মন্ত্রীদের আমলনামা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 10, 2021 01:44:53 অপরাহ্ন
0
27
ভিউ

জাতীয়ঃ বর্তমান স’রকারের প্রথম দুই বছরে মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দপ্তর বদল, পুনর্বণ্টন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদোন্নতি, নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ—এমন টুকটাক সিদ্ধান্তেই সীমিত থেকেছেন। গত ৭ জানুয়ারি স’রকারের দুই বছর পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন বিশেষভাবে দেখতে শুরু করছেন স’রকারপ্রধান। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উভ’য় ক্ষেত্রের দায়িত্বশীল সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে।

স’রকারের দুই বছর পূর্তি শেষে মন্ত্রিসভার কোন সদস্য কোন ম’ন্ত্রণালয় ও বিভাগে কত দিন দায়িত্ব পালন করছেন, কাদের দপ্তর বদল হয়েছে, কাদের দপ্তর পুনর্বণ্টন হয়েছে, কে কোন মেয়াদ থেকে মন্ত্রিসভায় আছেন, কারা টানা তিন মেয়াদে স’রকারপ্রধানের টিমে আছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ম’ন্ত্রণালয় কেমন চালাচ্ছেন—এসব বি’ষয়ে একাধিক উৎস থেকে খবর সংগ্রহ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের টিম মেম্বারদের বি’ষয়ে কিছু সাধারণ খবর নিয়মিত নেন প্রধানমন্ত্রী। তবে দুই বছর শেষে বিশেষভাবে খোঁজ নেওয়ার খবরে অনেকে নড়েচড়ে বসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার খোঁজখবর কেন, কী কারণে নেওয়া হচ্ছে, সেটা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ জানেন না।

টানা তিন মেয়াদের স’রকারের তৃতীয় পর্বের দ্বিতীয় বছর পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত এক যুগে স’রকারপ্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজে একটানা দায়িত্ব পালন করছেন। যখন নতুন স’রকার গঠন করেছেন, তখন তাঁর টিম মেম্বার পরিবর্তন করেছেন। তবে স’রকার গঠনের পর বিশেষ বড় ধরনের কারণ ছাড়া মন্ত্রিসভা থেকে বাদ কাউকে দেননি। এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ বেশি হওয়ায় সার্বিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বড় রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স’রকার, দল ও প্রশাসন—সব দিকের দায়িত্বশীলরা ধারণা করছিলেন, এক বছর পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল প্রয়োজন হবে। প্রথম বছর পূর্ণ হওয়ার পর সে রকম আলোচনাও ছিল; কিন্তু এই দুই বছরের মধ্যে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রবাসী কল্যাণ ম’ন্ত্রণালয়ে ইমরান আহম’দকে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী করা হয়েছে। বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে মহিলা ও শি’শু বি’ষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময়ে কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রীর যোগ ও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টনের জো’র আলোচনা ছিল; কিন্তু আর কিছু হয়নি। শুধু পরে ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মা’রা গেলে শূন্যপদ পূরণ করা হয়।

স’রকারের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রশাসনিক সূত্র জানায়, স’রকার গঠনের পর স’রকারপ্রধান তাঁর টিম মেম্বারদের কাজের মূল্যায়নের জন্য অন্তত দুই বছর সময় নেন। প্রধানমন্ত্রী তাই স্বাভাবিকভাবেই খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রিসভার একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভায় যত হেভিওয়েটই থাকুন, প্রধানমন্ত্রীকেই সব দিক দেখতে হয়। কিন্তু এবার একেবারে নতুনদের নিয়ে যাত্রা শুরু করায় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক বেশি ‘লোড’ নিতে হচ্ছে। সে বিচারে তিনি কিছু পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারেন। তবে কেউ বাদ পড়ার আ’শঙ্কা কম। কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রী যোগ হওয়ার সঙ্গে বিদ্যমানদের দপ্তর বদল ও পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রিসভার রদবদলের দাপ্তরিক বি’ষয়গুলো দেখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি অনুবিভাগ। এই অনুবিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত স’চিব সোলতান আহ্ম’দের কাছে এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। কোনো সিদ্ধান্ত থাকলে তিনি মন্ত্রিপরিষদস’চিবকে নির্দেশ দেন। এরপর আমরা জানতে পারি। এখন পর্যন্ত এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা নেই।’

