৪ মাসে ঝরেছে ১৫৫২ প্রাণ!কোথায় গেল নিরাপদ সড়ক আইন?

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : মে ১৪, ২০১৯ ১১:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন
0
89
views

স্বাধীন নিউজ ডেস্কঃ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত তিন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে। ওভারস্পিড, ওভারটেকিং, যান্ত্রিক ও রাস্তার ত্রুটি। সমস্যা যাই হোক সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস না পাওয়ার পেছনে রয়েছে নানা কারণ।

PUB

চালকদের লাইসেন্স প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে যানবাহনের ফিটনেস সনদ, গাড়ির অনুমোদন, সড়কের ত্রুটি, সঠিক তদারকির অভাবসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে গলদ। দুর্ঘটনা রোধে সরকারীভাবে নেয়া সিদ্ধাসমূহও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। এক্ষেত্রে রয়েছে সমন্বয় ও পরিকল্পনার অভাব।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৫৫২ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৯৫ জন নারী ও ২৬৮ জন শিশু।

গত শনিবার বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি জানায়, জাতীয় মহাসড়ক, আন্তঃজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৪৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৩ হাজার ৩৯ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটি ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে।

তাদের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জন নিহত এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশুসহ ৪২৫ জন নিহত ও ৮৮৪ জন আহত হয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে এবং এপ্রিলে ৩২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশুসহ ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার দে বলেন, তারা তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব সড়ক দুর্ঘটনার ১০টি কারণ চিহ্নিত করেছেন।

যার মধ্যে রয়েছে- চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দৈনিক-চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা সহকারীদের কাছে গাড়ি ভাড়া দেওয়া, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।

বুয়েটের এ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, সড়কগুলোতে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে তাতে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসাবধানতার কারণেই এই দুর্ঘটনাগুলো হয়। বুয়েটের দুর্ঘটনা অনুষদের তথ্যমতে দুর্ঘটনায় নিহতের ৫৪ শতাংশই পথচারী। এদের ১৩ শতাংশ যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১২ শতাংশ পেছন থেকে গাড়ির আঘাতে এবং ৯ শতাংশ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে মারা যান।। এস/কে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here