থমথমে মিয়ানমার, সু চি কোথায়?

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 2, 2021 10:21:04 অপরাহ্ন
0
22
ভিউ

মি’য়ানমারে সোমবারের সে’না অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন রাস্তায় রাইফেল কাঁধে টহল দিচ্ছে সৈন্যরা। দেশটির নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী এনএলডি নেতা অং সান সু চিকে নিজ কম্পাউণ্ডে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। খবর বিবিসির।

ইয়াঙ্গুনে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এয়ারপোর্টের ম্যানেজার। মি’য়ানমার টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, আগামী ১ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক এ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে এবং বাতিল করা হয়েছে সব ধরনের ফ্লাইট উঠা নামার অনুমতি।

অং সান সু চিসহ এনএলডি নেতাদের আ’টকে রাখা হলেও বেশিরভাগ স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রীকে মুক্তি দিয়ে বাসায় গৃহব’ন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে সু চির একজন প্রতিবেশী তাকে দেখেছেন নিজ বাসার কম্পাউন্ডে।

এনএলডির প্রেস অফিসার কি তো এএফপিকে বলেছেন , ‘তার প্রতিবেশী একজন জানিয়েছেন, সু চি ভালো আছেন জানাতে কিছু সময় তিনি কম্পাউন্ডে হাঁটাহাঁটি করেছেন।”

তবে সে’না কর্তৃপক্ষের দিক থেকে এখনো এনএলডি নেত্রীর বি’ষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে তাকে গৃহব’ন্দী করে রাখা হয়েছে।

মি’য়ানমারে এখন যা হচ্ছে
অভ্যুত্থানের একদিন পর মি’য়ানমারের আজকের অবস্থা অনেকটা ‘স্বস্তিহীন শান্তি’র মতো।
বড় শহরগুলোতে সৈন্যরা টহল দিচ্ছে এবং রাস্তাঘাটগুলো নিরব হয়ে পড়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে রাত্রিকালীন কারফিউ।

ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ আবার চালু হয়েছে মঙ্গলবার সকাল থেকে। যদিও ইয়াঙ্গুনে অনেকেই মনে করছেন, গণতন্ত্রের জন্য তাদের দীর্ঘ লড়াই হেরে গেছে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে প্র’তিবাদও দেখা যাচ্ছে। যেমন স’রকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা অং সান সু চির মুক্তির দাবিতে বুধবার থেকে কাজ বন্ধের হু’মকি দিয়েছে। সা’মরিক অভ্যুত্থানের বি’রুদ্ধে তারা কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন।

ডা. নাইং তু অং বিবিসি বার্মিজকে বলেছেন, ‘এ ধরনের অভ্যুত্থান সহ্য করা যায় না। দেশ ও জনগণকে পরোয়া করে না এমন সা’মরিক শাসকের অধীনে কাজ করতে পারি না বলে আমি পদত্যাগ করেছি। তাদের প্রতি এটাই আমার সমুচিত জবাব।’

হ’তাশা ও ক্ষো‘ভ
ইয়াঙ্গুন থেকে বিবিসি বার্মিজ জানিয়েছে, একদিন আগের সে’না অভ্যুত্থানকে হজম করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে পঞ্চাশ লাখ মানুষের শহর ইয়াঙ্গুন। আজ সকালেও রাস্তাগুলো ছিলো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেকটাই নীরব।

টেলিযোগাযোগ ফিরে আসায় আ’তঙ্কও কিছুটা কমে এসেছে। একদিন বন্ধ থাকার পর বেস’রকারি ব্যাংকগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। রাজধানী নেপিডোতে পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে সৈন্যরা ট্যাংক নিয়ে টহল দিচ্ছে।

এবারের অভ্যুত্থান র’ক্তপাতহীন হলেও ক’রোনা পরিস্থিতির মধ্যে অর্থনীতির ও’পর এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাবের আ’শঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক নি’ষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশী বিনিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার ভয় অনেককে হতাশ ও ক্ষু’ব্ধ করে তুলেছে।

সুচির বি’ষয়ে কোনো স’রকারি তথ্য নেই
সোমবার ভোরে আ’টক হওয়ার পর থেকে অং সান সু চি কি অবস্থায় আছেন সে সম্পর্কে স’রকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি। এনএলডির সূত্র গুলো অবশ্য বলছেন তিনি ও প্রে’সিডেন্ট উইন মিন্ট দুজনেই গৃহব’ন্দী অবস্থায় আছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে একজন এমপি বলেছেন, ‘আমাদের উ’দ্বি’গ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যদিও আমরা উ’দ্বি’গ্ন। আমরা যদি তাদের ছবি দেখতে পেতাম তাহলেও স্বস্তি বোধ করতাম।’

এছাড়া আ’টক এমপিদের রাখা হয়েছে তাদের স’রকারি ভবনেই যাকে একজন এমপি আখ্যায়িত করেছেন ‘ওপেন এয়ার ডিটেনশন সেন্টার’ হিসেবে।

অং সান সু চি ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আ’টক অবস্থায় ছিলেন। এবার আ’টকের আগ মূহুর্তে দেয়া বিবৃতিতে তিনি জনগণকে অভ্যুত্থানের বি’রুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।