বাবা-মা যখন টাকা বানানোর মেশিন, তখন সন্তান মানুষ হবে কিভাবে?

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 8, 2021 11:19:37 অপরাহ্ন
0
125
ভিউ

যারা কাল থেকে ধ”ণের এই সংবাদটি নিয়ে কিছু লিখতে বলছেন, তাদের বলি, কি হবে এসব নিয়ে কথা বলে? আমরাই কি দা’য়ী না সমাজের এসব অ’স্থিরতা তৈরির জন্য?

আমাদের সাধ্য যা, তারচেয়েও তিনগুন বেশী খরচ করছি বা’চ্চাদের পেছনে! ফলে বাবা-মা ছুটছেন টাকার পেছনে কেবল, টাকার মেশিন হয়ে গেলে বাবা-মা হওয়া যায়? ছে’লে-মে’য়েকে কেবল দেশের নামী এবং দামী স্কুলে পাঠালেই হবে, মা’নুষ বানানোর দা’য় নেই? একটা ছে’লে কিভাবে বেড়ে উঠছে, তার ম’নোজগতের সাথে মা’য়ের কোনো স’ম্পর্ক তৈরী হয়না! একজন শিক্ষিত মা জানেনই না, তার ছে’লে একজন পুরোপুরি ধ’র্ষ’ক হয়ে বেড়ে উ’ঠছে ঘরের ভেতরে বসেই! বা’বা-মা দুজনেই ছুটছেন হয় টাকা বানাতে অথবা টাকা খরচ করতে!

মা-স’ন্তানের ব’ন্ধন কি টাকা দিয়ে কেনা যায়? সেটা কিনতে হয় গুনগত সময় দিয়ে। লোকমা দিয়ে ভাত মুখে তুলে দেয়াকে কোয়ালিটেটিভ সময় বলে না! গুনগত সময় হলো, স’ন্তানের সাথে গল্প করা, তাদের গল্পগুলো শোনা, সারাদিন স্কুলে কি করলো, কার কার সাথে মিশে, ইত্যাদি গল্প করে জানা। তার মনোজগতে একটা মানবিক চৈতন্য গড়ে তোলা!

তাকে মে’য়েদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা, তাকে জীবনের গল্প বলা, নানা শ্রেণী-পেশার মা’নুষের জী’বন বো’ধকে কাছ থেকে দেখানো, তার মনোজগতের সাথে স’ম্পর্ক স্থাপন করা! বাবা’রা তো আরো দূরে, যেন টাকা উৎপাদন করাই তাদের জী’বনের একমাত্র লক্ষ্য! কেননা, প’রিবারের যে ব্যয় বেড়েছে, তা তাকেই উপার্জন করতে হবে! কেন, ব্যয়কে কি সংবরণ করা যায়না? আমাদের বা’বা মা’য়েরা এতো অল্প আয়ের মাঝে পারলে আমরা কেন পারবোনা?

শি’ক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন ফিস আর স্কুলের মোটা অংকের ফিস দিয়েই যদি স’ন্তান মা’নুষ হয়ে যেতো, তাহলে যারা আজ সমাজে আদর্শ মা’নুষ তাদের মা বাবার টাকার পাহাড় থাকতো, ব্র্যান্ডের গাড়ি থাকতো, বাড়ি থাকতো! তাদের কাছে এসবের মূল্য ছিলোনা, ছিল কেবল স’ন্তানের মূল্য! আর আজ আমরা এমন সমাজ তৈরী করেছি, যেখানে ভালো স’ন্তান তৈরী করার বদলে প্রতিদিন নতুন জামা, শাড়ি, ব্র্যান্ডের শার্ট, ঘড়ি, বাড়ি, গাড়ি, এসবই আমাদের মূল আগ্রহের জায়গা!

আমরা ছুটছি এসব বিলাস বহুল দ্রব্যের পেছনে, কে কত দেখাতে পারি!

আমরা ভাবছি, টাকা আয় করি আর ব্যয় করি, এতেই সকল সুখ! কিন্তু এই সুখ যে সুখ নয় একবার ঐশী বুঝিয়েছিল, আজ আবারও প্রমাণিত হলো! এর মাঝে অনেক ঘটনা ঘটেছে, সব হয়তো গণমাধ্যমে আসেও না। এইরকম আরো সংবাদ আসবে ঘরে ঘরে, যেভাবে মোবাইলে আ’সক্ত হচ্ছে আমাদের বা’চ্চারা! আরো কত আ’সক্তি তৈরী হবে বা’চ্চাদের ভেতরে খোঁজ পাবেন না এই মা বা’বারা তাদের টাকা বানানোর নে’শার ভিড়ে! এসব খবর আসতে বা’ধ্য করছেন বাবা মা’য়েরাই, যাদের কাছে ছে’লে-মে’য়ে কোন স্কুলে পড়ছে, কোন ব্র্যান্ডের গাড়ি, কাপড়, ঘড়ি কিনছে সেগুলোই স্ট্যাটাস সিম্বলের মূল ইন্ডিকেটর!

স’ন্তান যা চায়, তাই কিনে দেয়াটাকেই অনেক বা’বা মা মনে করেন এটাই আদর, ভালোবাসা! কি তুচ্ছ, কি কৌশলী, কি স্বার্থপর আমরা আজকাল! স’ন্তানের সাথেও করছি ব্যবসা! তাদেরকে গুনগত সময় দিচ্ছিনা, তাদের সাথে খেলিনা, হাসা-হাসি করিনা, মাসে একটা সিনেমা দেখিনা একসাথে বসে, একটা গল্পের বই নিয়ে আলাপ করিনা, তাদের সাথে আড্ডা দেইনা, বিনিময়ে টাকা বা পণ্য দিচ্ছি, কারণ আমরা তো টাকা উপার্জনে ব্যস্ত, টাকা বানানোর মেশিন হয়েছি! মা’নুষ হওয়া, মা’নবিক হওয়ার গল্প যাদের কানে কোনোদিন পৌঁছেনি, তারা কি করে মানবিক হবে!!? সেটা আমরা আশা করি কিভাবে?

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)