বি”কৃত যৌ’নাচারের ‘ফরেন বডি’সহ নানা সামগ্রীতে সয়লাব দেশের বাজার

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 11, 2021 05:30:08 অপরাহ্ন
0
692
ভিউ

দেশে বি”কৃত যৌ’নরুচির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের প্রসার ক্রমেই বাড়ছে। একটি কল করেই যে কেউ অনলাইনের বিভিন্ন নামি-বেনামি প্রতিষ্ঠান থেকে মা’রাত্মক ক্ষ’তিকর এসব পণ্য হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। এসব পণ্যের ভেতর রয়েছে যৌ’ন উত্তেজক ভায়াগ্রা ট্যাবলেটও। এই ট্যাবলেট কিনতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র বা’ধ্যতামূলক হলেও যে কেউ ফার্মেসিতে বা অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কিনতে পারছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের পণ্য আমাদের তরুণ সমাজকে বি’পদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ঘটে যাওয়া ধ”ণ ও হ’’ত্যার ঘটনাতেও এসব পণ্য ব্যবহারের আলামত পাওয়া গেছে। মা’দকের ভ’য়াল ছোবলের মতোই বি”কৃত যৌ’নরুচির এসব উপাদান বি’পজ্জনক হয়ে উঠছে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ। সম্প্রতি রাজধানীর কলাবাগানে ধ”ণের পর র’ক্তক্ষরণে এক স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু হয়েছে। আনুশকা নূর আমিন নামের ঐ ছাত্রীর দেহে ‘ফরেন বডি’র আলামত মিলেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনুশকার ম’য়নাত’দন্ত হয়।

সেখানকার ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্বাভাবিক শা’রীরিক সম্পর্কে এতটা ভ’য়াবহ পরিণতি হওয়ার কথা নয়। শরীরের নিম্নাঙ্গে কোন ‘ফরেন বডি’ জাতীয় কিছু একটা ব্যবহার করা হয়েছে। এক কথায় সেখানে বি”কৃত যৌ’নাচার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি আমার পোস্টমর্টেম জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, স্বাভাবিক শা’রীরিক সম্পর্কে এই ইনজুরি মোটেও সম্ভব না। ওটা অন্য কিছু ছিল।

যোনিপথ ও পায়ুপথ থেকে প্রচুর র’ক্তক্ষরণের কারণে ভু’ক্তভোগীর মৃ’ত্যু হতে পারে বলে ধারণা এই চিকিৎসকের। তিনি বলেন, প্রচুর র’ক্তক্ষরণ হওয়ায় সে ‘হাইপো ভোলেমিক’ শকে মা’রা গেছে। রাজধানী ঢাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসক ‘ফরেন বডি’র কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে আলোচনায় উঠে এসেছে বি”কৃত যৌ’নরুচি মেটাবার বিভিন্ন উপাদান বা পণ্যের কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনলাইনে চাইলেই পাওয়া যাচ্ছে বি”কৃত যৌ’নাচারের বিভিন্ন পণ্য। ফেসবুকে হর হামেশাই পপ আপ বিজ্ঞাপনে উঠে আসছে বিভিন্ন যৌ’নসামগ্রী। এইসব যৌ’নসামগ্রী পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে বৈধ হলেও বাংলাদেশে অ’বৈধ। তবুও আড়ালে আবডালে এসব পণ্য কিনতে সক্ষম হচ্ছেন যেকোন বয়সের ক্রেতারা। যদিও দোকানিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই তাদের ক্রেতা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। এই পণ্যগুলোর কিছু বৈধ আর কিছু একেবারেই অ’বৈধ। যেমন ‘ম্যাজিক কনডম’ নামের একটি বিশেষ কনডম বাজারে রয়েছে যা এক হাজারেরও বেশিবার ব্যবহার করা যায়। বিক্রেতাদের দাবি, এটি একটি বৈধ পণ্য। এর ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে। এ বি’ষয়ে এশিয়ান স্কাই শপের এক্সিকিউটিভ অফিসার মেহেদি হাসান সময়নিউজকে জানান, ম্যাজিক কনডমটা আমরা বিক্রি করি। এটা বৈধ। তবে অন্যান্য আরো প্র’ডাক্ট আছে যা বৈধ নয়। যেমন ডিলডো, ফ্লা’শলাইট, বিভিন্ন যৌ’ন উত্তেজক ক্যাপসুল, স্প্রে প্রভৃতি।

সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পেজ খুলে ও ইউটিউবে চ্যানেল খুলে বহু কালোবাজারি এসব বিক্রি করছে। তাদের অন্যতম পণ্য হচ্ছে, ডিলডো (পুরুষের বিশেষ অঙ্গের ন্যায় প্লাস্টিক বা সিলিকন দিয়ে তৈরি বস্তুত), প্লাস্টিক বা সিলিকনের তৈরি ম্যাজিক কনডম, যৌ’ন পুতুল, স্প্রে ও ভায়াগ্রা। এসব পণ্যের আবার বহু রং, প্রকার ও আকার রয়েছে। তাহলে এই ‘অ’বৈধ’ পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা কেউ কোন পণ্য চাইলে তাকে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেই। ‘দারাজ’, ‘আজকের ডিল’ নামের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়। তবে আমরা ডিলডো, ফ্লা’শলাইট বা যেকোন যৌ’ন উত্তেজক পণ্য ডিসপ্লেতে রাখি না।

