দিহানের সঙ্গীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 14, 2021 09:53:28 পূর্বাহ্ন
0
31
ভিউ

অনলাইন ডেস্কঃ শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিনকে সংঘবদ্ধভাবে ধ”ণ শেষে হ’’ত্যায় অ’ভিযুক্ত ফারদিনের তিন বন্ধুকে মা’মলা থেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে একটি মহল। ঘটনার দিন ফারদিন ইফতেখার দিহান ও তার সঙ্গীরা আনুশকাকে অ’পহরণ করে বাসায় নিয়ে ধ”ণ শেষে হ’’ত্যা করেছে। এমনটিই দাবি করেছেন, আনুশকার মা শাহনূরে আমিন।

তিনি বলেন, ফারদিন ওইদিন ফোন করলে আমি হাসপাতালে যাই। হাসপাতালে গেলে আমার পায়ে ধরে কা’ন্নাকাটি করে। বলে, আন্টি আমাকে বাঁচান। ফারদিন আরো জানায়, তারা চারজন মিলেই আনুশকাকে বাসায় নিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমার মেয়ে ফাঁকা বাসায় একা যাওয়ার কথা না।
মা’মলায় আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা অ’পহরণ মা’মলা করতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ সেটা করতে দেয়নি। উল্টো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার মেয়ের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ফারদিনের সঙ্গে আনুশকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ তথ্য মোটেও সঠিক নয়।
অ’ভিযুক্ত ফারদিনের সঙ্গে আমার মেয়ের কোনো পরিচয় ছিল না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অনুষ্ঠানে আনুশকার মা বলেন, আমি চার দফা দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত বিচার আইনে ফারদিন ও তার সঙ্গীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। স’রকার যেন ত’দন্তে আমাদের সহযোগিতা করে। স্বচ্ছ ও সঠিক ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। আমার নিষ্পাপ মেয়েকে বি”কৃতভাবে ধ”ণ করে হ’’ত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, আপনি একজন মা। আমি আমার মেয়ের হ’’ত্যার স্বচ্ছ ও ন্যায়বিচার চাই। এ সময় নি’হত শিক্ষার্থীর বাবা আল আমিন বলেন, আনুশকা আমাদের অনুমতি ছাড়া কিছুই করতো না। সেভাবে মেয়েকে আমরা মানুষ করে তুলেছি। ওইদিন আনুশকা তার ফোন থেকে আমাকে ফোন দিয়েছিল। কিন্তু কাজে ব্যস্ত থাকায় ফোন ধরতে পারিনি।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী দুলাল হোসেনের ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে ১৬৪ ধারায় জ’বানব’ন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু দুলাল এবং ফারদিনের জ’বানব’ন্দির মধ্যে যথেষ্ট গরমিল রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফারদিন জানিয়েছে প্রথমে সে একা কলাবাগানের ডলফিন গলির বাসায় প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে আনুশকা যায়। এদিকে নিরাপত্তাকর্মী দুলাল আ’দালতে জানায়, ঘটনার দিন তারা দুজনে একত্রেই বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা ওই বাসায় প্রায় ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করে।

এর আগে গত সোমবার দুপুরে দুলালকে মিরপুর রোডের ডলফিন গলির সামনে থেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আনুশকার মৃ’ত্যুর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই প’লাতক ছিলেন দুলাল। দুলাল এই মা’মলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। কারণ তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। সূত্র জানায়, জ’বানব’ন্দিতে দুলাল জানিয়েছেন ঘটনার দিন দুপুরে অ’ভিযুক্ত ফারদিন এবং আনুশকা একত্রে বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় তাদের সঙ্গে বাসায় আর কেউ প্রবেশ করেনি। ফারদিন সাধারণত নিরাপত্তাকর্মী দুলালকে তুই বলে সম্বোধন করে। আনুশকা অ’চেতন হয়ে পড়লে এ সময় ফারদিন বাসার ইন্টারকমে ফোন দিয়ে দুলালকে জানায়, তুই শিগগিরই বাসায় আয়। আমার বি’পদ হয়েছে। তোর সাহায্য লাগবে।

ফোন পেয়ে দুলাল দ্রুত বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে দেখতে পায় আনুশকা বিছানার পাশে সোফার উপর পড়ে আছে। এ সময় দুলাল আনুশকার পা ধরে এবং ফারদিন মাথা ধরে তাকে গাড়িতে তোলে। বাসার গেট পর্যন্ত পৌঁছে দেন গার্ড দুলাল। দুলাল আরো জানান, মেয়েটি মা’রা গেছে শুনে ভ’য়ে বাসা থেকে পা’লিয়ে যাই। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম এই মর্মে পুলিশ যদি গ্রে’প্তার করে তাকে রি’মান্ডে নেয় এই ভ’য়ে পা’লিয়ে যান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী এই নিরাপত্তা প্রহরী জানায়, পা’লিয়ে প্রথম দু’দিন সাভারে ছিলেন।

সাভারে কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে জানান, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি। পরবর্তীতে যখন মনে হলো আমি কেন পালালাম। আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। অনুশোচনা বোধের জায়গা থেকে পরবর্তীতে বাসায় ফিরে আসলে পুলিশ আ’টক করে। সূত্র আরো জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে দুলাল ডলফিন গলির পান্থকুঞ্জ-২ নম্বর ভবনে চাকরি করেন। প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে জানতে চাওয়া হয় দুলালকে ফারদিন কোনো বকশিশ (ঘুষ) দিয়েছিল কি-না। দুলাল জানান, ফারদিনের ব্যবহার একদমই ভালো নয়। সে তাকে সবসময় নাম ধরে তুই বলে সম্বোধন করতো। বকশিশ দেয়া তো অনেক পরের কথা। প্রায়ই অনেক বন্ধু-বান্ধব আড্ডা দিতে আসতো তাদের বাসায়। ফারদিন বাসায় ফিরতো অনেক রাত করে। কিন্তু এ বি’ষয়ে কখনোই ফারদিনের সঙ্গে ভ’য়ে কথা বলার সাহস পায়নি দুলাল। তিনি আরো জানান, গরিব মানুষ। ভাগ্য দোষে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতে এসেছি। অনেকের অনেক কথা এবং অ’পমান নীরবে সহ্য করতে হয়।

মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকেই নজরদারিতে ছিলেন বাসার দারোয়ান দুলাল। ঘটনার যথার্থতা যাচাইয়ে তার প্রয়োজন বোধ করায় তার জ’বানব’ন্দি নেয়া হয়েছে। তাদের দু’জনের দেয়া বর্ণনা মিলিয়ে দেখা হবে। যেহেতু দুলাল আ’সামি নন, তাই তাকে আ’টক রাখা হয়নি। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যে সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ চলছে। পাশাপাশি ফারদিনের ওই তিন বন্ধুর মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে ঘটনার সময় তারা কোথায় অবস্থান করছিলেন, কি কথা হয়েছে তাদের মধ্যে তা বের করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তাদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় আপাতত তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তারা পরিবারের জিম্মায় থাকলেও পুলিশের নজরদারির বাইরে নয়। প্রয়োজনে তাদের আবার হেফাজতে নেয়া হবে।