দিহান যৌ’নশক্তি বর্ধক ও’ষুধ খেয়েছিলো কিনা জানতে চায় পুলিশ

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 14, 2021 09:28:21 পূর্বাহ্ন
0
120
ভিউ

অনলাইন ডেস্কঃ চাঞ্চল্যকর ঘটনা রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনকে (১৭) ধ”ণ ও হ’’ত্যা মা’মলা। ভিক্টিমকে ধ”ণের উদ্দেশ্যে আ’সামি ফারদিন ইফতেফার দিহান (১৮) যৌ’নবর্ধক কোনো ও’ষুধ ও মা’দক সেবন করেছেন কিনা সেটি জানার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে পুলিশ। সেটি জানতে দিহানের উপর পরীক্ষা চালাতে আ’দালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে ত’দন্ত সংস্থাটি।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম আ’দালতে মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার অফিসার ই’নচার্জ (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে এ আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা আবেদনটি মঞ্জুর করেন। আবেদনে মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আ’সামি ফারদিন ইফতেফার দিহান বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কা’রাগারে ব’ন্দি রয়েছেন। ধ”ণকালে এই আ’সামি কোনো মা’দক সেবন করেছিলেন কিনা তা জানার জন্য তার ডোপ টেস্ট করা প্রয়োজন।

এছাড়া তিনি ধ”ণকালে কোনো যৌ’নবর্ধক ও’ষুধ সেবন করেছিলেন কিনা এবং সেবন করলে কোন ধরনের ও’ষুধ সেবন করেছিলেন তা দিহানের র’ক্ত থেকে নমুনা সংগ্রহপূর্বক পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন। কলাবাগান থানার আ’দালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার বি’ষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৮ জানুয়ারি নি’হত ছাত্রী আনুশকা নূরের ম’য়নাত’দন্ত সম্পন্ন হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ম’য়নাত’দন্তের বি’ষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ আরটিভি নিউজকে বলেন, আমি আমার পোস্টমর্টেম জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, স্বাভাবিক পেনিস (পু’রুষাঙ্গ) দ্বারা এই ইনজুরি মোটেও সম্ভব না। ওটা পেনিসের বাইরে অন্য কিছু ছিল।’

ডা. সোহেল মাহমুদ আরটিভি নিউজকে আরও বলেন, যৌ’নিপথ ও পায়ুপথ থেকে প্রচুর র’ক্তক্ষরণ তার (আনুশকার) মৃ’ত্যুর কারণ হতে পারে। এই প্রচুর র’ক্তক্ষরণ হওয়ায় সে ‘হাইপো ভোলেমিক’ শকে মা’রা গেছে। মানুষের মাত্রাতিরিক্ত র’ক্তক্ষরণ বা দেহ থেকে অতিরিক্ত তরল বের হয়ে গেলে হৃদপিণ্ড স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়। এ কারণে হৃদযন্ত্র শরীরে র’ক্ত সরবরাহ করতে পারে না, মানুষ মা’রা যেতে পারে।

বি”কৃত যৌ’নাচারের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে এই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘যো’নিপ’থ ও পায়ুপথ দুই রাস্তা থেকেই আমরা র’ক্তক্ষরণের আলামত পেয়েছি। গত শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার মুখ্য মহানগর আ’দালতের হাকিম মামুনুর রশিদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দিহানের জ’বানব’ন্দি গ্রহণ করেন। আ’দালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জ’বানব’ন্দিতে দিহান বলেছেন, শা’রীরিক সম্পর্কের পর অতিরিক্ত র’ক্তক্ষরণ হলে বন্ধুদের ডেকে তাদের সহযোগিতায় মেয়েটিকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরের পর মেয়েটির মৃ’ত্যুর ঘটনায় রাতেই কলাবাগান থানায় মা’মলা দা’য়ের করেন ওই ছাত্রীর বাবা আল আমিন আহম্মেদ। মা’মলার এজহারে মেয়েটির বাবা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তার স্ত্রী অফিসের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হন। তিনি ব্যবসায়িক কাজে বের হন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তার স্ত্রীকে ফোন করে মেয়ে জানায়, সে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনতে যাচ্ছে।

বেলা একটা ১৮ মিনিটে মেয়ের মায়ের মোবাইল ফোনে কল আসে। ফারদিন ইফতেখার দিহান (১৮) নিজের পরিচয় দেয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘আমার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে বলে, ‘সে দিহান। আমার মেয়ে তার বাসাতে গিয়েছিল। আকস্মিকভাবে আমার মেয়ে তার বাসাতে অ’চেতন হয়ে পড়লে সে আমার মেয়েকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।’

এই খবর পেয়ে মেয়েটির মা অফিস থেকে বের হয়ে বেলা ১টা ৫২ মিনিটে হাসপাতালে ছুটে যান। এজাহারে আনুশকার বাবা আরও উল্লেখ করেন, ‘সেখানে থাকা কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছ থেকে আমার মেয়েকে ধ”ণ করে মে’রে ফেলা হয়েছে মর্মে আমার স্ত্রী জানতে পারেন।’ বেলা ১টা ৫৭ মিনিটে বি’ষয়টি মেয়ের বাবা আল আমিনকে জানান স্ত্রী। এরপর তিনি পুরান ঢাকার নবাবপুরের ব্যবসাস্থল থেকে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। এজাহারে বাবা উল্লেখ করেন, ‘জরুরি বিভাগে থাকা কর্তব্যরত ডাক্তার নার্স হাসপাতালে অন্যান্য কর্মচারীসহ উপস্থিত অন্যান্য লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি যে, উপরে বর্ণিত বিবা’দী ফারদিন ইফতেখার দিহান দুপুরে ১২ টার দিকে বড় মেয়ে আনুশকা নূর আমিনকে ‘প্রেমে প্রলুব্ধ’ করে মোবাইল ফোনে তার কলাবাগান ডলফিন গলির, লেকসার্কাসের ফাঁকা বাসায় ধ”ণের উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে যায়।

র’ক্তক্ষরণে মেয়ে অ’চেতন হয়ে পড়লে দিহান ধ”ণের বি’ষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বেলা একটা ২৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পৌনে ২টার দিকে মা’রা যায় মেয়েটি। পরে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে যায়। তারা মেয়েটির সু’রতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়।