অ’বৈধ এসব পণ্যের জন্য আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, এর আগে একবার বিভিন্ন যৌ’নসামগ্রী জাতীয় পণ্য ডিসপ্লেতে রেখে ভ্রাম্যমাণ আ’দালতের বিচারে আমরা ছয়লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়েছি। সেসময় ম্যা’জিস্ট্রেট সরোয়ার আলম এই জরিমানা করেছিলেন। ঐ ঘটনায় আমাদের তিনজন কর্মীকেও আ’টক করা হয়েছিল। অ’বৈধ হলেও এসব পণ্য দেশে ঢুকছে কী করে তা খোঁজ করে জানা যায়, এয়ারপোর্ট এলাকায় শাজাহান নামের এক ‘নেতা’র মাধ্যমে ডিলডো ও টয় ভ্যাজাইনা বাংলাদেশে ঢুকছে। সেখান থেকেই অন্যান্য দোকানিরা তাদের অনলাইন শপের জন্য পাইকারি হারে কিনছেন এসব পণ্য। পরে তা অনলাইনে মুখরোচক বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। টেলিমার্কেটিংয়ের এই যুগে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে এসব পণ্যের প্রসার।

এছাড়াও বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ইরেকটাইল ডিসফাকশনের ও’ষুধ ভায়াগ্রা (সিলডেলাফিল) ট্যাবলেট। এসব ট্যাবলেট সেবন করা হয় দীর্ঘক্ষণ যৌ’নক্রিয়ার লক্ষ্যে। উৎসুক মন থেকে বা আগ্রহ থেকে প্রায়ই তরুণরা আকৃষ্ট হয়ে কিনছে এসব ট্যাবলেট। বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় না বলে যে কেউই এই ট্যাবলেট কিনতে পারছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ও’ষুধের ব্যবহার তরুণ প্রজন্মের স্বা’স্থ্যের জন্য ভ’য়াল ক্ষ’তি ডেকে আনতে পারে বলে জানা যায়।

ঢাকা সম্মিলিত সা’মরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরো’গবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলামের সঙ্গে বি’ষয়টি নিয়ে কথা বলে সময়নিউজ। উ’দ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই বি’ষয়গুলোকে সোশিও-কালচারাল (সামাজিক-সাংস্কৃতিক) প্রেক্ষিতে নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু একটা ‘সেক্টর’ থেকে ভাবলে তা ভু’ল হবে। বর্তমানে আমরা ডিজিটালাইজেশনের নামে প্রগতির অনেক ঊর্ধ্বে উঠে গেছি। পশ্চিমা কালচারের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমরা বড় বি’পদ ডেকে আনছি।

মধ্যবিত্তের যে সংস্কৃতি তা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে বি”কৃত যৌ’ন লালসা সমাজে জায়গা করে নিচ্ছে বলেও মনে করেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন প্রতিষ্ঠান শিক্ষা দিচ্ছে না, স’ন্তান কী করছে তার খোঁজ রাখছি না আমরা। দেশে সে’ক্স এডুকেশন দরকার কিনা সে বি’ষয়ে জানতে চাইলে এই অধ্যাপক বলেন, আমি এটা বলব না যে দরকার নেই আবার এটাও বলব না ঢালাওভাবে দরকার আছে। এটার জন্য হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত টিম জানাবে ঠিক কতটুকু যৌ’নশিক্ষা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ মাথায় রেখে আমাদের জন্য জরুরি।

ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের অ’বৈধ পণ্য বিক্রি অ’পরাধ। এজন্য আইনে জে’ল বা জরিমানা অথবা উভ’য় দ’ণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী নিয়ম ভঙ্গ করে ও’ষুধ বিক্রি করা অ’পরাধ। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ভায়াগ্রা বিক্রি করলে অন্যান্য আইন ছাড়াও এই আইনে ক’ঠোর শা’স্তির কথা বলা হয়েছে। এসব অ’বৈধ পণ্য বিক্রির বি’রুদ্ধে করণীয় কী তা জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক ও স’রকারের উপস’চিব মনজুর মোহাম্ম’দ শাহরিয়ার বলেন, অ’বৈধ পণ্য বিক্রি করলে ভোক্তা অধিকার আইনে শা’স্তির বিধান রয়েছে।

আমরা অ’ভিযোগ পেলেই মহাপরিচালক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। এখন কেউ ফেসবুকে পেজ খুলে বা ইউটিউবে চ্যানেল খুলে এসব বিক্রি শুরু করলে হুট করে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না। এজন্য দেশের কোথাও এমন পণ্য বিক্রি হলে আমাদেরকে জানানোর অনুরোধ করছি। এসব অ’বৈধ পণ্য যেন দেশের ভিতরে ঢুকতে না পারে সে বি’ষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আরো সচেতন থাকার আহ্বান জানান মনজুর শাহরিয়ার। সুত্রঃ সময়