জাপানে এক দশকে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 23, 2021 11:57:09 পূর্বাহ্ন
0
29
ভিউ
প্রতীকী ছবি

জাপানকে বলা হয় সূর্যোদয়ের দেশ। নানা স’মস্যা থাকার পরও সেই জাপানে উল্লেখযোগ্য হারে মু’সলিম’দের সংখ্যা বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশটিতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটিতে মু’সলিমের দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বর্তমানে জাপানে মু’সলিম’দের জন্য সবচেয়ে বড় স’মস্যা হচ্ছে কবরস্থান।

ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের তানাদা হিরোফুমির বরাত দিয়ে দ্য ইকোনোমিস্ট জানিয়েছে, গত ১০ বছরে জাপানে মু’সলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ২০১০ সালের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, জাপানে ১ লাখ ১০ হাজার মু’সলিম ছিল। তবে ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ লাখ।

এই এক দশকে জাপানের উল্লেখযোগ্য মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় দেশটিতে মু’সলিমের সংখ্যা বেড়েছে। পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে যে, গত ১০ বছরে ৫০ হাজার জাপানি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

মু’সলিম’দের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জাপানে আরও বেশি মসজিদ, ইবাদতের স্থান এবং হালাল খাবারের দোকান স্থাপন করা হচ্ছে। রিটসুমেইকান এশিয়া-প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির (এপিইউ) একজন অধ্যাপক এবং বেপ্পু মু’সলিম অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রধান মুহাম্ম’দ তাহির আব্বাস খান বলেছেন, জাপানে এখন ১১০টি মসজিদ রয়েছে।

দিন দিন মসজিদের সংখ্যা বাড়লেও কবরের স্থান নিয়ে এখনও জাপানের মু’সলিম’দের উ’দ্বেগের মধ্যে দিন কা’টাতে হচ্ছে। জাপানের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষকে দাহ করা হয়। কিন্তু ইসলামে মৃ’তদেহ দাহ করা নিষেধ। এমতাবস্থায় এটা একটা স’মস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। আব্বাস খান বলেন, যদি আজ আমার মৃ’ত্যু হয়, তাহলে আমাকে দাফন করা হবে কিনা আমি জানি না।

তবে কবরস্থানের জন্য প্রায় এক দশক ধরে অর্থ উত্তোলন করছে বিএমএ। কিন্তু কবরের জন্য জায়গা নির্ধারণের পর স্থানীয়রা এর বি’রোধিতা করেছে। তারা বলছে, কবরস্থান থাকলে তারা নিশ্চিতে পানি পান করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, রুশ বিপ্লবের পর রাশিয়া থেকে কয়েকশ তুর্কি মু’সলিম অভিবাসী ১৯২০-র দশকে জাপানে পাড়ি জমায়। ১৯৩০ সালে জাপানে বিভিন্ন দেশের এক হাজার মু’সলিম ছিল।
পরবর্তীতে ১৯৮০-র দশকে ইরান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী কর্মীরা জাপানে পাড়ি দিলে সেখানে মু’সলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃ’দ্ধি পায়।