জুম্মার নামাজ চলাকালেই মসজিদের ভেতর আওয়ামী লীগ নেতার ছে’লের তা’ণ্ডব

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 8, 2021 10:57:33 অপরাহ্ন
0
143
ভিউ

সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পাইনাদী কবরস্থান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ও’পর হা’মলা চা’লিয়েছে ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমানের ছে’লে মাহফুজুর রহমান পাপ্পু, মাহবুব, মাহমুদ ভাতিজা জাহাঙ্গীর, বাদল মেম্বার, নাতি মুন্না ও টাইগার ফারুকের পালিত স’ন্ত্রাসী বা’হিনীরা। এ সময় মুজিবুর রহমান ম’সজিদের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জুম্মা নামাজ চলাকালীন সময়ে মসজিদের ভিতরেই এ ঘটনাটি ঘটে।

ওই সময় মসজিদের ভিতর মুসল্লিদের মধ্যে আ’তঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন মুসল্লিদের অনেকেই আত্মরক্ষা করতে দৌড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। তবে মসজিদের ইমাম অত্যন্ত দক্ষ’তার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় মুসল্লিরাসহ এলাকাবাসী মসজিদের ইমামকে সাধুবাদ জানালেও ধিক্কার জানান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ও তার সব ছেলেদের। এবং স’ন্ত্রাসী টাইগার ফারুকের স’ন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মসজিদের ভিতরেও চলে আসায় এ ঘটনার প্রকৃত বিচার দাবি করে এলাকাবাসী।

মুসল্লিরা জানান, খুতবার আগে মসজিদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান। এ সময় তিনি মসজিদের উন্নয়ণ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজ হোসেন (মজু) সভাপতির বক্তব্য শেষে বক্তব্য দেবেন বলে জানান।

এ সময় মসজিদের পেছনের কাতারে থাকা সভাপতির ছেলে পাপ্পু সাধারণ সম্পাদক মজুকে হু’মকি দিয়ে বলে এখানে তোর কোনো কথা চলবে না। এ কথা বলেই দৌড়ে এসে তাকে মা’রধর শুরু করে। একপর্যায়ে মজিবুর রহমানের অপর দুই ছেলে মাহবুব, মাহমুদ ভাতিজা জাহাঙ্গীর, বাদল মেম্বার, নাতি মুন্না ও টাইগার ফারুকের স’ন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরাও যোগ দিয়ে মজুকে মা’রধর করে।

এ বি’ষয়ে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ হোসেন মজু বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ছেলে, ভাতিজা ও মা’দক ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমার ও’পরে হা’মলা চা’লায়। মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি জেনারেটর ক্রয়ের জন্য মুসল্লিদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা তোলা হয়। কিন্তু মসজিদ কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান অনুমতি না দেওয়ায় কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ছাড়া আরো সভাপতি অনুমতি না দেওয়ার কারণে আরো কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। অথচ বার বার উনাকে জানানোর পরেও তিনি মুসল্লিদের বলেন, এসব বি’ষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এই বি’ষয়গুলো নিয়ে মুসল্লিদের সাথে বিভিন্ন সময় কমিটির লোকজনদের ভু’ল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। আমি প্রকৃত ঘটনাটি সভাপতির বক্তব্যের পর বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে কথা বলতে সুযোগ না দিয়ে উল্টো মসজিদের ভেতরেই হা’মলা চা’লিয়ে মজিবুর রহমানের তিন ছেলে, ভাতিজা ও মা’দক কারবারিরা আমাকে মা’রধর করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান মসজিদের ভিতরে মা’রামারির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাকে মজু ও তার পরিবারের লোকজন চোর বলায় এ বি’ষয়টি আমি মসজিদে উপস্থাপন করলে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। মজু তার লোকজন নিয়ে এ হা’মলার ঘটনাটি ঘটায়।

এ বি’ষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতে থানায় যাবেন। আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

এ দিকে একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের মে মাসে মসজিদ কমপ্লেক্স পরিচালনার ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করার ৫ বছর অতিবাহিত হলেও র’হস্যজনক কারণে এ কমিটি পূর্নগঠিত হয়নি। থানা আওয়ামী লীগ সভাপতির একক আধিপত্যে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। জররি ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজগুলো সম্পন্ন করা হলে রোষানলে পড়তে হয় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ক্যাশিয়ার ও মোতওয়াল্লীকে। সভাপতির অনুমতি ছাড়া কোন কাজ করা হলে সভাপতি তাদের সাথে অশালীন আচরণ করে থাকেন। তাদের এই মতভেদের কারণে মসজিদ কমপ্লেক্সে উন্নয়ণে বা’ধাগ্রস্থ হচ্ছে।

মুসল্লিদের দাবি, ধর্মীয় এই উপাসনালয় নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি ও দলাদলী বন্ধ করে নিস্বার্থভাবে এর সকল উন্নয়ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