কো’লের শি’শুকে শী’তের মধ্যে ব্রিজ থে’কে পা’নিতে ফে’লে দিয়ে পা’লা’লেন মা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 29, 2021 07:22:28 অপরাহ্ন
0
2874
ভিউ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ব’লদি’য়া ইউনিয়নের কাশিমবাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজ থেকে অ’থৈই পানিতে কো’লের শিশুকে ফে’লে দিলেন এক মা। পানিতে পড়ে ১৫ মাসের ওই শিশুটি ভাসতে থাকে অনেকক্ষণ। পরে পথচারী এবং এলাকাবাসী শিশুটিকে জী’বি’ত অবস্থায় উ’দ্ধা’র করে।

শিশুটি এখন স্থানীয় রফিকুল ইসলাম এবং এলিনা দ’ম্প’তির কাছে রয়েছে। এলিনা শিশুটিকে তার বুকের দুধও পান করিয়েছেন। শিশুটি এখন সুস্থ আছে। তবে শিশুটির মা জমিলা বেগম শিশুটিকে ফে’লে দিয়েই নিজ বাড়িতে পা’লি’য়ে যায়। জমিলা বেগমের দাবি, এক বছর আগে দুই মাসের সন্তান জাহিদকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি রংপুর থেকে বি’তাড়ি’ত হয় সে।

পরে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের দরিদ্র পিতা জয়নাল মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। দিনমজুর বাপের বাড়িতে অ’ভা’ব-অ’নট’ন থাকায় তার সন্তানের ভর’ণপো’ষণ নিয়ে প্রায়ই দ্ব’ন্দ্ব হতো। সন্তানের খাবার এবং খরচ চালাতে মাঝে মধ্যে তাকে শা’রী’রি’ক এবং মা’নসি’ক নি”র্যা’ত’ন স’হ্য করতে হতো। এসব থেকেই সন্তানকে পানিতে ফে’লে দেয়ার চিন্তা আসে তার।

জমিলার পিতা জয়নাল জানান, সকালে আমি ও আমার ছেলে মাটি কা’টতে এসেছি। মাটিকা’টার স্থানের অদূরে মানুষের কো’লাহ’ল শুনে জানতে পারলাম আমার মেয়ে জমিলা তার ছেলে জাহিদকে পানিতে ফে’লে দিয়েছে। কী কারণে এরকম কাজ করল তা আমি জানি না।

তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে রংপুরের মডার্ন মোরের ভর্ত কবিরাজের ছেলে হাফিজুলের সঙ্গে জমিলার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের এক বছর পরেই দুই মাসের কোলের শিশুকে নিয়ে সংসার ভা’ঙ্গে জমিলার। এ সময় জাহিদকে নিয়ে তার বাড়িতে ফিরে আসে জমিলা। এদিকে তিন সন্তান নিয়ে বড় মেয়ে জরিনা তার সংসারে ফিরে এসে মাথার বোঝা হয়ে আছে আগেই।

সব মিলিয়ে নয় সদস্যের পরিবারে ভর’ণপো’ষ’ণ অ’সাধ্য হয়ে উঠে জয়নালের। দিনমজুরি করে এ বিশাল সংসার চালাতে হি’মশি’ম খেতে হয় তাকে।জমিলার মা জবেদা বেগম জানান, প্রায়ই জমিলার সন্তান নিয়ে পরিবারে অ’শান্তি লেগে থাকতো। তার খরচ চালাতে চাইতো না জমিলার বাবা। জমিলার বৃদ্ধা নানি সুফিয়া বেওয়া জানান, তার ভি’ক্ষাবৃ’ত্তির চাল দিয়ে মাঝে মধ্যে জমিলার সন্তানের খরচ চলতো। তবে জমিলা তার সন্তানের জন্য অনেক ‘নি”র্যা’ত’ন সহ্য করেছে। এসব ‘নি”র্যা’ত’ন’ থেকে বাঁচতে আজকে সন্তানকে পানিতে ফে’লে দিয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, শুক্রবার জমিলা দুই কেজি চাল সবার আড়ালে বিক্রি করে শিশুর জন্য খাবার ও তেল সাবান কিনে আনলে তার বাবা রা’গা’ন্বি’ত হয় এবং জমিলাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। মনের দুঃখে অবুঝ শিশুকে নিয়ে হ’তা’শ জমিলা বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাশিমবাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজের ২০ ফিট নিচে অ’থৈই পানিতে ফে’লে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল হোসেন সন্তোষ জানান, সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে তিনি ওই পথে বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় ব্রিজটির উপরে উঠলে একটি নারীকে কিছু পানিতে ফেলতে দেখে। কিছু পড়ার শব্দ শুনে নিচে তাকিয়ে দেখে একটি শিশু পানিতে ভাসছে এবং হাত-পা না’ড়া’চ্ছে। দি’গ্বিদি’ক না তাকিয়ে তিনি চিৎ’কার করতে থাকেন। তার চিৎকারে স্থানীয় ফরিদুল ইসলাম এবং একজন পথচা’রী এগিয়ে আসেন। ব্রিজ থেকে নেমে পানি সাঁতরিয়ে শিশুটিকে উ’দ্ধা’র করে তারা।

তিনি জানান, শিশুটিকে উ”দ্ধা’র করতে তাদের ২০ মিনিট সময় লাগে। এ সময় ধরে শিশুটি পানিতে ভাসতে থাকে। উ”দ্ধা’রের পর আ’গুন জ্বা’লিয়ে তা’প দিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করা হয়। এ সময় ব্রিজের পাশের বাড়ির রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতি শিশুটিকে হে’ফা’জতে নেন।এলিনা বলেন, শিশুটিকে তার বুকের দুধ খাওয়ানো হয়েছে। শিশুটিকে তিনি লালন পালন করতে চান।

বলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান জানান, শিশুটি আপাতত রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতির কাছে রয়েছে। তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়া হবে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা জানান, বিষয়টি আমি কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরেছি। চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়েছিলাম, খোঁজখবর নিয়ে ওই পরিবারকে সহযোগিতা দেয়া হবে।