চে’তনানা’শক ও’ষুধ খাইয়ে আনুশকাকে ধ”ণ: জি’জ্ঞাসাবাদে দিহান

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জানুয়ারী 8, 2021 05:43:41 অপরাহ্ন
0
428
ভিউ

হ’’ত্যার আগে ধ”ণের শি’কার হন রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিন (১৭)। এ ঘটনার প্রধান অ’ভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখার দিহান (১৮) তাকে ধ”ণের কথা স্বীকার করেছে। সেই সঙ্গে জানিয়েছে, ধ”ণের পরিকল্পনা থেকেই ডাকা হয় ওই শিক্ষার্থীকে। ধ”ণ ও হ’’ত্যায় জ’ড়িত সবাইকে গ্রে’প্তার ও ক’ঠোর শা’স্তির দাবি জানিয়েছেন নি’হতের স্বজন ও বন্ধুরা। কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক (ত’দন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, ধ”ণের মূল নায়ক ফারদিন ইফতেখার দিহান।

আ’টকের পর বৃহস্পতিবার রাতে ধ”ণ ও হ’’ত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার শি’কার করেছে সে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বৃহস্পতিবার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অবচেতন ছিলেন আনুশকা। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের যে বাসাতে ধ”ণের শি’কার হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী, সেখানেই তার মৃ’ত্যু হয়ে থাকতে পারে।

জি’জ্ঞাসাবাদে দিহান পুলিশকে জানায়, ধ”ণের পরিকল্পনা আগেই করা ছিলো। বন্ধু হলেও দুজনের প্রেমের সম্পর্ক বেশিদিন হয়নি। মাত্র তিন মাস হলো উভ’য়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়েছে। গ্রুপ স্টাডির নাম করে আনুশকাকে ফোন করে কলাবাগান লেক সার্কাসের একটি বাসায় ডেকে নেয় দিহান। দুপুর ১২ টা থেকে একটার মধ্যে জো’রপূর্বক আনুশকাকে ধ”ণ করে দিহান। দুপুর একটার দিকে আনুশকার র’ক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে অ’চেতন হয়ে পড়ে। এরপর তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ধ”ণকারী একজন নাকি চারজন জানতে চাইলে কলাবাগান থানা পুলিশ জানিয়েছে, দিহান জানিয়েছে সে একাই ধ”ণ করেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে খবর পেয়ে বাকিরা এসেছে। পুলিশ দিহানকে গ্রে’প্তার দেখিয়েছে। বাকি তিনজনকে থানায় রেখে জি’জ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনুশকাকে কোক জাতীয় পানীয়ের সঙ্গে অ’চেতন করার ও’ষুধ খাওয়ানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে দিহান। ম’য়নাত’দন্তের পর এ বি’ষয়ে জানা যাবে।

আনুশকার ম’রদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ম’র্গে রয়েছে। ম’য়নাত’দন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। রাজধানীর সোবহানবাগে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতো আনুশকা নূর আমিন। কোচিংয়ের নোট আনতে যাওয়ার কথা বলে কলাবাগানে বন্ধু ইফতেখার ফারদিন দিহানের বাসায় যায়। বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল থেকে নি’হত ওই স্কুলছাত্রীর ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পুলিশ।

সেখানকার চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, আমাদের মেয়েকে ডেকে নিয়ে ধ”ণের পর হ’’ত্যা করা হয়েছে। তার মাত্রাতিরিক্ত র’ক্তক্ষণের ও শরীরে আ’ঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নি’হতের মা অ’ভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে কৌশলে বাসায় নিয়ে ওই দিহানসহ চারজন মিলে ধ”ণ করেছে। হয়তো বা’ধা দেওয়ায় তাকে নি’র্মমভাবে হ’’ত্যা করা হয়েছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই স্কুলছাত্রীকে নিয়ে আসে তিন-চার জন।

ডাক্তার তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। স্কুলছাত্রীর সঙ্গীরা দাবি করে, জন্ম’দিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে অ’সুস্থ হয়ে সে মা’রা গেছে। তবে মেয়েটির বাবা অ’ভিযোগ করেছেন, তাকে পান্থপথের ডলফিন গলির একটি বাসায় ডেকে নিয়ে ধ”ণের পর হ’’ত্যা করা হয়েছে। তিনি ইফতেখার ফারদিন দিহানকে একমাত্র আ’সামি করে ধ”ণের পর হ’’ত্যার অ’ভিযোগে নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দ’মন আইনের ৯ এর ২ ধারায় বৃহস্পতিবার রাতে মা’মলা দা’য়ের করেন।

শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার নিজের সোবহানবাগের বাসা থেকে কলাবাগানে বন্ধু দিহানের বাসায় যায়। সেখানে যাওয়ার পর আমরা জেনেছি, স্কুলছাত্রীটি অ’সুস্থ হয়ে পড়ে। তার বন্ধুর ভাষ্যমতে, এরপর তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করার আগেই স্কুলছাত্রীকে মৃ’ত বলে ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে লা’শ উ’দ্ধারসহ দিহানকে নামের ওই ছেলেটিকে আ’টক করি। এরপর তাকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্মতির ভিত্তিতে শা’রীরিক মেলামেশা হয়। এরপর ওভার ব্লিডিং হয়, এ কারণে স্কুলছাত্রীটি সেন্সলেস হয়ে যায়। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃ’ত্যু হয়। তবে দৈহিক মেলামেশার বি’ষয়টি পরীক্ষা-নীরিক্ষা সাপেক্ষে প্রমাণের বি’ষয়।

এর বাইরে অন্য কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিলো কি-না, সেটি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিসি বলেন, এ ঘটনায় ভি’কটিমের বাবা আল আমিন বা’দী হয়ে একটি মা’মলা দা’য়ের করেছেন। সেখানে দিহান নামের ওই একজনই আ’সামি, তাকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরকে বিনীত অনুরোধ করতে চাই, ভি’কটিমের পরিবার বুঝে-শুনে মা’মলা করেছে।

এরপরেও এর সঙ্গে কেউ জ’ড়িত থাকলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জ’ড়িত কিংবা অন্য কোন ইন্ধন থাকলে সেটা আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে ত’দন্তসাপেক্ষে জ’ড়িতদের ক’ঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করবো। তাই সকলকে একটিকে অন্যখাতে প্রবাহিত না করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। মা’মলায় বা’দীর অ’ভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বা’দী বলেছেন, আমার মেয়েকে তার বাসায় নিয়ে ধ”ণ করে হ’’ত্যা করা হয়েছে।

এটা তাদের দাবি। ধ”ণ হয়েছে কি-না ত’দন্তের ব্যাপার, পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া, ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ম’য়নাত’দন্তের চিকিৎসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ধ”ণ হয়েছে কি-না বা অন্যকোন ও’ষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে কি-না পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যাবে। বাসায় ডেকে নেওয়ার বি’ষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ডেকে নেওয়া হয়েছে কি-না মা’মলাতেও উল্লেখ নেই বা তার বন্ধুও স্বীকার করেনি। দিহানের বাবা রাজশাহীতে চাকরি করেন ও ভাই নারায়ণগঞ্জে চাকরি করেন।

কলাবাগানের ওই বাসায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন দিহান। গতকাল সকালে তার মা বগুড়া যান। আমরা অনুমান করছি, বাসা ফাঁকা থাকায় আনুশকাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিলো। দিহানের তিন বন্ধুকে আ’টকের বি’ষয়ে নিউমার্কেট অঞ্চল পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান বলেন, বাকি তিন জনকে জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তাদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলো আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি। তাদের কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও মা’মলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মা’মলার এজাহারে মৃ’ত ছাত্রীর বাবা অ’ভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় আমার স্ত্রী অফিসের জন্য এবং আমি সকাল সাড়ে ৯ টায় ব্যবসায়ীক কাজে বের হয়ে যাই। পরে আনুশকা সকাল সাড়ে ১১ টায় আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিং এর পেপার্স আনতে বাহিরে যাচ্ছে। এই কথা বলে সে সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বেলা ১টা ১৮ মিনিটে ইফতেখার ফারদিন দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আনুশকা তার বাসায় গিয়েছিল, আনুশকা সেখানে হঠাৎ অ’চেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করিয়েছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী বেলা ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে আমার স্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারে আনুশকাকে ধ”ণের পর হ’’ত্যা করা হয়েছে।

তিনি এজাহারে আরও অ’ভিযোগ করেন, আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি দিহান আমার মেয়েকে প্রেমের প্রলুব্ধে ধ”ণের উদ্দ্যেশ্যে তার বাসায় বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দিহান ফাঁকা বাসায় আমার মেয়েকে একা পেয়ে ধ”ণ করে। ধ”ণের সময় অ’মানবিক কার্যকলাপ করায় আনুশকার গোপাঙ্গ দিয়ে প্রচুর র’ক্তক্ষরণ হয়ে অ’চেতন হয়ে যায়। পরে ধ”ণের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিহান চালাকি করে আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়ে মৃ’ত ঘোষণা করেন। সুত্রঃ পূর্ব পশ্চিম