শখের বসে স্পেশাল ‘আগুন পান’ পান খেয়ে চাকরিজীবী এখন পান দোকানি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 4, 2021 06:52:57 অপরাহ্ন
0
91
ভিউ

নগরীর উপকণ্ঠ কা’টাখালী পৌরসভায় বাড়ি মো. ডলার (৩৫) নামের যুবকের। পেশায় তিনি রাজশাহী সুগার মিলের পাম্প চালক। অবসর সময়ের অধিকাংশই কাটে ই’উটি’উব ও ফে’সবু’কের ভিডিও দেখে। সে থেকেই মাথায় চি’ন্তা আসে চাকরির পাশাপাশি ব্যতিক্রমী কিছু করার।

শখের বসে একবার নগরীর উপশহর আবাসিক এলাকার পান বিক্রেতা চঞ্চলের কাছে থেকে খে’য়েছি’লেন স্পেশাল ‘আগুন পান’। তারপর থেকেই সিদ্ধান্ত নেন চাকরির পাশাপাশি তিনিও বে’চবেন হরেক রকমের বাহারি পান।

নগরীর কা’টাখালীর রাজতিলক সিনেমা হলের পাশেই তার দোকান। নাম নিউ রুবাইয়া ভ্যা’রাইটি স্টোর। দুবছর ধরে ভালোই জমিয়েছেন তিনি। কিন্তু ক’রো”নাকা’লে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ব্যবসা আগের তুলনায় একটু কম হচ্ছে। তবে খাবার হোটেলের পাশে পানের দোকান হওয়ায় মোটামুটি চা’লিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসা। তারপরও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ কিছু মানুষ আসেন তার রসালো সুস্বাদু স্পেশাল পান খেতে।

বিশেষ করে স্পেশাল ‘আগুন পান’ খেতে। নানা ধরনের ব্যবসা থাকার পরও পান ব্যবসায় আসার কারণ জানতে চাইলে এই প্রতিবেদকে তিনি জানান, সর্বপ্রথম ফে’সবু’কে ইন্ডিয়ার ‘আগুন পান’ এর একটি ভি’ডি’ও দেখেন। দূর-দূরান্ত থেকে ওই পান দোকানির পান খেতে লোকে পাড়ি জমায়। ব্যবসা করে কপালও খুলেছে সেই ভারতীয় পান দোকানির। সেই ভি’ডি’ওটি তার মনে গাঁথে।

কিন্তু কা’লক্রমে নিজ শহরে একদিন চঞ্চলের কাছে পেয়ে যান ‘আগুন পান’। পরবর্তীতে চঞ্চল নামের ওই যুবকের কাছে শিখ’তে চান পান বানানোর রহ’স্য। প্রথমে না শেখাতে চাইলেও পরবর্তীতে ডলারের নাছোড়বা’ন্দা হয়ে লেগে থাকায় তাকে শেখান ‘আগুন পান’-এর রহ’স্য। তবে শর্তজুড়ে দেন চঞ্চল- ‘কাউকে না শেখানোর’। চঞ্চলকে গুরু মেনে শুরু করেন পানের ব্যবসা। চাকরির ডি’উটির সময় শেষে পরের সময়গুলো কাজে লা’গান পানের দোকানে। এখন জ’মিয়ে ফেলেছেন স্পেশাল ‘আগুন পা’ন’ এর জমজমাট ব্যবসা।

