শাশুড়িকে নিয়ে জামাই উধাও, শ্বশুর অ’ভিযোগ করলেন থানায়

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী 2, 2021 05:59:25 অপরাহ্ন
0
28
ভিউ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজে’লায় শাশুড়িকে নিয়ে পা’লিয়ে গেছেন জামাই। স্ত্রীকে ফিরে পেতে জামাইয়ের বি’রুদ্ধে থানায় অ’ভিযোগ করেছেন শ্বশুর। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতীবান্ধা থানায় এ বি’ষয়ে লিখিত অ’ভিযোগ করেন শ্বশুর নাছির উদ্দিন (৫০)। তিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজে’লার উত্তর সোনাখুলি গ্রামের মৃ’ত আব্দুল আজিজের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজে’লার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামে।

অ’ভিযুক্ত জামাই এম’দাদুল ইসলাম ওরফে এনদা (৩৫) উপজে’লার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামে তরিফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বড়খাতা বাজারের হাজি জামে মসজিদ এলাকার অটোরিকশার পার্স ব্যবসায়ী। গত ২১ জানুয়ারি শাশুড়িকে নিয়ে তিনি পা’লিয়েছেন। এদিকে এম’দাদুল ইসলাম এনদার স্ত্রী নাজনী বেগম (২২) তার নি’র্যাতনে আ’হত হয়ে বর্তমানে হাতীবান্ধা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীর।

লিখিত অ’ভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছর আগে নীলফামারীর ডিমলা উপজে’লার উত্তর সোনাখুলি গ্রামের নাছির উদ্দিনের মেয়ে নাজনী বেগমকে বিয়ে করেন এম’দাদুল ইসলাম এনদা। নাজনী বেগমকে বিয়ের পর থেকে জামাই-শাশুড়ির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায়ই মেয়ের বাড়ি বেড়াতে আসতেন শাশুড়ি। এ সময় স্ত্রীকে ছেড়ে শাশুড়ির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন জামাই এম’দাদুল। মায়ের সঙ্গে এমন সম্পর্ক দেখে প্রায়ই স্বামীর সঙ্গে ঝ’গড়া হতো নাজনী বেগমের।

কয়েক দিন আগে নিজ বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে মায়ের মেলামেশা দেখে ফে’লেন নাজনী। এজন্য সাতদিন ঘরে আ’টকে রেখে তাকে মা’রধর করেন স্বামী এম’দাদুল। পরে নাজনী বেগম রাতে দরজা ভে’ঙে খালার বাড়ি উপজে’লা হাতীবান্ধার ধুবনী এলাকায় পা’লিয়ে এসে হাতীবান্ধা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এ সুযোগে শাশুড়িকে নিয়ে সটকে পড়েন ইম’দাদুল।

স্বামীর নি’র্যাতনের শি’কার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী নাজনী বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী নাজনী বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু কী থেকে কী হলো নিজেও জানি না। আমার মা আমার স্বামীর বাড়িতেই বেশি সময় থাকতেন। স্বামী ইম’দাদুলের আমার চেয়ে মায়ের সঙ্গেই বেশি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক দিন মায়ের সঙ্গে তার মেলামেশা দেখে ফেলি। এতে স্বামী আমাকে মা’রধর করে
সাতদিন ঘরে তালা দিয়ে আ’টকে রাখেন।

পরে রাতে অ’সুস্থ অবস্থায় দরজা ভে’ঙে পা’লিয়ে এসে খালা বাড়িতে আশ্রয় নিই এবং হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি হই। এ ঘটনায় আমি হাতীবান্ধা থানায় একটি নি’র্যাতনের অ’ভিযোগ দিয়েছি।’ নাজনী বেগমের খালা শাহিনা বেগম (৩৫) বলেন, ‘১০ দিন আগে আমার বাড়িতে জামাই এম’দাদুল ইসলাম ও আমার বড় বোন আছিতোন নেছা (৪০) আসেন। এরপর একদিন বাড়িতে অবস্থান করেই বড় বোনকে নিয়ে জামাই পা’লিয়ে যান। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বোনের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। শুনতে পাচ্ছি, তিনি নাকি আমার বোনকে বিয়ে করেছেন।’

শ্বশুর নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমি দিনমজুরির কাজে নোয়াখালীতে গেলে স্ত্রী আছিতোন নেছা জামাই এম’দাদুল ইসলামের বাড়িতে থাকতেন। নোয়াখালী থেকে ফিরে এসে দেখি জামাইয়ের বাড়িতে আমার স্ত্রী নেই। জামাইকে আমার স্ত্রীর কথা বললে তিনি বিভিন্ন কথা বলে এড়িয়ে যান। স্ত্রীকে ফিরে পেতে জামাইয়ের বি’রুদ্ধে থানায় একটি অ’ভিযোগ করেছি।’ এ বি’ষয়ে জানতে জামাই এম’দাদুল ইসলাম এনদা বলেন, আমার স্ত্রী রাতে বাড়ি থেকে পা’লিয়ে গেছেন। বি’ষয়টি আমি এলাকার সবাইকে জানিয়েছি। শাশুড়িকে নিয়ে পা’লিয়ে গিয়ে বিয়ে করার বি’ষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

উপজে’লার সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি বি’ষয়টি শুনে থানায় অ’ভিযোগ করতে বলেছি। অ’ভিযুক্ত জামাইয়ের উপযুক্ত শা’স্তি হওয়া উচিত বলে মনে করি।’ এ বি’ষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি অ’ভিযোগ পেয়েছি। ত’দন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুত্রঃ জাগো নিউজ