কেউ দুটি হাত লাগিয়ে দিলে ছেলেকে ছুঁয়ে দেখবো, আদর করবো!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 4, 2021 06:22:25 অপরাহ্ন
0
71
ভিউ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ আমার ২ মাসের শিশুকে আদর যত্ন করতে পারি না,হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতেও পারি না, তাই মন কাঁদে। কেউ দুটি কৃত্তিম হাত লাগিয়ে দিলে ছেলেকে আদর করতাম।

অন্যন্যের সাহায্য ছাড়া কোন কিছুই করতে পারি না, খুব কষ্ট লাগে। এভাবেই কান্না জড়িত কন্ঠে আক্ষেপ নিয়ে এসব কথা বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতর বন্দ ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে আশিক আহমেদ (২৫)।

আশিক আরও বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারনে বিদ্যুতায়িত হয়ে আজ আমার দুই হাত ও ডান পা বিছিন্ন হয়েছে। চিকিৎসায় অনেক টাকা ব্যয় করার পরেও অনেক কষ্ঠ করে একটি কৃত্রিম পা লাগিয়েছে পরিবার। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন যদি কৃত্রিম হাত ও একটা কর্মের ব্যবস্থা করে দিতেন আল্লাহর রহমতে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে সুখে দুঃখে থাকতাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামের স্থানীয় ইটভাটার শ্রমিক রফিকুল ইসলামের ছেলে আশিক, ২০১৫ সালে স্থানীয় কুমরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করার পর,বাবার অভাব অনটনের সংসারের হাল ধরতে দিনমজুর হিসাবে কাজ শুরু করেন, কুড়িগ্রাম- লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগেশ্বরী জোনাল অফিসে। এভাবেই কাজ করতে করতে একদিন বিদ্যুৎ বিভাগের অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎতের খুঁটিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে আশিকের দু হাত ও একটি পা বিছিন্ন হয়।

আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে কাজের জন্য নাগেশ্বরী জোনাল অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রতিদিনের ন্যায় অফিস নির্ধারিত সার্ভিস অর্ডারভুক্ত হয়ে ওই উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদ হোসেন সরকারের বাড়িতে সেচের নতুন সংযোগের মিটার ও ট্রান্সফর্মার উত্তোলন করতে যায়। সে সময় আশিক কাজ শুরু করার আগে বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করতে অফিসের লাইন টেকনিশিয়ানকে বলেন, পরে লাইন বন্ধ করলেও আশিকের কাজ শেষ না হতেই তার কাছে ক্লিয়ারেন্স না নিয়েই হঠাৎ করে বিদ্যুতের লাইন চালু করলে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয় আশিক।

পরে তাকে দ্রুত আসঙ্কাজনক অবস্থায় নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজে নেয়ার পরামর্শ দেন। এরপর আশিককে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখান থেকেও তাকে দ্রুত ঢাকা বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার দু-হাত ও এক পা কেটে ফেলা হয়। আর সেখানে চিকিৎসায় ব্যয় হয় লাখ লাখ টাকা। তার পর থেকেই আশিকে জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।

আশিকের মা আনজিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে বিদ্যুৎতের কাজ করতে গিয়ে দুই হাত ও একটি পা হারিয়ে ফেলে। সে বাথরুমে যেতে পারে না,খাইতে পারে না। একায় কোন কাজ ও চলতে পারে না খুব কষ্ট লাগে তাকে দেখে। তার স্ত্রী সন্তান আছে আশিকের বাবা মারা গেলে কি ভাবে চলবে আমার ছেলে, এসব কথা ভেবে কিছু ভালো লাগে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মা হিসাবে আমার আবেদন তার যেন একটা কর্মের ব্যবস্থা করে দেন।

আশিকের দাদু বৃদ্ধ এন্তাজ উদ্দিন জানান, আশিক আমার নাতি হয়,বিদ্যুৎতের কাজ করতে ওর দুই হাত ও একটা পা হারায়। চিকিৎসা করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তার পরেও একটা কৃত্রিম পা লাগিয়ে কোনরকম চলছে। তার কাছে আর কোন টাকা নাই,সরকার যদি তার দুইটি কৃত্রিম হাত দিতেন এটাই আমার আবেদন।

স্থানীয় মজিবর রহমান বলেন, আশিক বিদ্যুৎ বিভাগে দিনমজুরের কাজ করছিলেন। হঠাৎ একদিন বিদ্যুৎতের খুঁটিতে একটি দূর্ঘটনায় তার দুইটা হাত ও একটি পা অকেজো হয়ে যায়। বহু দিন চিকিৎসা করার পরেও সে অকেজো হয়ে আছে। আজ না হয় তার মা বাবা আছে, কয়দিন পর না থাকলে তার কি হবে? এ কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন আশিকের যেন একটা ব্যবস্থা করে দেয়।

এ বিষয়ে ভিতর বন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার আমিনুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে আশিককে যা সহযোগিতা করা হয়েছে, সেটা খুবই সামান্য। তাকে আমরা পঙ্গু ভাতা করে দিয়েছি,তাছাড়াও অন্যন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

এছাড়াও আশিক আহমেদকে কেউ সহযোগিতা বা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করা যাবে (০১৭২৩৯৮৩৬১৬) নম্বরে।