যার সঙ্গে জ’ড়িত। মূলত স’রকার দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। জাতিকে দেবার কিছুই নেই, আন্তর্জাতিক ভাবে তাদের কে’লেঙ্কারি প্রতিদিন ফাঁ’স হচ্ছে। জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছে স’রকার, উল্লেখ করেন মেজর হাফিজ।

অনেক ঘটনা দেখেছি কিন্তু এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হবো তা কখনও ভাবিনি মন্তব্য করে হাফিজ বলেন, জিয়ার ‘বীরউত্তম’ খেতাব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে। স্বাধীনতার ঘোষণাকে বর্তমান স’রকার অ’পরাধ হিসেবে দেখে বলেই এত ক্ষো’ভ। হাফিজ অবাক হয়ে প্রশ্ন করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার যে ঘোষণা দেয়ার কথা তা তিনি (জিয়া) দিয়েছেন, এটাই তার অ’পরাধ? এ সময় তিনি দাবি করেন, কে মন্ত্রী ছিল আর কে মুক্তিযো’দ্ধা মন্ত্রী ছিলেন তা কেউ মনে রাখবে না, জিয়ার নাম মনে রাখবে ইতিহাস।

বর্তমান স’রকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর হ’’ত্যার সঙ্গে জিয়াকে জড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অ’ভিযোগ করেন। জিয়া কোন ষ’ড়যন্ত্রের সঙ্গে জ’ড়িত ছিলেন না বলেও দাবি তার।

ক্ষো’ভ নিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, জাতীয় মুক্তিযো’দ্ধা কাউন্সিল-জামুকা’র তো এগুলো কাজ না, স্বাধীনতার খেতাব বীর উত্তম, বীর বিক্রম কে পাবেন কে পাবেন না, রাষ্ট্রপতি, সে’নাপ্রধান কি পদক পেলেন বা পদক কেড়ে নেবেন এ কথা বলার এখতিয়ার তারা রাখেন? তারা দেখবে কোন মুক্তিযো’দ্ধা ভাতা পাবে, কে পাবে না। কোথায় জিয়াউর রহমান আর কোথায় এগুলো!বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ.সুত্রঃ সময়