কেমন গেল দুই বছর : গত দুই বছরে বড় বড় প্রাকৃতিক দু’র্যোগ থাকলেও খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি ছিল না। কিন্তু ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণে গতবারের মতো এবারও সমালোচনা সইতে হয়েছে স’রকারকে। কৃষক ও মিল মালিকদের কাছ থেকে ঠিকভাবে ধান-চাল সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য ম’ন্ত্রণালয়। বিপরীতে ঠিক সময়ে চাল আম’দানিও হয়নি। বিলম্বে দেওয়া চাল আম’দানির অনুমোদনও খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন বলে অ’ভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ফল আসেনি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এখনো চালের দাম বাড়তির দিকেই।

অন্যদিকে পেঁয়াজের জোগান ও দাম ব্যবস্থাপনায় সমালোচিত হয়েছে বাণিজ্য ম’ন্ত্রণালয়। আর এখন ভোজ্য তেল গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বলে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে বাণিজ্য ম’ন্ত্রণালয়। মুক্তিযো’দ্ধাদের তালিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে মুক্তিযু’দ্ধবি’ষয়ক ম’ন্ত্রণালয়। রাজাকারের তালিকা প্রকাশের একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ হয়নি। অন্যদিকে ক’রোনা নিয়ে প্রথম দিকে স্বা’স্থ্যমন্ত্রীর কপালে ব্যাপক সমালোচনা জুটলেও শেষতক ভালো অবস্থানে ফিরেছেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য-প্রযুক্তি ম’ন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয়ের স’মস্যা হচ্ছিল প্রথম দিকেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স’রকার গঠনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় গত ২০১৯ সালের মে মাসে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের দায়িত্ব কমিয়ে তাঁকে শুধু ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ডাক টিকিটে ‘পূর্ব পাকিস্তান মু’সলিম ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ লেখা থাকায় নতুনভাবে সমালোচনায় আছেন মোস্তাফা জব্বার। একই আদেশে অন্য তিনটি পরিবর্তনও আনা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় স’রকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলামের দায়িত্ব কমিয়ে শুধু স্থানীয় স’রকার বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে একই ম’ন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে স্বা’স্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ম’ন্ত্রণালয় থেকে তথ্য ম’ন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবেও মন্ত্রিসভার কেউ কেউ সমালোচিত হচ্ছেন। কারোর বি’রুদ্ধে বি’তর্কি’ত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গাড়ি উপহার নেওয়া, কেউ বা সাধারণদের জন্য বরাদ্দের প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অ’ভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে ভালো কাজে সুনাম কুড়িয়েছে কিছু ম’ন্ত্রণালয় ও বিভাগ। ভূমি সেবা সহজীকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে ভূমি ম’ন্ত্রণালয়। ইলিশের অব্যাহত উৎপাদন বৃ’দ্ধির সুনাম গেছে মৎস্য ম’ন্ত্রণালয়ের তিলকে। ক’রোনাকালে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ কার্যক্রম এবং আম্ফানসহ একাধিক দু’র্যোগ সামলেছে দু’র্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ ম’ন্ত্রণালয়।

শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদের স’রকার গঠনের ক্ষেত্রে চমক বর্তমান মন্ত্রিসভা। সব রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকের হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে বেশির ভাগ নতুন সদস্য নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী। জোটে নির্বাচন করেও স’রকারে শুধু আওয়ামী লীগ আছে। ৪৮ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের সংখ্যাই অর্ধেকের বেশি।