ভাই এত ভ’য়ংকর!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 17, 2021 11:11:50 পূর্বাহ্ন
0
27
ভিউ
প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্কঃ বাবু ও ইমু দুই ভাই। তাঁদের বড় বোন সামছুন্নাহার, লুৎফুন নাহার ও আয়েশা। ছোটবেলা থেকেই তাঁরা মায়ের চেয়েও বেশি সময় থাকতেন বোনদের কাছে। মুখে তুলে খাওয়ানো, গোসল করিয়ে দেওয়া কিংবা ঘুম পাড়ানো সব দায়িত্বই পালন করতেন বড় বোনরা। ১৯৮৪ সালে সবার বড় বোন সামছুন্নাহারের যখন বিয়ে হয়, তখন বাবুর বয়স ছিল সাড়ে চার বছর, আর ইমুর তিন। মমতাময়ী মায়ের মতো তিন বোন আগলে রাখতেন ছোট ভাইদের।

কিন্তু যে ভাইদের কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন, মুখে তুলে খাবার খাইয়েছেন, সেই বদর উদ্দিন আহম্মেদ সিদ্দিক ওরফে বাবু ও নুরে আলম সিদ্দিক ওরফে ইমু এখন ‘অমানুষে’ পরিণত হয়ে গেছেন। নানাবাড়ি থেকে পাওয়া সম্পত্তি মা তহুরা সিদ্দিকা লিখে দিয়েছেন মেয়েদের। এতে ক্ষি’প্ত হয়ে বোন ও তাঁদের পরিবারকে বাবু-ইমু খু’নের হু’মকি দিচ্ছেন বলে অ’ভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে স’ন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আ’হত করেছেন বড় বোন সামছুন্নাহারকে। শত কোটি টাকার জমি দ’খল করেই ক্ষান্ত হননি বাবু ও ইমু, গর্ভধারিণী মায়ের ও’পর চা’লিয়েছেন অ’মানুষিক নি’র্যাতন। তাঁরা ওই জমি ফেরত পেতে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মাকে এমন মার দেন যে মা মাটিতে লু’টিয়ে পড়েন। আ’ঘাতে এ সময় মায়ের পা ভে’ঙে যায়। এ ঘটনায় মা বা’দী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় বাবু ও ইমুর বি’রুদ্ধে হ’’ত্যাচেষ্টার অ’ভিযোগে মা’মলা করেন। পরে ২০১৯ সালে মা তহুরা সিদ্দিকা মা’রা যান। সেই মা’মলা আ’দালতে এখনো চলমান।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, আবু বকর ও তহুরা খাতুন দম্পতির আট স’ন্তান। তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। ১৯৮৭ ও ২০১৭ সালে নানাবাড়ি থেকে পাওয়া মিরপুরের ২৮.৬২ শতাংশ জমি মা তহুরা খাতুন পরিবারের সব সদস্যের সম্মতিতে পাঁচ মেয়েকে দান করে দেন। সব কিছুই ঠিকভাবে চলছিল আবু বকর পরিবারের। সময় পেরিয়ে সেই ছোট বাবু ও ইমু বড় হন।

এরই মধ্যে বাবা মা’রা যান। মায়ের দেওয়া জমি থেকে বোনদের উ’চ্ছেদ করেই ক্ষান্ত হননি, জো’রপূর্বক মিরপুরের ৬৪ নম্বর বড়বাগে তাঁদের পৈতৃক ২৭ শতাংশ জমির বাড়ি, যে বাড়িতে বোনদের বেড়ে ওঠা ও বিয়ে, সেই বাড়িতেও তাঁদের ঢুকতে দেন না ভাইয়েরা। শুধু পৈতৃক ভিটা থেকে বঞ্চিত করাই নয়, সাভারে ৩০ বিঘা ও গাজীপুরে ৩৫ বিঘাসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করেছেন ওই ভাইয়েরা। জমির কাছে গেলে পুরো পরিবারকে খু’ন করা হবে বলেও ভাইদের স’ন্ত্রাসীরা হু’মকি দিচ্ছে নিয়মিত।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরপুর বড়বাগে ২৮.৬২ শতাংশ জমি (৭২ নম্বর প্লট) সিএস রেকর্ড অনুসারে জমির মালিক সৈয়দ মোহাম্ম’দ মা’রা গেলে হাজি সুরুজ্জামান তাঁর ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন। হাজি সুরুজ্জামানের কাছ থেকে ১৯৮০ সালের ২৯ জুলাই তহুরা খাতুন কিনে নেন, যা কাগজপত্রেও তহুরা খাতুনের নাম রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তী সময় তহুরা খাতুন তাঁর কেনা সম্পত্তি থেকে ১৯৮৭ ও ২০১৭ সালে দুই দফায় তাঁর মেয়ে সামছুন্নাহার সিদ্দিকা, আয়েশা সিদ্দিকা, লুৎফুন নাহার সিদ্দিকা, কামরুন নাহার সিদ্দিকা ও বদরুন নাহার সিদ্দিকাকে রেজেস্ট্রি করে লিখে দেন, যা ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হেবা দলিল মূলে তাঁদের নামে নামজারি (নম্বর-৪৩০১/১৬-১৭) হয়। ওই জমির পাশেই মিরপুরের ৬৪ নম্বর বড়বাগে তাঁদের পৈতৃক ২৭ শতাংশ জমি রয়েছে। কিন্তু তা জো’রপূর্বক দ’খল করে বোনদের বঞ্চিত করে ভোগদ’খল করছেন তিন ভাই।