চঞ্চল জানান, কিছুদিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে স্পেশাল ‘আগুন পান’ খেতে এসেছিলেন পুলিশের এক এসপির কন্যা। রো’মাঞ্চ’ক’র ও রসালো সুস্বাদু এই পান খাওয়ার পর ক্রে’তা দিয়েছেন অতিরিক্ত বখশিস। ৬০ রকমের বাহারি দেশি-বিদেশি মসলার সম’ন্বয়ে তৈরি হয় স্পেশাল ‘আগুন পান’। চেরি, কিসমিস, সুইট বল, কাজু বাদাম, মোরব্বা, ইন্ডিয়ান হীরা-পান্না, ইন্ডিয়ান রয়েল মিক্সড, ইন্ডিয়ান শাহী মসলা, ইন্ডিয়ান পাস-পাস, পান বিলাস, গোলাপ চাটনি, পাকিস্তানি শাহী মোয়া, স্পেশাল সুগন্ধি, তবক পেপার ও বিদেশি স্পেশাল জেলির মতন কিছু ব্যতিক্রম ধরনের উপাদানও থাকে এ পানের মধ্যে।

এছাড়াও এতে থাকে- ধনিয়া, মহুরি, যাওন, কালোজিরা, দারুচিনি, নারিকেল বাহারি মিষ্টি জর্দ্দার মতন নানান পদের মসলা।সব মসলা দেয়ার পর তবক পেপার ও তার ওপর একটি স্পেশাল পানের জে’ল মিশিয়ে নেন। সেখানে আগুন দিলেই জ্ব’লতে থাকে পান। জ্ব’লন্ত আ’গুন পানটি হাতে নিয়ে গ্রাহককে বড় করে মুখ হা করতে বলেন, পরে পুরে দেন মুখের ভেতর। মুখ বন্ধ করলেই আগুনও নি’ভে যায়। তারপর মিলে এক অসাধারণ সু’ঘ্রা’ণ সমৃদ্ধ রসালো পানের আমেজ।

এই স্পেশাল ‘আগুন পান’ এর মূল্য মাত্র ৪০ টাকা। মাসে প্রায় দুই থেকে তিনশত আগুন পান বিক্রি হয় তার। প্রতিদিন সবধরনের পান মিলিয়ে বিক্রি হয় প্রায় ২-৩ হাজার টাকা। প্রতিদিন লাভ হয় প্রায় ৮০০ থেকে হাজার খানেক টাকা। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চলাকালীন প্রতিদিন ৫-৬ হাজার টাকার পানই বিক্রি হতো তার। লাভও থাকতো ২-৩ গুণ। বর্তমানে ডলারের কাছে খুব বেশি পানের ধরন নেই। বর্তমানে স্পেশাল ‘আগুন পান’ এর পাশাপাশি রয়েছে- মিষ্টি পান, মসলা পান ও সাধারণ পান। তবে তিনি জানিয়েছেন, খুব অচিরেই নিয়ে আসবেন- বম্বে শাহী পান, বউ সোহাগী পান, ভালোবাসার পান, হাসা-হাসি পান।

ওই পানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘ধোঁয়া পান’। এই ধোঁয়া পানের বিশেষত্বের বিষয়ে তিনি জানান, এই পান যতই চা’বাবেন ততই ধোঁয়া বের হবে। কারণ এতে দেয়া থাকবে একটা স্পেশাল কেমিক্যাল জাতীয় মসলা। তবে তিনি জানান এ ধোঁয়া পানের কোনো পার্শ্ব প্র’তিক্রি’য়া নেই। পান বিক্রেতা ডলার জানান, ক’রো’না’র সময় অনেক স্পেশাল মসলা শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই নানা ধরনের প্রয়োজনীয় মসলা তিনি আনতে পারছেন না ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান থেকে।

এক কন্যার জনক ডলার। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করে ভালোই সচ্ছলভাবে যাচ্ছে তার জীবন। এ পান ব্যবসা করেই তার দোকানের পাশেই ছোট ভাইকে গার্মেন্টেসের দোকান করে দিয়েছেন তিনি। বাবা-মা পরিবারসহ ভালোভাবেই চা’লিয়ে নিচ্ছেন সংসার। তার আশা শুধু রাজশাহীই নয়, পুরো বাংলাদেশে পান নিয়ে হ’ইচই ফেলবেন তিনি।