রুপ রহস্যে ভরা গাজীপুর-নরসিংদীর ধাঁধার চর!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : মে ২৮, ২০১৯ ০২:২২:৪৩ অপরাহ্ন
0
1109
views

সুমন শুভ: নরসিংদী ও গাজীপুরের সীমানায় জেগে ওঠেছে মনোলোভা ধাঁধার চর! শীতলক্ষ্যা নদীর বুকে বিন্দু বিন্দু বালি জমে জেগে ওঠেছে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের ঐতিহাসিক মনোলোভা চর তার নাম ‘ধাঁধার চর’। এ যেন আসলেই ধাঁধায় ঘেরা রহস্যময় একটি স্থান।

PUB

বাংলাদেশর দীর্ঘতম নদী ব্রহ্মপুত্র এই নদীর শাখা হল শীতলক্ষ্যা নদী। আর এই নদীতে জেগে ওঠেছে ধাঁধার চর, অনেকে এটিকে মাঝের চর বলেও চিনে। চরের দু’পাশে দুই জেলা নরসিংদী ও গাজীপুর। এই চরের ইতিহাস থেকে জানা যায়, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাত-আট কিলোমিটার পূর্ব দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে কাপাসিয়া উপজেলা শহরের মধ্য দিয়ে কালীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদরের ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হয়েছে। এখানেই রয়েছে নৌকা আকৃতির এক বিশাল চর, নাম ধাঁধার চর।

এ চরটি লাখপুর, তারাগঞ্জ, রানীগঞ্জ ও চরসিন্দুরের মাঝখানে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় আড়াইশ’ একর। চরের উত্তর-দক্ষিণে শীতলক্ষ্যা নদী, পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ। দু’দিকে দুই থানা কাপাসিয়া ও শিবপুর। চরটি লম্বায় ৪ কিলোমিটার, চওড়ায় বর্ষায় আধা কিলোমিটার। শীতকালে আরও বিস্তৃত হয়।

আনুমানিক ২০০ বছর আগে জেগে ওঠা এই চর স্থানীয়রা কেউ কেউ বলেন মাঝের চর। কারণ এটি ব্রহ্মপুত্র নদ ও শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত।


একসময় এই চরের নাম-নিশানা ছিলনা, ছিল বহমান নদী। তারপর আস্তে আস্তে বিন্দু বিন্দু বালুকণা জমতে জমতে বেলেমাটিতে পূর্ণ হয়ে একসময় যখন চর জেগে ওঠে, তখন স্থানীয় লোকজন এটি দেখে ধাঁধায় পড়ে যান, কারন এই চরের দুই পাশের পানীর রংও দুই রকমের। সেই থেকে এর নাম ধাঁধার চর।

এ চরের ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম নয়। জেগে ওঠা চরের মালিকানা নিয়ে ভাওয়ালের রাজা এবং বারভূঁইয়াদের এক ভূঁইয়া মহেষ উদ্দীনের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শেষে মালিকানা পেয়ে যান ভাওয়ালের রাজা। তারপর স্থানীয় হিন্দু কৃষকরা ভাওয়ালের রাজাকে খাজনা দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন।

১৮১৬-১৮১৯ সালে ব্রিটিশরা এর জরিপ করে এবং খাজনা প্রদানের মাধ্যমে হিন্দু কৃষকদের বৈধ মালিকানা প্রদান করেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের পর হিন্দুরা চরের জমি স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে ভারতে পাড়ি জমান।

বর্তমানে পুরো চরের মালিকানা মুসলিম কৃষকদের হাতে ১৯৬০, ১৯৮৮, ১৯৯৮ সালের বন্যায় এ চরটি তলিয়ে যায়। বন্যা শেষে পানি নেমে গেলে মাঠির উর্বরাশক্তি বেড়ে যায়। এখানে একসময় প্রচুর আখের চাষাবাদ হতো। এখন অন্যান্য ফসলের চেয়ে আলু চাষাবাদ হয় বেশি।

সরেজমিনে দেখার জন্য এই চরের কাছাকাছি যখন চলে আসি তখন মুগ্ধ হয়েছি আমিও। আপনিও সময় পেলে নিশ্চই ঘুরে আসতে পারেন এ ধাঁধার চরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here