বোনদের জমি লিখে দেওয়ার পর থেকেই মা তহুরা খাতুনের ও’পর একের পর এক নি’র্যাতন চলে। মা’রধর, খাবারের ক’ষ্টসহ নানাভাবে নি’র্যাতন চা’লিয়ে যান ইমু ও বাবু। সেই কথা বলতে গিয়ে কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন বড় বোন সামছুন্নাহার সিদ্দিকা। তিনি বলেন, ‘নিজের কেনা সম্পত্তি আমাদের পাঁচ বোনকে লিখে দেন মা। সেই জমিতে আমরা ভবন করে ভাড়া দিয়েছি ৩৫ বছর ধরে। কিন্তু সেই জমি জো’র করেই দ’খলে নিয়ে গেল ওরা। জমিতে যাওয়ার পর ভাইদের লেলিয়ে দেওয়া স’ন্ত্রাসীরা হা’মলা করল। ভাইদের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছি। ওরা এখন হু’মকি দিয়ে বলে, জমির কাছে গেলে নাকি পরিবারসহ মে’রে ফেলবে। যাদের কোলে-পিঠে করে বড় করলাম, সেই আদরের ভাই জমির জন্য খু’ন করতে চায়।’

আরেক বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমার বৃ’দ্ধা মাকে শুধু জমির জন্য ওরা অনেক নি’র্যাতন করেছে, মে’রে ফেলার জন্য স’ন্ত্রাসীরা পি’টিয়ে আ’হত করে। ওই ঘটনায় আমার মা বা’দী হয়ে থানায় মা’মলাও করেছিল। যারা সম্পদের জন্য নিজের মাকে মে’রে ফেলতে চায়, তারা বোনদেরও মে’রে ফেলতে পারে। শুধু মায়ের দেওয়া জমিই নয়, বাবার নামে বড়বাগের শত কোটি টাকার জমি, সাভার ও গাজীপুরের জমিও তিন ভাই দ’খল করে রেখেছে। সেই জমির আনুমানিক মূল্য দুই শ কোটি টাকার বেশি। সেই সম্পত্তির অংশীদারও আমরা, কিন্তু সেই সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে ভাইয়েরা।’

আরেক বড় বোন লুৎফুন নাহার সিদ্দিকা বলেন, ‘স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ম’দদে ছোট ভাই ইমু ও বাবু আমাদের জমি দ’খলে নিয়ে এখন আমাদের মে’রে ফেলার হু’মকি দিচ্ছে। ভাইয়েরা ভ’য়ংকর হয়ে উঠেছে শুধু জমির কারণে। বাবার যে বাড়িটিতে আমরা বড় হয়েছি, সেই বাবার বাড়িতে এখন ঢুকতে দেয় না’—বলেই কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন তিনি। বোন সামছুন্নাহার সিদ্দিকা বা’দী হয়ে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভাই মো. বদর উদ্দিন আহম্মেদ সিদ্দিক ওরফে বাবু, নুরে আলম সিদ্দিক ওরফে ইমু ও আশরাফ উদ্দিন আহম্মেদ সিদ্দিকের বি’রুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন।

পারিবারিক বিভিন্ন সূত্র আরো জানায়, সাভার ইউনিয়নের শিষারচরে ৩০ বিঘা এবং গাজীপুরের মির্জাপুর উপজে’লার মনিপুর মৌজায় ৩৫ বিঘা পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। সেখানেও বোনরা সব সম্পত্তিতে ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা অংশীদার, কিন্তু তাঁদের ভাইয়েরা জো’র করে দ’খল করে রেখেছেন।

প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও আরিফুজ্জামান জানান, কয়েক যুগ ধরে জানি তাদের মা তিন বোনকে ২৮ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছেন এবং সেখান থেকে এত দিন ভাড়া বোনেরাই খেয়েছে। কিন্তু সেই জমি থেকে এখন বোনদের উ’চ্ছেদ করেছে ভাইয়েরা। জমির জন্য মায়ের ও’পরও নাকি নি’র্যাতন চা’লিয়েছে ইমু আর বাবু। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষ এসবকে ম’দদ দিচ্ছেন বলে অ’ভিযোগ করেন তাঁরা।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বদর উদ্দিন আহম্মেদ বাবুর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি অ’ভিযোগ শুনে বলেন, আপনাকে এসব কে বলেছে? আপনি আমার নম্বর পেলেন কোথা থেকে? আর এগুলো দিয়ে আপনি কী করবেন? বলেই লাইনটি কে’টে দেন। এরপর আরেক ভাই নুরে আলম সিদ্দিককে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও কল রিসিভ করেননি।