দিহানের পক্ষে অ’দৃশ্য শ’ক্তি, অ’ভিযোগ বা’দীপক্ষের

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 10, 2021 10:21:41 অপরাহ্ন
0
520
ভিউ

রাজধানীর মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শি’ক্ষার্থীকে ধ”ণের পর হ’’ত্যার ঘ’টনায় অ’ভিযুক্ত তানভীর ইফতেখার দিহানের পক্ষে অ’দৃশ্য কোনও শ’ক্তি কাজ করছে বলে দা’বি করেছেন নি’হত কি’শোরীর বা’বা। তার দা’বি, সবকিছু দেখে আমাদের মনে হচ্ছে মা’মলার শুরু থেকেই তারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।রবিবার (১০ জানুয়ারি) নিজ বাসায় বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন ভি’কটিম কি’শোরীর বা’বা।

তিনি জানান, দিহান নি’র্যা’তিত কি’শোরীর অ’পরিচিত ছিল না। তবে তাদের জানাশোনা প’রিবার পর্যন্ত গড়ায়নি। বন্ধু’ মহলের কয়েকজন শুধু জানতো। মা’মলার বা’দী ও ভি’কটিম কি’শোরীর বা’বা বলেন, আমার মে’য়ের স্কু’লের বা’ন্ধবীর এক বড় ভাই আছে। দিহানসহ ওই তিন ছে’লে তার বন্ধু। ওখান থেকেই আমার মে’য়ের স’ঙ্গে দিহানের প’রিচয় বা চেনাজানা।

ফোন না ধরাটাই ছিল বড় ভু’ল

সেদিনের ঘটনার বর্ণনায় মে’য়েটির বা’বা বলেন, ঘটনার দিন ঠিক ১২টা ১৯ মিনিটে আমার মে’য়ের নম্বর থেকে কল আসে। আমি মিটিংয়ে থাকায় ফোনটা কে’টে দেই। তারপর আর ফোন ক’রেনি। তার কিছু সময় পর আমার স্ত্রীর ফোনে কল আসে। ফোন করে আমার মে’য়ের অ’সুস্থতার কথা জানায়। প্রথম ফোনটা না ধরাটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভু’ল।

তিনি বলেন, মনে হয় আমার মে’য়েকে যখন জো’রজ’বরদস্তি করা হচ্ছিল তখনই সে আমকে ফোন করেছিল। আমি যদি ফোনটা ধরতে পারতাম বি’ষয়টা এতদূর গড়াত না। পরে আমাকে না পেয়ে আমার স্ত্রীকে ফোন করা হয়। তবে সেটা হা’সপাতাল থেকে নাকি ওই বাসা থেকে এটা আমরা জানি না। হা’সপাতালে যাওয়ার পর চি’কিৎসকরা আমাকে বলেন, ‘মা’রা যাওয়ার পর হা’সপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে’। আমার মনে হয়, এমনও হতে পারে, ও কোচিং এ যাচ্ছিল। তখন ওই ছে’লেরা রা’স্তায় তাকে বা’ধা দেয়। তখন আমাকে আমার মে’য়ে ফোন করে।

বাসায় সরেজমিন দেখা যায়, তিন রুমের বাসার পশ্চিম দিকের শেষ ছোট রুমটি নি’র্যাতনের শি’কার হয়ে মা’রা যাওয়া মে’য়েটির। রুমে ছোট্ট একটা খাট, পড়ার টেবিল আর একটা কাঠের আলমারি। ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিক সাড়ে ১২টা। দক্ষিণের জানালাটা অর্ধেক খোলা। বিছানা থেকে একটু নিচেই জায়নামাজ। দুটো কোরআন শরিফ ভাঁজ করা।

এক বোন আর এক ভাই আছে মে’য়েটির। বোনের বয়স দুই বছর। এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভাই ক্লাস সিক্সে পড়ে। অন্য রুমে খাটে চু’পচা’প বসে আছে। মে’য়ের মৃ’ত্যুর তিন দিন পরেই সকল স্মৃ’তিকে পাশ কাটিয়ে চাকরিতে যেতে হয়েছে মা’কে। বাবা বসে আছেন। বাসাজুড়ে পিনপতন নীরবতা।

দিহানের পক্ষে অ’দৃশ্য শ’ক্তি?

