মিজানুর রহমান আজহারির নামানুসারে রাখা শিশুকে আলেম বানানোর স্বপ্ন শেষ!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 14, 2021 11:02:20 অপরাহ্ন
0
446
ভিউ

দুই মেয়ের পর ছেলেস’ন্তানের জন্ম। পরিবারে বইছিল আনন্দের বন্যা। খুশিতে বাবা-মা ছেলের নাম রাখেন বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির নামানুসারে ‘মিজানুর রহমান’।

কিন্তু চার মাস বয়সী মিজানুরকে এখন পর্যন্ত ডাক্তারের ছু’রি-কাঁচির নিচে যেতে হয়েছে দুইবার। তবুও সুস্থ হয়নি সে! উপরন্তু হৃৎপিণ্ডে ছি’দ্র দেখা দিয়েছে ছোট্ট এই শি’শুটির। ফের অ’পারেশন টেবিলে যেতে হবে মিজানুরকে। একমাত্র ছে’লের এমন জটিল অ’সুস্থতায় পরিবার থেকে উ’ধাও হয়ে গেছে হাসি।

পাবনার চাটমোহর উপজে’লার ফৈলজানা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের রিকশাচালক বাবা রফিকুল ইসলাম ও গৃহিণী খুশি আরা খাতুনের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। হৃৎপিণ্ডের অ’পারেশন করাতে লাগবে প্রায় দুই লাখ টাকা। এমনটাই জানিয়েছেন চি’কিৎসক। কিন্তু কোথায় পাবেন এত টাকা? এই চিন্তায় দি’শেহারা অ’সহায় পরিবারটি!

সরেজমিন জানা যায়, জন্মের সময় মিজানুরের নাভির ও’পর একটি বড় মাংসপিণ্ড দেখা দেয়। ছিল না পায়ুপথ। এছাড়া প্র’স্রাবের রাস্তাও দুটি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নিয়ে গেলে দুই দফায় অ’স্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাং’সপিণ্ড অ’পসারণ এবং পা’য়ুপথ বের করেন চি’কিৎসক। এর জন্য দরিদ্র পরিবারটির ধারদেনা হয়েছে প্রায় লাখ টাকার ও’পরে।

সম্প্রতি শি’শু মিজানুর পুনরায় অ’সুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা শি’শু হা’সপাতালে নিয়ে যান তার বাবা-মা। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মিজানুরের হৃৎপিণ্ডে ছি’দ্র ধরা পড়ে। শুধু তাই নয়, প্রস্রাবের রাস্তায় রয়েছে স’মস্যা। তিন মাস পর অপারেশন করাতে হবে। অ’পারেশন করাতে খরচ হবে দুই লাখ টাকার বেশি।

চিকিৎসকের এমন কথা শুনে বাড়ি ফিরে আসেন তারা। বর্তমানে মিজানুরের প্রতিনিয়ত ঠাণ্ডা লেগে থাকছে। শ্বাসক’ষ্টসহ নানা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রায়শই অ’সুস্থ হয়ে পড়ছে শি’শুটি। কোথাও সহযোগিতা না পেয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন রিকশাচালক বাবা রফিকুল ইসলাম। কিন্তু ছেলের এমন করুণ অবস্থা দেখে অঝোরে কেঁ’দে চলেছেন মা খুশি আরা খাতুন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলে হবে জেনে বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি সাহেবের নাম অনুসারে নাম রেখেছিলাম। ইচ্ছে ছিল ছে’লেকে আলেম বানানোর। কিন্তু টাকার কাছে হেরে যাচ্ছি আমরা। আমাদের স্বপ্ন কী শেষ হয়ে যাবে? বারবার অপারেশন করাতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। ঋ’ণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। প্রতিদিন ৩-৪শ’ টাকা আয় করে অপারেশনের এত টাকা জোগাড় করব কীভাবে?

অশ্রুসিক্ত নয়নে মা খুশি আরা খাতুন বলেন, আর কত ক’ষ্ট করবে আমার ছেলে? এত টাকা আমরা পাব কোথায়? ল’জ্জায় ভিক্ষাও করতে পারছি না! তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ফৈলজানা ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী প্রামাণিক যুগান্তরকে বলেন, পরিবারটি খুব অ’সহায়। ধারদেনা করে দুইবার অ’পারেশন করিয়েছে। বর্তমানে পরিবারটির চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই। তাই স’রকারি সহযোগিতা পেলে উপকৃত হতো দ’রিদ্র পরিবারটি।

সূত্রঃ যুগান্তর