‘৩ পেগ ম’দ পানের পর আমার র’ক্তবমি হয়’

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 6, 2021 09:43:21 পূর্বাহ্ন
0
125
ভিউ

সারাদেশঃ রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে পার্টিতে ম’দপানের পর বেস’রকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃ’ত্যুর ঘটনার পর নি’হত ওই ছাত্রীর বান্ধবী ফারজানা জামান নেহাকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ। গ্রে’প্তার নেহা সেদিনের ঘটনা আ’দালতে তুলে ধরেছেন। শুক্রবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) নি’হত ওই ছাত্রীর বান্ধবী নেহাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আ’দালতে হাজির করা হলে তিনি এ বি’ষয়ে আ’দালতকে অবগত করেন।

তিনি আ’দালতকে বলেন, ওই দিন রেস্টুরেন্টে ম’দপান করার পর আমার মুখ দিয়ে র’ক্ত ও বমি বের হয়। তখন সেখান থেকে আমি বাসায় চলে যাই। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। নেহা আরো বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি আমার বন্ধু আরাফাতের নিমন্ত্রণে উত্তরার ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে যাই। সেখানে গিয়ে আরো কয়েকজনকে দেখতে পাই। আমি আরাফাত ছাড়া অন্য কাউকে চিনতে পারিনি। সেখানে আমি ম’দপান করি। ৩ পেগ পান করার পর আমার মুখ দিয়ে র’ক্ত বের হয় এবং বমিও হয়।

আমি তখন সেখান থেকে বাসায় চলে যাই। বাসায় যাওয়ার পরও আমার কয়েক দফা বমি হয়। এমন পরিস্থিতিতে আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। মা’মলার সুষ্ঠু ত’দন্তের জন্য শুক্রবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) নেহাকে ৭ দিনের রি’মান্ডে নিতে আবেদন করেছিলেন ত’দন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার তার ৫ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর আজিমপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নেহাকে গ্রে’প্তার করা হয়। প্রা’ণ হা’রানো ছাত্রীর বাবার করা মা’মলায় তিনি এজাহারভুক্ত আ’সামি।

তারও আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসির আ’দালতে এজহারের অ’জ্ঞাত আ’সামি হিসেবে আত্মসমর্পণ করে জা’মিন আবেদন করেন আরাফাতের বন্ধু শাফায়াত জামিল (২২)। আ’দালতে হলফনামা দিয়ে মা’মলায় সম্পৃক্ততার ইচ্ছা প্রকাশ করেন শাফায়াত। এরপর বিচারক মা’মলায় তাকে গ্রে’প্তার দেখিয়ে জা’মিন আবেদন নামঞ্জুর করে কা’রাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ওই ছাত্রীর বাবার মা’মলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় মর্তুজা রায়হান ওই ত’রুণীকে নিয়ে মিরপুর থেকে আরাফাতের বাসায় যান। সেখানে স্কুটার রেখে আরাফাত, ওই ত’রুণী এবং রায়হান একসঙ্গে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ব্যাম্বু সুট রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে আগে থেকেই আরেক আ’সামি নেহা এবং একজন সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আ’সামিরা ওই ত’রুণীকে জো’র করে ‘অধিক মাত্রায়’ ম’দপান করান।

ম’দপানের একপর্যায়ে ওই ত’রুণী অ’সুস্থ বোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্ম’দপুরে ওই ত’রুণীর বান্ধবী নুহাত আলম তাফসীরের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ওই ত’রুণীর সঙ্গে রায়হানের একাধিকবার শা’রীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়। এক পর্যায়ে রাতে ওই ত’রুণী অ’সুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খানকে ফোন দেন। সেই বন্ধু পরদিন এসে ত’রুণীকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তার মৃ’ত্যু হয়।

ওইদিনই ৪ জনকে আ’সামি করে রাজধানীর মোহাম্ম’দপুর থানায় মা’মলা করেন নি’হত ত’রুণীর বাবা। মা’মলায় অ’জ্ঞাতনামা আরো ১ জনকে আ’সামি করা হয়। ৩১ জানুয়ারি মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসীরের ৫ দিন করে রি’মান্ড মঞ্জুর করেন আ’দালত। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জন গ্রে’প্তার হয়ে রি’মান্ডে রয়েছে। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক বলছেন, মা’রা যাওয়া ওই ছাত্রীর শরীরে কোনো আ’ঘাত বা জ’খমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। যাতে মনে হচ্ছে, ভে’জাল ম’দের বি’ষক্রিয়ায় তার মৃ’ত্যু হয়েছে।