মায়ের র’ক্তের টাকা জোগাড় করতে সন্তান বিক্রি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 10, 2021 10:25:25 পূর্বাহ্ন
0
27
ভিউ

সারাদেশঃ হবিগঞ্জে মায়ের জন্য র’ক্তের টাকা জো’গাড় করতে ১৫ দিনের স’ন্তানকে মাত্র ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় সদর আধুনিক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এর পর রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশের হ’স্তক্ষে’পে শি’শুটি তার মা-বাবার কোল ফিরে পায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বা’নিয়াচং উপজে’লার ম’ন্দরি গ্রামের রহিম উদ্দিনের স্ত্রী আকলিমা বেগম ৮ জানুয়ারি অ’তিরিক্ত র’ক্তক্ষ’রণ সং’ক্রান্ত স’মস্যা নিয়ে সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন।

এ সময় চিকিৎসকরা জানান, পাঁচ ব্যাগ র’ক্তের প্রয়োজন। পরে ন’বজাতকের বাবা রহিম উদ্দিন টাকার অ’ভাবে র’ক্তের ব্যবস্থা করতে না পারায় স’ন্তান বিক্রির সি’দ্ধান্ত নেন। বি’ষয়টি জানতে পারেন একই ওয়ার্ডে রো’গী নিয়ে আসা নবীগঞ্জ উপজে’লার চ’রগাঁও গ্রামের আছকির মিয়া। এ সময় তিনি ন’বজাতক শি’শুটি কিনতে আগ্রহী হলে মাত্র ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে স’ন্তান বিক্রি করে দেন।

ন’বজাতকের বাবা রহিম উদ্দিন বলেন, ১৫ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী একটি মেয়েস’ন্তানের জন্ম দেন। এর আগেও তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রসবের সময় অ’তিরিক্ত র’ক্তক্ষ’রণ হলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। সম্প্রতি তার স্ত্রীর অ’বস্থার অ’বনতি হলে ৮ জানুয়ারি সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা জানান, তার স্ত্রী’র জন্য পাঁচ ব্যাগ র’ক্তের প্রয়োজন। কিন্তু টাকার অ’ভাবে র’ক্তের ব্য’বস্থা করতে না পারায় স্ত্রী’কে বাঁ’চাতে স’ন্তান বি’ক্রির সি’দ্ধান্ত নেন।

ন’বজাতকের মা আকলিমা বেগম বলেন, টাকার জন্য নিজের চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। মা-বাবা, ভাইবোনসহ আ’ত্মীয় স্ব’জনের কাছে ঘুরেও টাকার ব্য’বস্থা করতে পারিনি। যে কারণে স’ন্তান বি’ক্রি করতে বা’ধ্য হয়েছি। স’ন্তান কিনে নেয়া আছকির মিয়ার বোন শা’মসুন্নহার বেগম বলেন, আমার ভাই বিয়ে করেছেন ১৮ বছর আগে। কিন্তু তাদের কোনো স’ন্তান হয়নি। শনিবার হাসপাতালে এলে শুনি একটি বাচ্চা বি’ক্রি হবে। পরে আমার ভাই বাচ্চাটি কিনে নেয়।

বি’ষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিনে নেয়া দ’ম্পতির সঙ্গে যো’গাযোগ করে বাচ্চাকে ফি’রিয়ে আনেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় শি’শুটিকে তার মা-বাবার কাছে ফি’রিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের ত’ত্ত্বাবধায়ক হেলাল উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল থেকে দুই ব্যাগ র’ক্ত দেয়া হয়েছে। কিন্তু স’ন্তান বি’ক্রির বি’ষয়টি আমাদের জানা ছিল না।

জানার পর পুলিশের সহায়তায় শি’শুটিকে উ’দ্ধার করে তার মা-বাবার কাছে ফি’রিয়ে দেয়া হয়েছে। সদর থানার এসআই নাজমুল হক বলেন, যারা বাচ্চা কিনে ছিলেন তাদের স’ঙ্গে যো’গাযোগ করা হয়। এর পর আমরা বা’চ্চাকে তার মা-বাবার কোলে ফি’রিয়ে দিয়েছি।