তিন সাংবাদিক নির্যাতনের ছবি ফেসবুক জুড়ে

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 2, 2021 08:16:07 অপরাহ্ন
0
41
ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার: তাহিরপুরের সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে । সাংবাদিক কামালের সঙ্গে আরো দুটি ছবি যুক্ত করে ভাইরাল করা হয়েছে নির্যাতনের শিকার ময়মনসিংহের সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক ও কক্সবাজারের সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা । এদিকে তিন জন সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব ও সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সারাদেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উকিলপাড়া এলাকায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এবং দুপুর ১২টায় ট্রাফিক পয়েন্টে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বিজন সেন রায়, যুগ্ম সম্পাদক হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সহসভাপতি মাসুম হেলাল ও দৈনিক সুনামগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক মো. সেলিম আহমদ প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে নির্মমভাবে সাংবাদিক নির্যাতনকারী বালু খেকোদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

গত সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দৈনিক সংবাদের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে পাড় কেটে বালু পাথর উত্তোলনের ছবি তোলার চেষ্টা করলে পাথর খেকো চক্র তাকে মারধর করে এবং ঘাগটিয়া চকবাজারে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। ভিডিও চিত্রে দেখো যায়, পাথর ও বালু খেকোরা তাকে গাছে বেঁধে মারধর করছে।

সাংবাদিক কামালের মাথা, কপাল ও চোখে আঘাত করেন অবৈধ বালু উত্তোলনকারী শ্রমিকরা। তিনি তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক শুভ প্রতিদিনের উপজেলা প্রতিনিধি। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে যাওয়ায় গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক কামাল হোসেন। তার কাছ থেকে ক্যামেরা, মোবাইল ফোনসেট ও মোটরসাইকেল নিয়ে যান নির্যাতনকারীরা।
অন্যদিকে দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন পর জামিনে কারামুক্ত হন কক্সবাজাওে নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা।

ফরিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ তাকে মিথ্যা মামলায় আসামি বানিয়েছিলেন। প্রদীপের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরেই ফরিদকে এই জেল ও জুলুমের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বাড়িতে তাকে নিয়ে গিয়ে কথিত অভিযান চালানো হয়। ওই সময় গুলিসহ দুটি অস্ত্র, চার হাজার পিস ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার হয় বলে দাবি করে পুলিশ।

গত বছরের ৩০ জুন ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় চাঁদাবাজি মামলা রুজু হয়। যার মামলা নম্বর-১১৫, জিআর নম্বর-৩১৬/১৯। এরপর পুলিশ তাকে খুঁজতে থাকে। আত্মরক্ষায় ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যায় ফরিদুল মোস্তফা। নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর গত বছরের ২৮ জুলাই পৃথক আবেদনও করেন।

সাংবাদিক ফরিদের পরিবারের দাবি, উক্ত আবেদনের তদন্ত না করে উল্টো টেকনাফ থানা ও কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মিরপুর থানার পুলিশের সহায়তায় ‘ওয়ারেন্ট’ দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

অপরদিকে ময়মনসিংহে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আকরাম হোসেন ও তার টিম সদস্যরা নির্যাতন চালায় সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের উপর। রফিক দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি ও দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিনের সম্পাদক। দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় ডিবির অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর জেরে ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে নিউ মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিকের সামনে থেকে তাকে আটক করে। ডিবির এসআই আকরাম হোসেনসহ সাদা পোশাকধারী অজ্ঞাত ৭-৮ জন আমাকে চোখ বেঁধে একটি হায়েজ গাড়িতে তুলে নেন। গাড়িটি পুরাতন গোদারাঘাটের ওপারে চরাঞ্চলে যায়। তখন ডিবির এসআই আকরাম হোসেনের মোবাইল ফোনে অপর প্রান্ত থেকে একজন বলছেন, ‘রফিককে আটকের খবর সাংবাদিকরা জেনে গেছে। তাকে এ মুহূর্তে ক্রসফায়ারে দেয়া যাবে না। তাড়াতাড়ি তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে আসো।’ ফোন লাউড স্পিকারে ছিল। সাংবাদিক রফিক কোনো অপরাধী না হয়েও ডিবি’র হাতে আটকের পর তিনদিন অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেন। ক্রসফায়ারে ব্যর্থ হয়ে আইসিটি আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠায়। দুই মাস কারাভোগে তার জীবনে আঁধার নেমে আসে। নির্যাতনের কারণে তিনি আজও চোখে ঝাপসা দেখেন, শরীরে বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ শকের কারণে রক্তশূন্যতাসহ বিভিন্ন মারাত্মক শরীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে । দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হলেও গ্রেফতার করছে না তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন। জানা গেছে, যেখানে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিককে নির্যাতন করা হয়েছিল সে আলামত নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিক তদন্ত না করে পুলিশের পক্ষ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। বাড়ির ন্যায়বিচার পাবে কিনা সন্দেহ।
উপরোক্ত সাংবাদিকদেরও একই অবস্থা । এহেন ঘটনা মানবাধিকার পরিপস্থি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহল ।