ল’জ্জিত দিহানের প’রিবার, দেয়নি আ’ইনজীবীও

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 10, 2021 10:59:47 পূর্বাহ্ন
0
9146
ভিউ

সারাদেশঃ বড় ছে’লে আরিফ ইফতেখার সুপ্ত রাজশাহীতে ব্যবসা করেন। প’রিবার নিয়ে সেখানেই থাকেন তিনি। মেঝো ছেলে ঢাকাতেই একটি বেস’রকারি ব্যাংকে কাজ করেন। আর ছোট ছেলে এই দিহান। ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কু’ল থেকে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শেষ করে জিইডি’র প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। ক’রোনার প্র’কোপ শুরুর পর থেকে রাজশাহীতেই থাকেন আব্দুর রউফ। চার বেডরুমের এই বাসাতে দুই ছে’লেকে নিয়ে নিয়মিত থাকেন মা সানজিদা। দিহানকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল তাদের। ক’রোনা না হলে গত বছরই দেশের বাইরে চলে যেতো দুই ভাই। প’রিবারের পক্ষ থেকেও চলছিল এমন প্রস্তুতি।

ধ”ণে অ’ভিযুক্ত দিহানের প’রিবার বলছে, আইন আছে, মে’ডিকেলের পো’স্টম’র্টেম রি’পোর্ট আছে, যদি দিহান দো’ষ করে থাকে তার বি’চার হোক। সে যদি অ’পরাধী হয় তার ফাঁ’সি হোক, সেটা আমরাও চাই। আমরা ধ’রেই নিয়েছি সে অ’পরাধী, তাই আ’সামিপ’ক্ষ থেকে কোনও আ’ইনজীবীও রা’খিনি। আমরা আসলে ল’জ্জিত। ল’জ্জিত কারণ আমরা এ ঘটনার কিছুই জানি না।

দিহানের ভা’ই নিলয় স’রকার বলেন, ও যে মে’য়েটার স’ঙ্গে প্রে’ম করতো গত দুদিনে আমরা তার ব’ন্ধু-বা’ন্ধবীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। এর আগে শুধু জানতাম, ও প্রে’ম করে। তবে কার স’ঙ্গে করে সে বি’ষয়টা জানতাম না।

ঘটনার দিনের বর্ণনায় প’রিবার যা বলছে

দিহানের মেঝো ভা’ই নিলয় স’রকার বলেন, সকালে উঠে অফিসে চলে গিয়েছি। বগুড়াতে আমার নানা অ’সু’স্থ, মা সেদিন সকালে নানাকে দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। আমার এক চাচা আবার ওইদিনই মা’রা যান। রাজশাহীতে জা’নাজা হয়েছে। আমার বা’বা সেখানে ছিলেন। বাসা সেদিন একদম ফাঁ’কা ছিল। হঠাৎ দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে দিহান আমাকে ফোন দিয়ে কাঁ’দো কাঁ’দো স্বরে কথা বলে। জী’বনে ওকে আমি কখনও কা’ন্না করতে দেখিনি। ফোন দিয়ে বলে, ‘ভাইয়া বাসায় বা’ন্ধবীকে নিয়ে এসেছিলাম। অ’জ্ঞান হয়ে গেছে। হা’সপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি আসো, তুমি ছাড়া আমাকে কেউ বাঁ’চাতে পারবে না।’

দিহানের ভা’ই বলেন, আমি ভ’য় পেয়ে যাই। তখনই আমার ক’র্মস্থল থেকে বে’র হয়ে এসেছি। দিহান বারবার ফোন দিচ্ছে ‘ভাইয়া তুমি দ্রুত আসো।’ পরে দুপুর ১টা ৫০-এর দিকে আবার ফোন করে। তখন বলে, ‘ভাইয়া ও তো মা’রা গেছে’। তখন আমি বলি, ‘কে মা’রা গেল ঠিকঠাক মতো বলো’। দিহান বলে, ‘তুমি হা’সপাতালে চলে আসো দ্রুত।’

নিলয় বলেন, আমি আইন অনুযায়ী বি’চার চাই। আমরা যতটুকু মনে করি, এটা ধ”ণ না। যদি আমার ভাই ধ”ণ ক’রতো, সে কখনও আমাকে ডাকতো না।

দিহানের মা সানজিদা স’রকার বলেন, বি’চারে যদি প্রমাণ হয় দিহান আ’সামি, যা শা’স্তি হবে আমরা মে’নে নেবো। কিন্তু আ’পনারা আমাদের প’রিবারকে এভাবে অ’পমান করতে পারেন না। আমার নি’জের স’ম্পর্কেও অনেক পত্রপত্রিকা বা’জে ম’ন্তব্য করছে। এভাবে বলা ঠিক না। আমাদের স’ঙ্গে একটা মা’নুষ দেখা করতে আসেনি। আ’ত্মীয়স্বজনের স’ঙ্গে যোগাযোগ করার চে’ষ্টা করলে তারাও কথা বলছেন না। কেউ দেখাও করছে না। মিডিয়া আমাদের পুরো প’রিবারকে দো’ষ দিচ্ছে। এখানে আমাদের প’রিবার কিভাবে অ’পরাধ করলো?

ভি’কটিমের প’রিবার কী বলছে

ভি’কটিমের মা বলেন, আমার দুই মে’য়ে। বড় মেয়ে ধানমন্ডি মাস্টারমাইন্ড স্কু’লের ‘ও’লেভেলে পড়াশোনা করতো। তবে কোচিং করে লালমাটিয়াতে। সেদিন আমি সকালে অফিসে যাই। বেলা ১১টায় দিকে সে ফোন করে জানায়, কিছু নোট আনতে বাসার বাইরে যাবে। তারপর দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে আমার মে’য়ের ফোন থেকে একটা কল আসে। দিহান পরিচয় দিয়ে এক ছে’লে বলে, ‘আন্টি আপনার মে’য়ে অ’সু’স্থ হয়ে পড়েছে। তাকে হা’সপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। পরে হা’সপাতালে গিয়ে দেখি চার ছে’লে বসে আছে।’

নি’র্যা’তিত কি’শোরীর বাসার গার্ড সোলায়মান বলেন, ওইদিন আমার ডিউটি ছিল। ঠিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে মে’য়েটা বের হয়। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম বাহিরে। দেখি সে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাচ্ছে।

কি’শোরীর চাচাতো ভাই নাজমুল বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি কোচিংয়ের কারো মাধ্যমে পরিচয় হয়েছে ছে’লেটার স’ঙ্গে। পরে ফেসবুকে তাদের কথা হতো। তারপর স’ম্পর্ক। তবে মে’য়েটা ছো’ট তাকে ফুঁ’সলিয়ে বাড়িতে নিয়ে গেছে ছে’লেটা। আমরা এ ঘটনার সু’ষ্ঠু বি’চার চাই।