মা’মলার বা’দীর অ’ভিযোগ, দিহানের পক্ষে অদৃশ্য এক শ’ক্তি কাজ করছে। তিনি বলেন, মা’মলার শুরু থেকে মনে হচ্ছে তারা বেশ সুবিধা পাচ্ছে। প্রথমে হা’সপাতালে কালক্ষেপণ করা। থানা থেকে মা’মলার কাগজ ঢাকা মে’ডিক্যালে রাতে বা সকালে না পৌঁছানো। দেরিতে ম’য়নাত’দন্ত। ম’য়নাত’দন্ত প্রতিবেদনে অসঙ্গতি। সবশেষে আ’দালতে উঠেই কা’রাগারে গিয়ে ঘুরে বেড়ানো। সবকিছু দেখে আমাদের মনে হচ্ছে তারা বিশেষ কোনও সুবিধা পাচ্ছে।

মে’য়েটির বা’বা আরও বলেন, আমার এক আত্মীয় আইনজীবী আছে। তারও এমনটা মনে হয়েছে। মা’মলা নিয়ে পুলিশের এসির সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। ছেলেটা কী স্বী’কারোক্তি দিলো আমরা জানতে চাই। পু’লিশ বললো, ‘আমরা এটা নিয়ে বসবো। তারপর জানাবো’। সেটাও দুদিন হয়ে গেলো। কীভাবে যেন তারা ছা’ড় পেয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছি না।

মা’মলা করতে তা’ড়াহুড়া ও ৩ আ’সামি বা’দ

কি’শোরীর বা’বা বলেন, যখন এজাহার লেখা হয় তখন খুব তা’ড়াহুড়া করা হচ্ছিল। কেননা, আমাদের হা’সপাতালে অনেক সময় ন’ষ্ট হয়েছে। তখন আমি পু’লিশকে বলেছিলাম ৪ জ’নকে আ’সামি করতে চাই। কেননা, ছে’লেটা যখন আমার স্ত্রী’কে ফোন দেয় তখন সে বলেছিল, ‘আমরা বাসায় চার জন আছি’। আবার হা’সপাতালেও দেখি চার জন। কিন্তু পু’লিশ বললো মেডিক্যাল রি’পোর্ট আসার আগ পর্যন্ত তাদের নাম না দেই। পরে যদি তাদের তিন জনের স’ম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, নাম যোগ করা হবে। আমিও মনে করলাম মি’থ্যা বলে একটা দুইটা ছে’লের জী’বন এভাবে ন’ষ্ট করতে চাই না।

কারণ, আমি জানি একটা স’ন্তান মা’নুষ করতে কত প’রিশ্রম লাগে। কিন্তু এখন সবকিছু দেখলাম। মে’ডিক্যাল রি’পোর্ট শুনলাম। আমার বা’চ্চাকে প্র’চণ্ড নি’র্যা’তন করা হয়েছে। এ নি’র্যা’তন আসলে একজনের পক্ষে করা স’ম্ভব না। এখন আমাদের মনে হচ্ছে, ঘটনার স’ঙ্গে চার জনই জড়ি’ত থাকতে পারে। আমি আসলে বুঝতে পা’রিনি মে’ডিক্যাল রি’পোর্ট কবে আসবে। কয়দিন লাগবে। তখনই তাদের নাম দেওয়া উচিত ছিল। পু’লিশ কেন তাদের এত দ্রুত ছে’ড়ে দিলো? আরও একটু দেখতে পারতো। আর মা’মলাটাও তা’ড়াহুড়া করে হয়ে গেলো। চিন্তা করার সুযোগ মে’লেনি।

বয়স নিয়ে বি’ভ্রান্তি

ভি’কটিমের বা’বা বলেন, আমার মে’য়ের বয়স কীভাবে ১৯ হলো। আমরা বুঝলাম না। আমরা তো শুরু থেকেই বয়স ১৭ বলে আসছি। কিন্তু কে বা কারা ১৯ দিলো বুঝতে পারছি না। বি’পদে পড়ে আমরা পাসপোর্ট, বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরেছি। পু’লিশও যথেষ্ট আ’ন্তরিক ছিল। তারা ভালো কথাবার্তা বলছেন আমাদের সঙ্গে। সাহায্য করেছেন। তবে কোনও একটা জায়গায় তারা এই ভু’লটা করেছেন। যার জন্য এটা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। ভু’ল তথ্য দিয়ে মে’য়েটাকে প্রাপ্ত বয়’স্ক বা’নানোর চে’ষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দিহানের প’রিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। দিহানের বড় ভাইও নাকি তার স্ত্রী’কে মে’রে ফে’লেছিল। আমার মে’য়ের স’ঙ্গে যে অ’ন্যায় হয়েছে, আমি এই ঘটনার সু’ষ্ঠু বি’চার চাই। তাদের শা’স্তি চাই। সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন