প’র্ণগ্রা’ফি থেকে ফরেন ফ্যা’ন্টাসি, ধ্বং’সের প’থে ত’রুণ-ত’রুণীরা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 12, 2021 11:19:33 অপরাহ্ন
0
102
ভিউ

নীতি নৈতিকতা বজায় রেখে যৌ’০ন’তা স্বাভাবিক বি’ষয় হলেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে হা’তের নাগালে পাওয়া প’০র্ণগ্রা’ফি দেখে সে০’ক্স ফ্যান্টাসিতে আ’সক্ত হয়ে পড়ছে দেশের ত’রুণ-ত’রুণীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। এতেই যেনো তাদের বিশেষ আগ্রহ। যার ফলে ক্রমেই নীতি নৈতিকতার স্খ’লন ঘটছে। ধ্বং’সের পথে নি’মজ্জিত হচ্ছে তরুণ সমাজ। প’র্ণ সা’ইটগুলো ব’ন্ধ করা হয়েছে বলে স’রকারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও বাস্তব তার ভিন্ন চিত্র!

প’র্ণ থেকে ‘ফরেন বডি’র ব্যবহারের একটি জ্ব’লন্ত উদাহরণ রাজধানী ঢাকার কলাবাগানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ছা’ত্রী আনুশকা নূর আমিনের মৃ’’ত্যু। যে ছা’ত্রীর বয়স মাত্র ১৭ বছর। এই মৃ’’ত্যুর ঘটনা ত’দন্তে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চা’ঞ্চল্যকর সব তথ্য। বিশেষ করে আলোচনায় উঠে এসেছে বি’পজ্জ’নক বি”কৃ’ত যৌ’০নাচারে লিপ্ত হওয়ার অন্যতম উপাদান ‘ফরেন বডির’ কথা। যা সহজেই অনলাইন শপে এবং দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ফরেন বডির বি’ষয়টি আলোচনায় আসায় আনুশকা ধ”. ও হ’’.. মা’ম’লার ত’দন্ত মোড় নিচ্ছে ন’তুনত্বের দিকে।

অ’ভিযো’গের তীর আনুশকার বয়ফ্রেন্ড ফারদিন ইফতেখার দিহানের দিকে। মা’ম’লায় অ’ভিযো’গ করা হচ্ছে, ‘প্রে’মে প্র’লুব্ধ’ করে বাসায় নিয়ে ‘বি”ক্রিত যৌ’০নাচারের’ মাধ্যমে আনুশকাকে হ’’. করেছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র ১৮ বছর বয়সী দিহান। এমন র’হ’স্যময় প’রিস্থিতিতে অ’ভিযু’ক্তের বিশেষ অ’ঙ্গের বা’স্তবিক পরীক্ষার কথাও ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। এর পরেই দৃশ্যমান আলামত, ভিক্টিমের র’ক্ত’ক্ষ’রণের স্থানের ওই সময়ে প’রিস্থিতি ও ম’য়নাত’দন্ত রিপোর্ট মি’লিয়ে ত’দন্তের অগ্রগতি অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনুশকার যো’নিপ’থ ও রে’ক্টামে ‘ফরেন বডি’ পু’ষ করায় মা’রাত্ম’ক র’ক্তক্ষ’রণ হয়ে মৃ’ত্যুর কো’লে ঢ’লে প’ড়ে সে। যা ‘সে’ক্সুয়াল ফ্যান্টাসি’ থেকেই করা হয়েছে।

ম’নস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প’র্ণ দেখতে দেখতে ত’রুণ-ত’রুণীরা অ’বৈধ স’ম্পর্কে জ’ড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা ও’ইসব প’র্ণে দেখানো ‘সে’ক্সু’য়াল ফ্যা’ন্টাসির‘ স্বা’দ নিতে ম’রিয়া হয়ে ওঠে। নিজেদের মধ্যেই তা প্রয়োগের চে’ষ্টা করে। যার ফলে অ’পরিপক্ব ত’রুণ-ত’রুণীদের মধ্যে মা’নসিক ও শা’রীরিক ভ’য়াবহ রকমের ক্ষ’তি সা’ধন হয়ে থাকে। এমন বি”কৃ’ত যৌ’০নাচার মৃ’’ত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

আইন প্রয়োগকারী সং’স্থার সাইবার ক্রা’ই’ম ইউনিট থেকে বলা হচ্ছে, প’র্ণ সা’ইটগুলো বন্ধ’ করতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো সাইট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইদানীং ত’রুণ বয়সীদের মধ্যে প’র্ণোগ্রা’ফিতে আ’সক্তির সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। খুব ভ’য়া’বহ আকারে বেড়ে যাচ্ছে এটি। স্মার্ট ফোনে ছোটো ছোটো বা’চ্চা থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়’স্কদের মাঝেও আ’সক্তির মাত্রা প্রবল থেকে প্র’বলতর হচ্ছে। ফলে পা’রিবারিক ও সামাজিক স’ম্পর্কগুলো দিন দিন বেশ জ’টিলতার দিকে এগোচ্ছে। কখনো কখনো তা করুণ প’রিণতিতে গিয়ে শেষ হচ্ছে।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দিহানের ব’ন্ধুদের কাছ থেকে জানা গেছে- দিহান প’র্ণগ্রা’ফিতে আ’সক্ত ছিল। যার প্রভাব আনুশকার উ’পর গিয়েও পড়ে।

মনোরো’গ বিশেষজ্ঞ যা বললেন:

