অজগরের খাঁচায় গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে অ’সহায় খরগোশ, কাঁ’দাচ্ছে মিরপুরের ছবিটি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 3, 2021 02:39:32 অপরাহ্ন
0
657
ভিউ

অজগর সাপের খাঁচার গ্রিল ধরে অ’সহায়ভাবে তাকিয়ে আছে একটি খরগোশ। তার পাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করছে একাধিক অজগর সাপ। সম্প্রতি মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার এমন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিকমাধ্যমে।
শুক্রবার চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাওয়া কোনো এক দর্শনার্থী ছবিটি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। অজগরের খাঁচায় থাকা খরগোশটি ক্ষুধার্থ দাবি করে বাইরে থেকে দর্শনার্থীরা খাবারও দেন।

খবর পেয়ে পরদিন চিড়িয়াখানায় যায় বাংলাদেশ র‌্যা’­বিট গ্রুপ নামে একটি খরগোশপ্রে’মী সংগঠনের কয়েকজন সদস্য। তারাও গিয়ে খরগোশটিকে দেখতে পায় এবং সেটিকে মুক্ত করে দেয়ার দাবি তুলে। এ নিয়ে বা’গবি’ত’ণ্ডাও হয় উভ’য়পক্ষের মধ্যে।

খরগোশপ্রে’মী সংগঠনটির নেতারা বলছেন, আধুনিক যুগে এসে জীবিত একটি প্রা’ণীকে এভাবে প্রকাশ্যে হিং’স্র প্রা’ণীর খাঁচায় ফে’লে রাখা হ’ত্যার চেয়ে বেশি অ’মানবিক। তা ছাড়া অজগরের খাদ্য হিসেবে দেয়া ছোট প্রা’ণীটিকে অজগরের খাবারে পরিণত হওয়া পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না খাবার কিংবা চিকিৎসা, যাকে মধ্যযুগীয় ব’র্বরতা বলছে বাংলাদেশ র‌্যা’­বিট গ্রুপ। এতে দর্শনার্থীদের মনেও হিং’স্রতার বিজ বপন হচ্ছে বলেও মনে করছে তারা।

খরগোশপ্রে’মীদের দাবি, যেকোনো মাংসাশী প্রা’ণীকে খরগোশসহ অন্য যে কোনো প্রা’ণী খেতে দিতে হলে তা সহ’জভাবে হ’ত্যা করে তারপর খাওয়াতে হবে। একই সঙ্গে খাবার হিসেবে সরবরাহের পূর্ব পর্যন্ত ওই প্রা’ণীকে খাদ্য, চিকিৎসা’সহ তার প্রাপ্য সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এভাবে জীবিত প্রা’ণী খেতে দেয়া অ’মানবিক বলে স্বীকার করলেও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে মাংসাশী প্রা’ণীর স্বা’স্থ্য সুরক্ষার স্বার্থেই জীবিত খরগোশ দিতে হচ্ছে তাদের।

জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রা’ণী চিকিৎসক ডা. নাজমুল হুদা বলেন, মাংসাশী প্রা’ণীরা বন্যপরিবেশে নিজে শি’কার ধরে খেয়ে অভ্যস্ত। চিড়িয়াখানার পরিবেশে অধিকাংশ সময় আম’রা তাদের জ’বাই করা গবাদিপশুর মাংস দিচ্ছি, যা তাকে অলস করে দিচ্ছে। ফলে পরিশ্রম কমে যাওয়ায় এসব প্রা’ণী দ্রুত অ’সুস্থ হয়ে যায়। যার কারণে সপ্তাহে দু-একদিন জীবিত প্রা’ণী দেয়া হয় যেন কিছুটা হলেও নিজস্ব পরিবেশ পায় এবং একটিভ থাকে।

বিশ্বের অধিকাংশ চিড়িয়াখানায় এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় বলে জানিয়ে, শি’কার ধরে খেলে মাংসাশী প্রা’ণীর প্রজনন ক্ষমতাও বাড়ে বলেও দাবি এ প্রা’ণী চিকিৎসকের।

এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে সাপ বিশেষজ্ঞ ইউএসএর আশেকো ফেলো আবু সাইদ জানান, বন্যপ্রা’ণীরা শি’কার ধরে খেয়ে অভ্যস্ত হলেও চিড়িয়াখানার এ পদ্ধতি সত্যিই অ’মানবিক। বিশেষ করে মানুষের সামনে প্রদর্শন হওয়ায় মা’নসিক চা’প তৈরি করার শ’ঙ্কা বেশি। এ জন্য বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন।

পুরো চিড়িয়াখানা প্রথাই সব প্রা’ণীর জন্য অ’মানবিক বলে মন্তব্য করে দ্রুত ঢাকা চিড়িয়াখানাকে সাফারি বা ওপেন জু পদ্ধতিতে যাওয়ার পাশাপাশি সাময়িক স’মস্যা সমাধানে কিছু পরাম’র্শও তুলে ধরেন এ বন্যপ্রা’ণী গবেষক।

তার মতে, প্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে খাদ্যে পরিণত হওয়া প্রা’ণীটিকে হ’ত্যা করে তা’জা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এ জন্য প্রথমে চিড়িয়াখানার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তারপর ওইসব মাংসাশী প্রা’ণীকেও অভ্যস্ত করাতে হবে। এ পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন বলে জানিয়ে, আপাতত সাপের মতো নিশাচর প্রা’ণীদের রাতে খাবার দিয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের আগেই তুলে নেয়ার পরাম’র্শ দেন তিনি।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আব্দুল লতিফ বলেন, সাপ শীতকালে কম খায় এবং জুবুথবু হয়ে পড়ে থাকে। গরমের দিনে খাবার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফে’লে। যার কারণে দর্শনার্থীদের দৃষ্টিতে আসে না। কিন্তু শীতকাল হওয়ায় সাপ খরগোশটিকে খায়নি বলেই এ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সমালোচনা শুরুর পর থেকে আশপাশের বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানার সঙ্গে এ বি’ষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশের চিড়িয়াখানা একই পদ্ধতি গ্রহণ করছে। তবে যেই দাবি উঠেছে সেটাকে একদমই অযৌক্তিক বলা যায় না। আম’রা বি’ষয়টি ভাবছি।

গবেষকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটা সমাধান বের করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন চিড়িয়াখানার শীর্ষ এ কর্মক’র্তা।