বাংলাদেশে ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জে’লেরা! তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই শুঁটকিপল্লীর জে’লেদের

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 9, 2021 04:44:43 অপরাহ্ন
0
19
ভিউ

প্রায় ২০০বছরের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার শুঁটকি পল্লী। চাতালে মাছ নেই। ভারতীয় জে’লেরা বাংলাদেশের জলসীমায় অ’বৈধভাবে প্রবেশ করে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। মাছ না পেয়ে দুবলার জে’লেরা ফিরছে খালি হাতে। বিরাণ পড়ে আছে হাজার হাজার শুঁটকি তৈরির মাচান। কেনাবেচা কমে গেছে নিউ মার্কেটখ্যাত আলোর কোলের দোকানপাটেও। কর্মচঞ্চলতা নেই বঙ্গোপসাগরতীরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী শুটকি উৎপাদনকারী আলোর কোল, নারকেলবাড়িয়া, মাঝেরকিল্লা, মেহেরআলী ও শ্যালাসহ পাঁচটি চরে।

হতাশ পাঁচটি চরে শুটকি প্রক্রিয়ায় সরাসরি নিয়োজিত ও সংশ্লিষ্ট প্রায় ২০হাজার মানুষ। কোটি কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাঙ্খিত রাজস্ব আদায়েও ঘাটতির আ’শঙ্কা করছে বনবিভাগ। গত শুক্রবার ও শনিবার (১-২ জানুয়ারি) শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জে’লে পল্লী টহল ফাঁ’ড়ির আওতাধীন শুটকি উৎপাদনকারী কয়েকটি চর ঘুরে বনবিভাগ, ক্ষ’তিগ্রস্ত জে’লে-বহদ্দার, ব্যবাসয়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা এই তথ্য জানা গেছে।

দুবলার সর্ববৃহত শুটকি পল্লী আলোর কোলের শুটকি প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজে’লার প্রতাপনগর গ্রামের জে’লে আতিয়ার রহমান, হামিদ মোড়ল এবং বাগেরহাটের রামপাল উপজে’লার আক্কাস শেখ ও প্রদীপ মিস্ত্রি জানান, তারা প্রত্যেকে ১৫-২০বছর ধরে শুটকি শিল্পের সঙ্গে জ’ড়িত। কিন্তু এবারের মতো এতোটা কম মাছ আগে কখনো দেখেননি। আলোর কোল নিউমার্কে’টের মেসার্স হাবিব অ্যান্ড হবিবা স্টোরের মালিক মো. হাফিজুর রহমান জানান, তার দোকানে ডিজে’ল, আলকাতরা, প্লাস্টিক, ইলেট্রনিক্স সামগ্রী এবং চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল বিক্রি হয়।

অন্যান্য বছর মৌসুম শেষে তার ৪-৫লাখ টাকা লাভ থাকে। এ বছর জে’লে-মহাজনদের কাছে প্রায় ৪লাখ টাকা বাকি পড়েছে। সাগরে মাছ না পড়ায় বাকি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে না। মাঝের কিল্লার শুটবি ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের মো. জাহিদ বহদ্দার জানান, গতবছর মাঝের কিল্লা চরে চট্টগ্রামের সাতজন বহদ্দার ছিল। কিন্তু এবার এসেছে মাত্র দুজন। তিনি এবার এক কোটি ৩৫লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এ পর্যন্ত মাত্র ৩৫ থেকে ৪০লাখ টাকার শুটকি বিক্রি করেছেন। এখনো তার প্রায় এক কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।

জাহিদ বহদ্দার অ’ভিযোগ করে বলেন, এবছর সাগরে প্রাকৃতিকভাবেই মাছের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। তার ও’পর ভারতের জে’লেরা আমাদের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। শুটকি পল্লীর সবচেয়ে বড় কম্পানি ফিশারমেন গ্রুপের ম্যানেজার মো. ফরিদ আহম্মেদ জানান, ভারতের জে’লেরা আমাদের এক নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছাকাছি চলে আসে। যা দুবলার চর থেকে মাত্র ৫-৬ নটিক্যাল মাইল দূরে। তাদের ট্রলিংয়ে জিপিআরএস ও ফিশ ফাইন্ডার রয়েছে।

তা দিয়ে দিক নির্ণয় ও মাছের অবস্থান সনাক্ত করে ঘনো ফাঁ’সের নেট দিয়ে আমাদের দেশের মাছ ছেঁকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা লাক্ষা, ছু’রি, রূপচাঁ’দা, লইট্যাসহ দামি মাছ পাচ্ছি না। দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল আহমেদ বলেন, ভারতের জে’লেরা আমাদের সম্পদ লু’টে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে বহুবার অ’ভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এপর্যন্ত কোনো উদ্যোগ তারা নেয়নি।

দুবলা জে’লে পল্লী টহল ফাঁ’ড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, ভারতের বড় বড় ট্রলিংয়ে আমাদের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরার অ’ভিযোগ রয়েছে। গত চার গোনে (অমাবস্যা-পূর্ণিমার হিসাবে) জে’লেরা কোনো মাছ পায়নি। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্র পূরণ হবে না। পাশাপাশি জে’লে-মহাজনরাও চ’রম ক্ষ’তির মুখে পড়বে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্ম’দ বেলায়েত হোসেন বলেন, ভারতীয় জে’লেদের আমাদের জলসীমায় অ’বৈধভাবে মাছ ধরার বি’ষয়টি শুনেছি। এব্যাপারে কোস্টগার্ডকে অবহিত করার দুবলাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বনকর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা আবু মুসা (এবি) বলেন, এধরণের কোনো ঘটনা ঘটলে দুবলা কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা ব্যবস্থা গ্রহন করবে। সুত্রঃ কালের কণ্ঠ