প’র্ণগ্রা’ফি থেকে সে”ক্স ফ্যান্টাসিতে ঝুঁ’কে পড়ার বি’ষয়ে আরটিভির সঙ্গে কথা হয় শি’শু, কৈ’শোর ও পা’রিবারিক মনোরো’গ বিশেষজ্ঞ জাতীয় মা’নসিক স্বা’স্থ্য ই’নস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের। তিনি বলেন, প’র্ণগ্রা’ফিতে রয়েছে সে”ক্সুয়াল ফ্যান্টাসি, যাকে বলা যায় ‘বিক্রি’ত যৌ’০নাচার’। এই সে”ক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে বিভিন্ন ‘ফরেন বডি’ বা ‘সে”ক্স টয়’ ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে কিছু রয়েছে মেশিনারি (ভাইব্রেটর) আবার কিছু রয়েছে নন মেশিনারি।

স্বাভাবিক যৌ’০ন উপভোগ থেকে মা’ষ যখন হা’রিয়ে যায়, তখনই বি’ক্রি’ত যৌ০ন উপভোগে উপনীত হয়, আবার যখন বি’ক্রিত যৌ’ন উপভোগ আরও বাড়াতে চায় তখন বি”কৃ’তির চ’রম অ’বস্থায় চলে যায়। এই চ’রম উ’পভোগের ভ’য়’ঙ্কর ও ঝুঁ’কিপূর্ণ মাত্রা হলো যৌ’০না’ঙ্গ আকৃতির ‘ফরেন বডি’ ব্যবহার করা।

এই মনোরো’গ বিশেষজ্ঞ আরটিভি নিউজকে আরও বলেন, মানু’ষ প’র্ণ দেখে ‘সে’ক্সুয়াল ফ্যান্টাসি’ শেখে এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের চেষ্টা করে। কলাবাগানের ঘটনায় এর প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা সেটি ত’দন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে মনোরো’গ নিয়ে কাজ করার ফলে আমি, প’র্ণ দেখে সে’ক্সুয়াল ফ্যান্টাসি বা বি’ক্রিত যৌ’২নাচারে আ’সক্ত অনেক রো’গীই পাচ্ছি। এর বড় একটি অংশ তরুণ বয়সী। আমাদের দেশে ক্র’মেই এর বি’স্তৃতি ঘটছে।

অধিকার বঞ্চিত ত’রুণ-ত’রুণীরা:

আমাদের দেশের ত’রুণ ত’রুণীরা তাদের স্বাভাবিক অধিকার থেকে ব’ঞ্চিত হচ্ছে। যখন তাদের খেলাধুলা করা, গল্পগুজব করা, আড্ডা দেয়ার কথা ওই সময়টাতে তারা সুযোগ পেলেই অ’শ্লী’ল ভিডিও দেখছে বা ওই ধরনের কর্মকাণ্ডে লি’প্ত হচ্ছে। সুষ্ঠু বিনোদন ও ক্লাব কালচারের ব্যবস্থা না থাকাতেও কি’শোররা নে’শা বা প’র্ণগ্রা’ফির দিকে ঝুঁ’কে পড়ছে।

প্রয়োজন সে’ক্স এডুকেশন:

কলাবাগানে ভি’ক্টিম আনুশকা এবং অ’ভি’যুক্ত দিহানের ঘটনাটি ঘটার অন্যতম কারন হতে পারে সে’০ক্স এডুকেশনের অভাব। তাদের মধ্যে সে”ক্স এডুকেশন থাকলে হয়তো এমন প’রিণতি হতো না। আনুশকাকে মৃ’’ত্যুর মুখে প’তিত হতে হতো না। এই সে”ক্স এডুকেশন না থাকায় তারা সমাজের বে’হাল ব্যবস্থার শি’কার। যিনি মা”রা গেছেন, তিনি বি’ক্রিত যৌ’০নাচারের শি’কার হয়ে মা”রা গেছেন, স্বাভাবিক কিছু হলে তিনি মা”রা যেতেন না। উভ’য়ই অল্প বয়সী, মাত্র ১৭ এবং ১৮ বছর। সে”ক্স এডুকেশন না থাকায় তাদের স্বাভাবিক বি’কাশ হয়নি। সে হিসেবে দিহানকে কেবল দা’য়ীই করা যাবে না, সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে তাকে ভিক্টিম হিসেবে দেখতে হবে। আমরা যদি স্কুলে কলেজে বিজ্ঞানসম্মত সে’ক্স এডুকেশনের ব্যবস্থা করতে পারতাম তাহলে এমন ধরনের দূর্ঘটনা হয়তো ঘটতো না। যেটা তারা প’র্ণ ভিডিওতে দেখে তা যে বাস্তব নয়, সে’ক্স এডুকেশন থাকলে তারা তা জানতে পারতো।

পারিবারিক বন্ধন অটুট করতে হবে:

আমাদের পারিবারিক কাঠামোগুলোকে পুনঃগঠন করা প্রয়োজন। ক্রমেই পারিবারিক কাঠামোগুলো খ’ণ্ডিত এবং বি’চ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, পিতামাতার স’ঙ্গে স’ন্তানদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। স’ন্তানদেরকে পিতা মাতারা কেবল প্রজেক্ট হিসেবে দেখছেন। যেমন- আমার স’ন্তান জিপিএ-৫ পাওয়া প্রজেক্ট, এ্যাওয়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রজেক্ট। এমন প্রজেক্টের থেকেও বেশি নজর দিতে হবে স’ন্তানকে তিনি কতোটুকো সময় দিচ্ছেন, স’ন্তান কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, কার সাথে মিশছে, ইন্টারনেটে কি ব্রাউজ করছে ইত্যাদি। এক কথায় স’ন্তানের স’ঙ্গে পিতার মাতার সুসম্পর্ক না থাকলে স’ন্তান বি’পথগা’মী হবে।